- আবহবিকার ও মৃত্তিকা ক্ষয়: Class 9 Geography Chapter 5 Notes (WBBSE)
আবহবিকার: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো
নবম শ্রেণী | ভূগোল প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান - ১)
(ক) নদীর কাজ (খ) বায়ুর কাজ (গ) হিমবাহের কাজ (ঘ) আবহবিকার
উত্তর: (ঘ) আবহবিকার
(ক) অবঘর্ষ (খ) অভিকর্ষ (গ) ক্ষয় (ঘ) ধস
উত্তর: (খ) অভিকর্ষ
(ক) ক্ষয়ীভবন (খ) আবহবিকার (গ) পুঞ্জিত ক্ষয় (ঘ) সঞ্চয়
উত্তর: (গ) পুঞ্জিত ক্ষয়
(ক) বাড়ে (খ) কমে (গ) একই থাকে (ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (ক) বাড়ে
(ক) ক্ষয়ীভবন (খ) সঞ্চয় (গ) দ্রবণ (ঘ) পুঞ্জিত ক্ষয়
উত্তর: (ঘ) পুঞ্জিত ক্ষয়
(ক) আবহবিকার (খ) ক্ষয়ীভবন (গ) পুঞ্জিত ক্ষয় (ঘ) উল্লিখিত তিনটি কারণেই
উত্তর: (ঘ) উল্লিখিত তিনটি কারণেই
(ক) খুলে আসে (খ) ভেঙে গুঁড়ো হয় (গ) দ্রবীভূত হয় (ঘ) পিঁয়াজের খোসার মতো খুলে যায়
উত্তর: (ক) খুলে আসে
(ক) প্রস্তর-চাঁই খণ্ডীকরণ (খ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (গ) শল্কমোচন (ঘ) তুষারের কার্য
উত্তর: (গ) শল্কমোচন
(ক) শল্কমোচন (খ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (গ) প্রস্তর-চাঁই খণ্ডীকরণ (ঘ) তুষারের কার্য
উত্তর: (খ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ
(ক) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (খ) তুষারের কার্য (গ) জারণ (ঘ) অঙ্গারযোজন
উত্তর: (ক) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ
(ক) শল্কমোচন (খ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ (গ) প্রস্তর-চাঁই খণ্ডীকরণ (ঘ) তুষারের কার্য
উত্তর: (ক) শল্কমোচন
(ক) তুষারের কার্য (খ) জারণ (গ) শল্কমোচন (ঘ) জলযোজন
উত্তর: (ক) তুষারের কার্য
(ক) জারণ (খ) জলযোজন (গ) আর্দ্রবিশ্লেষণ (ঘ) অঙ্গারযোজন
উত্তর: (ঘ) অঙ্গারযোজন
(ক) অঙ্গারযোজন (খ) জারণ (গ) জলযোজন (ঘ) আর্দ্রবিশ্লেষণ
উত্তর: (গ) জলযোজন
(ক) সিলিকা (খ) কোয়ার্টজ (গ) ফেলস্পার (ঘ) লোহা
উত্তর: (ঘ) লোহা
(ক) নিরক্ষীয় (খ) উষ্ণ মরু (গ) নাতিশীতোয় মরু (ঘ) মেরু জলবায়ুতে
উত্তর: (ক) নিরক্ষীয়
(ক) যান্ত্রিক (খ) রাসায়নিক (গ) জৈব (ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (ক) যান্ত্রিক
(ক) সোলাম (খ) মৃত্তিকা (গ) রেগোলিথ (ঘ) স্ট্যালাকটাইট
উত্তর: (গ) রেগোলিথ
(ক) A (খ) B (গ) C (ঘ) D
উত্তর: (ক) A
(ক) ক্রান্তীয় (খ) নাতিশীতোষ (গ) মেরু (ঘ) মরু জলবায়ুতে
উত্তর: (ক) ক্রান্তীয়
(ক) শিট ক্ষয় (খ) জলনালিকা ক্ষয় (গ) খোয়াই ক্ষয় (ঘ) র্যাভাইন ক্ষয়
উত্তর: (ক) শিট ক্ষয়
(ক) শল্কমোচন (খ) পিণ্ডবিশরণ (গ) তুষারের কার্য (ঘ) অঙ্গারযোজন
উত্তর: (গ) তুষারের কার্য
(ক) হিউমিফিকেশন (খ) খনিজকরণ (গ) ইলুভিয়েশন (ঘ) এলুভিয়েশন
উত্তর: (ঘ) এলুভিয়েশন
সত্য না মিথ্যা: ঠিক অথবা ভুল লেখো
নবম শ্রেণী | ভূগোল: আবহবিকার অধ্যায়
১। আবহবিকার একটি গতিশীল প্রক্রিয়া।
উত্তর: ভুল (আবহবিকার একটি স্থিতিশীল প্রক্রিয়া)।
২। নদীর ক্ষয় একটি ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া।
উত্তর: ঠিক।
৩। পুঞ্জিত ক্ষয় একটি ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়া।
উত্তর: ভুল (এটি আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মধ্যবর্তী পর্যায়)।
৪। আবহবিকারগ্রস্ত পদার্থ জলের মাধ্যমে অপসারণ হল পুঞ্জিত ক্ষয়।
উত্তর: ভুল (অভিকর্ষজ টানে নেমে আসাকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলে)।
৫। পুঞ্জিত ক্ষয় ক্ষয়ীভবনের মাত্রা বাড়ায়।
উত্তর: ঠিক।
৬। হিমালয় অঞ্চলে বর্ষাকালে ধস বেশি নামে।
উত্তর: ঠিক।
৭। আবহবিকার হল একটি নগ্নীভবন প্রক্রিয়ার অংশ।
উত্তর: ঠিক।
৮। অতি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে তুষারের কার্যে যান্ত্রিক আবহবিকার ঘটে।
উত্তর: ঠিক।
৯। অতিশীতল জলবায়ুতে রাসায়নিক আবহবিকারের মাত্রা খুব বেশি।
উত্তর: ভুল (উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে এটি বেশি হয়)।
১০। মানুষ খুব দ্রুতহারে শিলার আবহবিকার ঘটায়।
উত্তর: ঠিক।
১১। অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবে শিলায় রাসায়নিক আবহবিকার ঘটে।
উত্তর: ঠিক।
১২। মৃত্তিকা উৎপত্তির প্রাথমিক পর্যায়ে রেগোলিথ সৃষ্টি হয়।
উত্তর: ঠিক।
১৩। ইলুভিয়েশন প্রক্রিয়া মৃত্তিকার ‘A’ স্তরে কার্যকর হয়।
উত্তর: ভুল (এটি 'B' স্তরে ঘটে, 'A' স্তরে এলুভিয়েশন হয়)।
১৪। বৃক্ষচ্ছেদন মৃত্তিকা ক্ষয়ের অন্যতম কারণ।
উত্তর: ঠিক।
১৫। স্ট্যালাকটাইট ব্যাসল্ট গঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ।
উত্তর: ভুল (এটি চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ)।
উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো
নবম শ্রেণী | ভূগোল: আবহবিকার ও মৃত্তিকা
১। ক্ষয়ীভবনের সঙ্গে পরিবহণ শব্দটি অত্যন্ত জড়িত।
২। আবহবিকার একটি স্থিতিশীল প্রক্রিয়া, কিন্তু ক্ষয়ীভবন গতিশীল প্রক্রিয়া।
৩। পর্বতের পাদদেশে শিলাখণ্ড গঠিত ভূমিরূপ হল স্ক্রি বা টলাস।
৪। শিলা আওয়াজ করে কেটে ক্ষুদ্রক্ষুদ্র খণ্ডে পরিণত হয় যান্ত্রিক আবহবিকারের ক্ষুদ্রকণা বিশরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
৫। Onion Weathering প্রক্রিয়াকে আমরা শল্কমোচন প্রক্রিয়া বলে জানি।
৬। কার্স্ট অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকারের অঙ্গারযোজন (Carbonation) প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি ঘটে।
৭। অঙ্গারযোজন প্রক্রিয়ায় ক্যালশিয়াম কার্বনেট ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেট-এ পরিণত হয়।
৮। রাসায়নিক আবহবিকারের জারণ (Oxidation) প্রক্রিয়ায় শিলায় মরচে পড়ে।
৯। অঙ্গারযোজনের মাধ্যমে চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলের মৃত্তিকা হল টেরা রোসা।
১০। মৃত্তিকা সৃষ্টির মূল উপাদান হল রেগোলিথ (বা আদি শিলা)।
১১। মৃত্তিকার সূক্ষ্ম ফাঁক দিয়ে নীচের জল উপরে উঠে আসার প্রক্রিয়া হল কৈশিক প্রক্রিয়া।
১২। হিউমিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জৈব পদার্থ হিউমাসে পরিণত হয়।
১৩। বছরের পর বছর জমিতে একই ফসলের চাষ না করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিভিন্ন ফসলের চাষ হল শস্যাবর্তন।
১৪। ইলুভিয়েশন প্রক্রিয়ায় পদার্থ A স্তর থেকে B স্তরে সঞ্চিত হয়।
১৫। 'Soil' শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Solum (সোলাম) থেকে।
বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভ মেলাও
নবম শ্রেণী | ভূগোল: আবহবিকার (প্রশ্নমান - ১)
| স্তম্ভ ‘ক’ | স্তম্ভ 'খ’ |
|---|---|
| ১। ফাটল বরাবর শিলাখণ্ড খুলে আসা | (ঘ) পিণ্ডবিশরণ |
| ২। পিঁয়াজের খোসার মতো শিলা খুলে যাওয়া | (গ) শল্কমোচন |
| ৩। পিস্তল থেকে গুলি ছোড়ার মতো আওয়াজ | (খ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ |
| ৪। জল বরফ হলে চাপ সৃষ্টি | (ক) তুষারের কার্য |
| ৫। অ্যানহাইড্রাইট থেকে জিপসাম | (চ) জলযোজন |
| ৬। চুনাপাথর থেকে ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেট | (ঙ) অঙ্গারযোজন |
সঠিক উত্তরমালা (একনজরে):
১ - (ঘ), ২ - (গ), ৩ - (খ), ৪ - (ক), ৫ - (চ), ৬ - (ঙ)
ভূগোল এক কথায় উত্তর (SAQ)
নবম শ্রেণী | অধ্যায়: আবহবিকার ও মৃত্তিকা
১। প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে পদার্থের অপসারণ কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ ক্ষয়ীভবন।
২। পুঞ্জিত ক্ষয়ে কোন্ শক্তি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরঃ অভিকর্ষজ শক্তি।
৩। কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে নগ্নীভবনের হার সবচেয়ে কম?
উত্তরঃ মেরু বা অতি শীতল জলবায়ু অঞ্চলে।
৪। স্ট্যালাকটাইট কোন্ রাসায়নিক আবহবিকারের প্রক্রিয়ার ফল?
উত্তরঃ অঙ্গারযোজন (Carbonation)।
৫। কার্স্ট অঞ্চল প্রধানত কোন্ শিলা দ্বারা গঠিত?
উত্তরঃ চুনাপাথর।
৬। চুনাপাথর গুহার মেঝেতে সঞ্চিত ক্যালসাইট কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ স্ট্যালাগামাইট।
৭। কোন্ দুটি মৃত্তিকা স্তরকে একত্রে সোলাম বলে?
উত্তরঃ A ও B স্তরকে।
৮। মানুষের কোন্ কাজে মৃত্তিকা ক্ষয় দ্রুত হারে বেড়েছে?
উত্তরঃ নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন ও অবৈজ্ঞানিক চাষবাস।
৯। পাহাড় ও পর্বতের ঢালে বড়ো বড়ো গর্ত তৈরির মূল উদ্দেশ্যটি কী?
উত্তরঃ মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ এবং বৃষ্টির জল ধরে রাখা।
১০। জারণ কোন্ ধরনের আবহবিকারের প্রক্রিয়া?
উত্তরঃ রাসায়নিক আবহবিকার।
১১। কোন্ শিলায় ক্ষুদ্রকণা বিশরণ প্রক্রিয়া ঘটে?
উত্তরঃ বিষমজাতীয় বা বহু খনিজ যুক্ত শিলায়।
১২। ধাপ চাষ ও ফালি চাষের মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তরঃ মৃত্তিকা সংরক্ষণ (বা ভূমিক্ষয় রোধ)।
১৩। গ্রানাইট শিলা পিঁয়াজের খোসার ন্যায় খুলে যাওয়া কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ শল্কমোচন।
১৪। কোন্ রাসায়নিক আবহবিকার প্রক্রিয়ায় অ্যানহাইড্রাইট জিপসামে পরিণত হয়?
উত্তরঃ জলযোজন (Hydration)।
১৫। চুনাপাথর গঠিত অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ কার্স্ট (Karst) অঞ্চল।
ভূগোল সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান - ২)
অধ্যায়: আবহবিকার ও মৃত্তিকা
১। আবহবিকার কী?
উত্তরঃ আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান (উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি) ও জৈবিক কার্যাবলীর প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠের শিলাস্তর যখন স্বস্থানে চূর্ণ-বিচূর্ণ বা বিয়োজিত হয়, তখন তাকে আবহবিকার বলে।
২। পুঞ্জিত ক্ষয় কী?
উত্তরঃ আবহবিকারগ্রস্ত শিথিল শিলাখণ্ড বা মৃত্তিকা যখন অভিকর্ষজ টানের প্রভাবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে আসে, তখন তাকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলে।
৩। ধস কী?
উত্তরঃ পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত আলগা শিলা বা মাটির স্তর যখন আকস্মিকভাবে বা দ্রুতবেগে নিচের দিকে পড়ে যায়, তখন তাকে ধস (Landslide) বলে। এটি একটি দ্রুত পুঞ্জিত ক্ষয়।
৪। নগ্নীভবনের সূত্রটি কী?
উত্তরঃ নগ্নীভবনের গাণিতিক সূত্রটি হলো: আবহবিকার + পুঞ্জিত ক্ষয় + ক্ষয়ীভবন = নগ্নীভবন। অর্থাৎ, এই তিনটি প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাবেই শিলার উপরিভাগ উন্মোচিত হয়।
৫। জারণ কাকে বলে?
উত্তরঃ শিলা মধ্যস্থ খনিজের সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটার প্রক্রিয়াকে জারণ বা অক্সিডেশন বলে। এর ফলে শিলা দুর্বল হয়ে ভেঙে যায়।
৬। শিলায় কী কারণে মরচে পড়ে?
উত্তরঃ শিলা মধ্যস্থ লোহার খনিজের সঙ্গে যখন আর্দ্র অক্সিজেন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় লিপ্ত হয়, তখন ফেরাস অক্সাইড ফেরিক অক্সাইডে পরিণত হয়। এর ফলেই শিলার ওপর মরচে বা লালচে আবরণ পড়ে।
৭। রেগোলিথ কী?
উত্তরঃ আবহবিকারের ফলে আদি শিলা যখন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ভূ-পৃষ্ঠের ওপর একটি শিথিল ও অসংলগ্ন পর্দার মতো স্তর তৈরি করে, তাকে রেগোলিথ বলে। এটি মৃত্তিকা তৈরির প্রাথমিক পর্যায়।
৮। সোলাম কী?
উত্তরঃ মৃত্তিকা পরিলেখের ‘A’ ও ‘B’ স্তরকে একত্রে সোলাম বলা হয়। ল্যাটিন শব্দ 'Solum' থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ হলো মেঝ বা তল।
৯। টেরারোসা কী?
উত্তরঃ চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে অঙ্গারযোজন প্রক্রিয়ায় লোহামিশ্রিত যে লাল রঙের অবশিষ্টাংশ কাদার মতো মৃত্তিকা তৈরি হয়, তাকে টেরারোসা বলে।
১০। রেগোলিথ ও মৃত্তিকার তফাত কী?
উত্তরঃ রেগোলিথ হলো শিলার চূর্ণ-বিচূর্ণ অবশেষ মাত্র, কিন্তু মৃত্তিকা হলো রেগোলিথের সাথে জৈব পদার্থ ও খনিজ সংমিশ্রিত একটি উন্নত স্তর। রেগোলিথ মৃত্তিকা তৈরির কাঁচামাল।
১১। এলুভিয়েশন কী?
উত্তরঃ মৃত্তিকার উপরিস্তর বা ‘A’ স্তর থেকে খনিজ পদার্থ ও জৈব কণা বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে নিচের স্তরে চলে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে এলুভিয়েশন বলে।
১২। শস্যাবর্তনের সুবিধা কী কী?
উত্তরঃ (i) মাটির উর্বরতা বজায় থাকে। (ii) মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। (iii) পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কমে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়।
১৩। ধাপ চাষ ও ফালি চাষ কেন করা হয়?
উত্তরঃ পাহাড়ের ঢালে মাটির ক্ষয় রোধ করার জন্য এবং জলের প্রবাহ ধীর করে দিয়ে মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য এই বিশেষ চাষ পদ্ধতিগুলি অনুসরণ করা হয়।
১৪। ক্ষয়ীভবন কাকে বলে?
উত্তরঃ প্রাকৃতিক শক্তির (নদী, বায়ু, হিমবাহ) প্রভাবে আবহবিকারগ্রস্ত শিলাখণ্ড যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হয়, তখন তাকে ক্ষয়ীভবন বলে।
১৫। ক্ষয়সীমা কাকে বলে?
উত্তরঃ নদী বা অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তি যে সর্বনিম্ন সীমা পর্যন্ত ভূমিভাগকে ক্ষয় করতে পারে, তাকে ক্ষয়সীমা বলে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ হলো পৃথিবীর স্থায়ী ক্ষয়সীমা।
১৬। ইলুভিয়েশন কী?
উত্তরঃ এলুভিয়েশন প্রক্রিয়ায় ‘A’ স্তর থেকে ধুয়ে আসা খনিজ ও জৈব পদার্থ যখন নিচের ‘B’ স্তরে এসে সঞ্চিত হয়, তখন সেই সঞ্চয় হওয়ার প্রক্রিয়াকে ইলুভিয়েশন বলে।
১৭। Karst অঞ্চল কাকে বলে?
উত্তরঃ চুনাপাথর বা ডলোমাইট গঠিত অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকারের ফলে যে বিশেষ ভূ-প্রকৃতি গড়ে ওঠে, তাকে কার্স্ট (Karst) অঞ্চল বলে।
১৮। নগ্নীভবন কী?
উত্তরঃ আবহবিকার, ক্ষয়ীভবন ও পুঞ্জিত ক্ষয়ের প্রভাবে যখন উপরের শিলাস্তর অপসারিত হয়ে ভেতরের আদি শিলা বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলে।
১৯। জারণ কাকে বলে?
উত্তরঃ (দ্রষ্টব্য: ৫ নম্বর প্রশ্নের অনুরূপ) শিলা মধ্যস্থ খনিজ মৌলের সঙ্গে অক্সিজেনের রাসায়নিক সংযোগ ঘটাই হলো জারণ। এটি লোহার ওপর বেশি কার্যকরী হয়।
২০। আবহবিকারের দুটি ফলাফল লেখো।
উত্তরঃ (i) আবহবিকারের ফলে শিলা চূর্ণ হয়ে রেগোলিথ ও মৃত্তিকা তৈরি হয়। (ii) বিভিন্ন প্রকার খনিজ সম্পদের সৃষ্টি হয় ও ভূমিরূপের বিবর্তন ঘটে।
২১। ক্ষয়ীভবনের উদ্দেশ্য কী?
উত্তরঃ ক্ষয়ীভবনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো উচ্চভূমিকে ক্ষয় করে নিচু করা এবং ভূপৃষ্ঠের বন্ধুরতা দূর করে একটি সাধারণ সমতলে নিয়ে আসা (পর্যায়ন)।
ভূগোল সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়: আবহবিকার ও মৃত্তিকা (প্রশ্নমান - ৩)
১। আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন কি এক?—তোমার উত্তরের যুক্তি দাও।
না, আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবন এক নয়। আবহবিকার একটি স্থিতিশীল প্রক্রিয়া যেখানে শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে স্বস্থানেই পড়ে থাকে। কিন্তু ক্ষয়ীভবন একটি গতিশীল প্রক্রিয়া যেখানে চূর্ণ-বিচূর্ণ শিলাখণ্ড প্রাকৃতিক শক্তির (নদী, বায়ু) মাধ্যমে অন্য স্থানে অপসারিত হয়। আবহবিকার ক্ষয়ীভবনের পথ প্রস্তুত করে, কিন্তু অপসারণ ছাড়া ক্ষয়ীভবন পূর্ণ হয় না।
২। পুঞ্জিত ক্ষয় কেন হয়?
পুঞ্জিত ক্ষয়ের প্রধান কারণ হলো অভিকর্ষজ টান। আবহবিকারগ্রস্ত শিথিল শিলা বা মাটি যখন পাহাড়ের ঢালে আলগা হয়ে পড়ে, তখন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি তাকে নিচের দিকে টেনে নামায়। এছাড়া অত্যধিক বৃষ্টিপাত, ভূমিকম্প বা ঢালের পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
৩। পুঞ্জিত ক্ষয়কে ক্ষয়ীভবন বলা হয় না কেন?
ক্ষয়ীভবন বলতে প্রাকৃতিক শক্তির (নদী, বায়ু, হিমবাহ) মাধ্যমে পদার্থের সক্রিয় অপসারণকে বোঝায়। কিন্তু পুঞ্জিত ক্ষয়ে পদার্থের নিম্নমুখী চলন ঘটে মূলত অভিকর্ষজ টানের প্রভাবে, কোনো বহির্জাত শক্তির বাহক হিসেবে কাজ করার প্রয়োজন হয় না। তাই একে সরাসরি ক্ষয়ীভবন না বলে আবহবিকার ও ক্ষয়ীভবনের মধ্যবর্তী পর্যায় বলা হয়।
৪। পুঞ্জিত ক্ষয় ও ক্ষয়ীভবনের পার্থক্য কী?
পুঞ্জিত ক্ষয় ঘটে প্রধানত অভিকর্ষজ টানের প্রভাবে, অন্যদিকে ক্ষয়ীভবন ঘটে প্রাকৃতিক শক্তির (নদী, বায়ু) দ্বারা। পুঞ্জিত ক্ষয়ে পদার্থের চলন ঘটে সাধারণত পাহাড়ের ঢাল বরাবর উল্লম্বভাবে, কিন্তু ক্ষয়ীভবনে পদার্থ অনেক দূর পর্যন্ত পরিবাহিত হতে পারে। পুঞ্জিত ক্ষয় অপেক্ষাকৃত ধীর হতে পারে, কিন্তু ক্ষয়ীভবন নিরন্তর চলতে থাকে।
৫। শিলা পিঁয়াজের খোসার মতো স্তরে স্তরে খুলে যায় কেন?
একে 'শল্কমোচন' বলে। মরু অঞ্চলে দিনে প্রচণ্ড উত্তাপে শিলার বাইরের স্তর প্রসারিত হয় এবং রাতে দ্রুত শীতল হয়ে সংকুচিত হয়। শিলা তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় ভেতরের স্তরের তুলনায় বাইরের স্তরে এই সংকোচন-প্রসারণের মাত্রা বেশি থাকে। ফলে টানের সৃষ্টি হয় এবং বাইরের স্তরটি পিঁয়াজের খোসার মতো মূল শিলা থেকে আলাদা হয়ে যায়।
৬। শিলায় মরচে পড়ে কেন?
শিলা মধ্যস্থ লোহার খনিজের সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যাকে 'জারণ' বা অক্সিডেশন বলে। এই প্রক্রিয়ায় কঠিন ফেরাস অক্সাইড নমনীয় ফেরিক অক্সাইডে (মরচে) পরিণত হয়। এর ফলে শিলার ওপর লালচে বা বাদামী রঙের আস্তরণ পড়ে এবং শিলাটি ভঙ্গুর হয়ে যায়।
৭। কোন্ জলবায়ু অঞ্চলে ও কেন যান্ত্রিক আবহবিকার সর্বাধিক কার্যকর?
উষ্ণ মরু জলবায়ু অঞ্চলে যান্ত্রিক আবহবিকার সবচেয়ে বেশি ঘটে। কারণ এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য (দৈনিক উষ্ণতার প্রসর) অত্যন্ত বেশি। দিনের তীব্র তাপে শিলা প্রসারিত এবং রাতে দ্রুত শীতল হয়ে সংকুচিত হওয়ার ফলে শিলাস্তরে প্রবল পেষণ ও টানের সৃষ্টি হয়, যা শিলাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।
৮। যান্ত্রিক ও রাসায়নিক আবহবিকারের পার্থক্য কী?
যান্ত্রিক আবহবিকারে শিলা শুধু ভৌতভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়, রাসায়নিক ধর্মে কোনো পরিবর্তন ঘটে না। কিন্তু রাসায়নিক আবহবিকারে শিলা মধ্যস্থ খনিজগুলি বিয়োজিত হয়ে নতুন খনিজে পরিণত হয়। যান্ত্রিক আবহবিকার মরু ও শীতল অঞ্চলে বেশি দেখা যায়, আর রাসায়নিক আবহবিকার উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে বেশি কার্যকর।
৯। রেগোলিথ থেকে মৃত্তিকা কীভাবে সৃষ্টি হয়?
আবহবিকারের ফলে শিলা চূর্ণ হয়ে রেগোলিথ তৈরি হয়। এই রেগোলিথের সাথে যখন জল, বায়ু, বিভিন্ন জৈব পদার্থ (হিউমাস) এবং অণুজীব যুক্ত হয়, তখন দীর্ঘকালীন রাসায়নিক ও জৈব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা মৃত্তিকা বা মাটিতে রূপান্তরিত হয়। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জলবায়ু ও জীবজগতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১০। মাটি কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে ক্ষয় হয়?
মাটি প্রধানত তিনটি পদ্ধতিতে ক্ষয় হয়— (i) শিট ক্ষয়: বৃষ্টির জলের মাধ্যমে মাটির উপরিভাগের পাতলা স্তর ধুয়ে যাওয়া। (ii) নালিকা ক্ষয়: ঢালু জমিতে ছোট ছোট নালা তৈরি হয়ে মাটি অপসারিত হওয়া। (iii) গালি ক্ষয়: নালিকা ক্ষয় বৃদ্ধি পেয়ে গভীর খাতের সৃষ্টি হওয়া। এছাড়া বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমেও মাটি ক্ষয় হয়।
১১। ক্ষুদ্রকণা বিশরণ প্রক্রিয়া কীভাবে ঘটে?
মরু অঞ্চলে শিলা যদি একাধিক খনিজ দ্বারা গঠিত হয়, তবে বিভিন্ন খনিজের তাপ গ্রহণ ও বর্জন ক্ষমতা ভিন্ন হয়। ফলে অসম সংকোচন ও প্রসারণের কারণে শিলাস্তরে ফাটল ধরে এবং শিলাটি পিস্তল ছোড়ার মতো আওয়াজ করে ছোট ছোট দানা বা ক্ষুদ্রকণায় ভেঙে যায়। একেই ক্ষুদ্রকণা বিশরণ বলে।
১২। জৈব আবহবিকার প্রক্রিয়া বলতে কী বোঝ?
উদ্ভিদ ও প্রাণীর কার্যাবলীর মাধ্যমে শিলার যে চূর্ণ-বিচূর্ণ বা বিয়োজন ঘটে, তাকে জৈব আবহবিকার বলে। যেমন— গাছের মূলের চাপে শিলা ফেটে যাওয়া (যান্ত্রিক) অথবা মৃত জীবদেহ পচে নির্গত অ্যাসিডের মাধ্যমে শিলার খনিজ গলে যাওয়া (রাসায়নিক)। কেঁচো বা ইঁদুরের গর্ত খোঁড়াও এর অন্তর্ভুক্ত।
১৩। আবহবিকারের ফলাফল লেখো।
আবহবিকারের প্রধান ফলাফলগুলি হলো— (i) মৃত্তিকা গঠন: শিলা চূর্ণ হয়ে রেগোলিথ ও পরে মাটি তৈরি হয়। (ii) ভূমিরূপ পরিবর্তন: উঁচু ভূমিভাগ ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নিচু হয়। (iii) খনিজ সঞ্চয়: অনেক ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম বা লোহার আকরিক ঘনীভূত হয়ে খনিজ ভাণ্ডার গড়ে তোলে।
ভূগোল রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (নোটস)
শ্রেণী: নবম | অধ্যায়: আবহবিকার ও মৃত্তিকা | প্রশ্নমান - ৫
১। উষ্ণতার তারতম্যে যান্ত্রিক আবহবিকার কীভাবে ঘটে?
উত্তর: উষ্ণতার পরিবর্তনের ফলে শিলাস্তর যান্ত্রিকভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়। এর প্রধান তিনটি প্রক্রিয়া হলো:
- ১. প্রস্তর-চাঁই খণ্ডীকরণ: মরু অঞ্চলে শিলা তাপের কুপরিবাহী হওয়ায় দিনের বেলায় বাইরের অংশ প্রবল প্রসারিত হয় এবং রাতে সংকুচিত হয়। এই ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলাস্তরে সমান্তরাল ও উলম্ব ফাটল ধরে এবং শিলাটি চৌকো চাঁইয়ের মতো ভেঙে যায়।
- ২. শল্কমোচন: শিলা যদি সমজাতীয় খনিজ দিয়ে গঠিত হয়, তবে তাপের প্রভাবে বাইরের স্তরটি পিঁয়াজের খোসার মতো মূল শিলা থেকে আলাদা হয়ে যায়। একে শল্কমোচন বলে।
- ৩. ক্ষুদ্রকণা বিশরণ: বিষমজাতীয় খনিজ দ্বারা গঠিত শিলার বিভিন্ন খনিজ ভিন্ন ভিন্ন হারে প্রসারিত ও সংকুচিত হয়। ফলে শিলাটি প্রবল পেষণে ছোট ছোট দানায় বা কণায় ভেঙে যায়।
২। প্রস্তর চাঁই খণ্ডীকরণ ও শল্কমোচন প্রক্রিয়া চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
প্রস্তর চাঁই খণ্ডীকরণ (Block Disintegration): মরু অঞ্চলে শিলাস্তরের ফাটল বরাবর প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে শিলাটি বড় বড় ব্লকের মতো খণ্ডে বিভক্ত হওয়াকে প্রস্তর চাঁই খণ্ডীকরণ বলে।
শল্কমোচন (Exfoliation): শিলার বাইরের স্তর ও ভেতরের স্তরের মধ্যে তাপীয় পার্থক্যের কারণে টান সৃষ্টি হয়। ফলে বাইরের স্তরটি পিঁয়াজের খোসার মতো গোলাকারে খুলে আসে। একে শল্কমোচন বলে। এর ফলে শিলা গোলাকার রূপ ধারণ করে।
[attachment_0](attachment)৩। তুষারের কার্যে যান্ত্রিক আবহবিকার কীভাবে ঘটে?
উত্তর: উচ্চ অক্ষাংশ বা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। একে 'তুষার খণ্ডীকরণ' বা 'ফ্রস্ট ওয়েজিং' বলে।
পদ্ধতি: দিনের বেলায় পাহাড়ের ফাটলের মধ্যে জল জমে থাকে। রাতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে ওই জল বরফে পরিণত হয়। আমরা জানি, জল বরফে পরিণত হলে আয়তনে **৯% বৃদ্ধি পায়**। এই বরফ ফাটলের গায়ে প্রচণ্ড পার্শ্বচাপ দেয়। ক্রমাগত জল জমা ও বরফ হওয়ার ফলে ফাটলটি বড় হতে থাকে এবং একসময় শিলাখণ্ডটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে পাহাড়ের নিচে পড়ে থাকে (যাকে স্ক্রি বা টলাস বলে)।
৪। রাসায়নিক আবহবিকারের প্রধান প্রক্রিয়াগুলির ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: রাসায়নিক আবহবিকারের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি হলো— অঙ্গারযোজন, জারণ, জলযোজন এবং আর্দ্রবিশ্লেষণ। নিচে দুটি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো:
- ১. অঙ্গারযোজন (Carbonation): বৃষ্টির জলের সাথে বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড মিশে মৃদু কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড চুনাপাথরের ওপর পড়লে ক্যালশিয়াম কার্বনেট ক্যালশিয়াম বাইকার্বনেটে পরিণত হয় এবং সহজে গলে যায়।
- ২. জারণ (Oxidation): খনিজের ওপর অক্সিজেনের বিক্রিয়াকে জারণ বলে। বিশেষ করে লোহাযুক্ত শিলা অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে ফেরাস অক্সাইড ফেরিক অক্সাইডে পরিণত হয়, যার ফলে শিলা ভঙ্গুর হয় এবং মরচে পড়ে।
৫। অঙ্গারযোজন ও জারণ প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকরী হয়?
অঙ্গারযোজন: চুনাপাথর গঠিত অঞ্চলে এটি প্রধান। বিক্রিয়াটি হলো: $H_{2}O + CO_{2} \rightarrow H_{2}CO_{3}$ (কার্বনিক অ্যাসিড)। এরপর $CaCO_{3} + H_{2}CO_{3} \rightarrow Ca(HCO_{3})_{2}$ (দ্রাব্য বাইকার্বনেট)।
জারণ: আর্দ্র ও লোহাসমৃদ্ধ শিলা এই প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিয়োজিত হয়। লোহার আকরিক ম্যাগনেটাইট জারিত হয়ে লিমোনাইটে পরিণত হয়। এর ফলে শিলার কাঠিন্য নষ্ট হয় এবং শিলাটি লালচে রঙের হয়ে যায়।
৬। জৈব আবহবিকার কীভাবে ঘটে?
উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণীর কার্যাবলীর মাধ্যমে যে আবহবিকার ঘটে তাকে জৈব আবহবিকার বলে। এটি দুই প্রকার:
- ১. জৈব-যান্ত্রিক: গাছের মূল শিলার ফাটলে প্রবেশ করে বড় হওয়ার সময় প্রবল চাপ দেয়, ফলে শিলা ভেঙে যায়। এছাড়া কেঁচো, ইঁদুর, খরগোশ মাটিতে গর্ত খুঁড়ে শিলাকে আলগা করে দেয়।
- ২. জৈব-রাসায়নিক: উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচনের ফলে যে হিউমিক অ্যাসিড বা জৈব অ্যাসিড উৎপন্ন হয়, তা শিলার খনিজকে বিয়োজিত করে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়।
৭। মানুষ আবহবিকারে কীভাবে অংশগ্রহণ করে?
উত্তর: বর্তমান যুগে মানুষ হলো আবহবিকারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক:
- ১. খনিজ উত্তোলন: খনি থেকে কয়লা বা ধাতু উত্তোলনের সময় মানুষ ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শিলাস্তরকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে।
- ২. নির্মাণ কাজ: রাস্তাঘাট, বাঁধ বা বাড়ি তৈরির সময় পাহাড় কেটে শিলাকে আলগা করে দেওয়া হয়।
- ৩. কৃষিকাজ: লাঙল দিয়ে মাটি চাষ করার সময় নিচের শিলাস্তর উপরে চলে আসে এবং আবহবিকারের হার বেড়ে যায়।
- ৪. দূষণ: মানুষের সৃষ্টি করা বায়ুদূষণের ফলে অ্যাসিড বৃষ্টি হয়, যা শিলার দ্রুত রাসায়নিক আবহবিকার ঘটায়।
৮ ও ৯। মাটি ক্ষয়ের পদ্ধতি ও কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
মাটি ক্ষয়ের পদ্ধতি: ১. শিট ক্ষয় (আস্তরণ ক্ষয়), ২. নালিকা ক্ষয় (ক্ষুদ্র নালা তৈরি), ৩. গালি ক্ষয় (গভীর খাত সৃষ্টি), ৪. বায়ু ক্ষয়।
মাটি ক্ষয়ের কারণ:
- প্রাকৃতিক কারণ: প্রবল বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং পাহাড়ের খাড়া ঢাল মাটিকে সহজেই ধুয়ে নিয়ে যায়।
- মানুষের সৃষ্টি কারণ: (ক) বৃক্ষচ্ছেদন: গাছ কাটা হলে মাটির বাঁধন আলগা হয়। (খ) পশুচারণ: অতিরিক্ত পশুচারণে ঘাসের আবরণ নষ্ট হয়। (গ) ঝুম চাষ: অবৈজ্ঞানিক চাষাবাদ মাটির উপরিস্তর নষ্ট করে।
১০। মাটি সংরক্ষণ কী কী ভাবে করা যায়?
উত্তর: মাটি সংরক্ষণের প্রধান পদ্ধতিগুলি হলো:
- বৃক্ষরোপণ: মাটির ক্ষয় রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো।
- ধাপ চাষ: পাহাড়ি ঢালে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে চাষ করলে জলের গতি কমে এবং মাটি কম ক্ষয় হয়।
- ফালি চাষ: ঢালের আড়াআড়িভাবে ফালি তৈরি করে চাষ করলে মাটির বাঁধন শক্ত হয়।
- শস্যাবর্তন: একই জমিতে বারবার একই ফসল না চাষ করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিভিন্ন ফসল চাষ করলে মাটির উর্বরতা বাড়ে।
- পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: যত্রতত্র পশুচারণ বন্ধ করে মাটির উপরিভাগের ঘাসের আবরণ রক্ষা করতে হবে।
এই নোটসটি আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য Teach Vibes টিমের পক্ষ থেকে উপহার। ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
🌟 আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ ও 'সুপার' টিপস
"পরীক্ষা মানে ভয় নয়, পরীক্ষা মানে নিজেকে প্রমাণ করার একটি সুযোগ।"
১. '৩-কালার' রিভিশন পদ্ধতি: পড়ার সময় তিনটি রঙের পেন ব্যবহার করো। যা পারো তা সবুজ, যা একটু কঠিন তা হলুদ এবং যা একদমই নতুন তা লাল দিয়ে মার্ক করো। পরীক্ষার আগে লাল ও হলুদ অংশগুলো বেশি পড়ো।
২. ডায়াগ্রাম চ্যালেঞ্জ: প্রতিদিন অন্তত ১টি ভূগোলের ছবি (যেমন- শল্কমোচন বা নদীবাঁক) ৫ মিনিটের মধ্যে আঁকার প্র্যাকটিস করো। এটি তোমাকে পরীক্ষায় এগিয়ে রাখবে।
৩. পয়েন্ট-ভিত্তক উত্তর: বড় প্রশ্নে প্যারাগ্রাফ না লিখে পয়েন্ট করে লেখো এবং নিচে আন্ডারলাইন করো। এতে পরীক্ষকের খাতা দেখতে সুবিধা হয় এবং নম্বর ভালো আসে।
৪. নিয়মিত বিশ্রাম: টানা ১ ঘণ্টা না পড়ে ৪৫ মিনিট পড়ার পর ১৫ মিনিট বিশ্রাম নাও। এতে মস্তিস্ক পড়াগুলো বেশি মনে রাখতে পারে।
তোমার প্রস্তুতি কি একধাপ এগিয়ে নিতে চাও? 🚀
এই নোটসগুলো তোমার কেমন লাগলো? নিচে কমেন্ট বক্সে তোমার মতামত জানাও। তোমার প্রতিটি ফিডব্যাক আমাদের আরও ভালো কন্টেন্ট বানাতে সাহায্য করে!
© ২০২৬ | Teach Vibes - তোমার সাফল্যের নির্ভরযোগ্য সারথী

0 মন্তব্যসমূহ