- WBBSE Class 9 Geography Notes: ভূমিরূপ ও পর্বত, মালভূমি, সমভূমি প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়: ভূ-প্রকৃতি গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ
১। ভূ-অভ্যন্তরে পরিচলন স্রোত প্রবাহের ধারণাটি করেন—
ক) পিঁচো খ) পার্কার (গ) হোমস্ (ঘ) কোবার
উত্তর: (গ) হোমস্
২। গিরিজনি আলোড়নের প্রভাবে কোন্ পর্বত গঠিত—
ক) হিমালয় (খ) সাতপুরা গ বিন্ধ্য (ঘ) পশ্চিমঘাট
উত্তর: (ক) হিমালয়
৩। ভূপৃষ্ঠে গিরিজনি আলোড়ন কাজ করে—
ক) সমান্তরালে ( খ) উল্লম্বভাবে গ তির্যকভাবে ঘ) নিম্নদিকে
উত্তর: (ক) সমান্তরালে
৪। মহিভাবক আলোড়নে শিলায় –
ক) ভাঁজ পড়ে খ) চ্যুতি সৃষ্টি হয় গ) উঁচুভূমি ক্ষয় হয় ঘ) নিম্নভূমি সঞ্চয়ে ভরাট হয়
উত্তর: (খ) চ্যুতি সৃষ্টি হয়
৫। অবরোহণ প্রক্রিয়ায় ভূমির—
ক) উচ্চতা বাড়ে খ) উচ্চতা কমে গ) একই থাকে ঘ) ভূমি বসে যায়
উত্তর: (খ) উচ্চতা কমে
৬। অসমতল ভূমি সমতল হওয়ার প্রক্রিয়া হল—
ক) অবরোহণ খ) আরোহণ গ) ভূ-আন্দোলন ঘ) পর্যায়ন
উত্তর: (ঘ) পর্যায়ন
৭। কোন্ পর্বতটি ভাঁজ খেয়ে সৃষ্ট—
ক) পশ্চিমঘাট খ) সাতপুরা গ) হিমালয় (ঘ) বিন্ধ্য
উত্তর: (গ) হিমালয়
৮। অসংখ্য পর্বত একসাথে মিশলে তা হল—
(ক) পর্বতশৃঙ্খল খ) পর্বতমালা (গ) পর্বত শৈলশিরা (ঘ) পর্বতগ্রন্থি
উত্তর: (ঘ) পর্বতগ্রন্থি
৯। পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বত হল—
ক) আন্দিজ খ) হিমালয় গ রকি (ঘ) আল্পস
উত্তর: (ক) আন্দিজ
১০। পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত হল—
ক) হিমালয় খ) আন্দিজ গ রকি (ঘ) আল্পস
উত্তর: (ক) হিমালয়
১১। ভঙ্গিল পর্বতের সাথে কোন্ শব্দটি জড়িত —
ক) মহিভাবক (খ) গিরিজনি গ্র সমস্থিতিক ঘ) ইউস্ট্যাটিক
উত্তর: (খ) গিরিজনি
১২। পাতগাঠনিক তত্ত্বের জনক বলা হয়—
ক) পার্কার খ) উইলসন গ) হোমস্ ঘ) পিঁচো-কে
উত্তর: (ঘ) পিঁচো-কে (Le Pichon)
১৩। পাতগুলি সরে যাওয়ার প্রধান কারণ—
ক) সৌরশক্তি খ) পরিচলন স্রোত গ মহিভাবক আলোড়ন (ঘ) গিরিজনি আলোড়ন
উত্তর: (খ) পরিচলন স্রোত
১৪। পৃথিবীতে প্রধান পাতের সংখ্যা—
(ক) ৭টি (খ) ১২টি (গ) ১৮টি (ঘ) ২০টি
উত্তর: (ক) ৭টি
১৫। মহাসাগরের নীচে শৈলশিরা গঠিত হয়েছে—
ক) প্রতিসারী খ) অভিসারী গ) নিরপেক্ষ ঘ) অপরিবর্তনশীল পাতসীমানায়
উত্তর: (ক) প্রতিসারী পাতসীমানায়
১৬। পৃথিবীর অধিকাংশ ভঙ্গিল পর্বত গড়ে উঠেছে—
ক) প্রতিসারী (খ) অভিসারী (গ) নিরপেক্ষ (ঘ) অপরিবর্তনশীল পাতসীমানায়।
উত্তর: (খ) অভিসারী পাতসীমানায়
১৭। কোন্ দুটি পাতের সংঘর্ষে আন্দিজ পর্বতের উৎপত্তি ঘটেছে—
ক) দক্ষিণ আমেরিকা-নাজকা খ) উত্তর আমেরিকা-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গ) আফ্রিকা-ইউরেশিয়া (ঘ) আফ্রিকা-ইন্দোঅস্ট্রেলিয়া
উত্তর: (ক) দক্ষিণ আমেরিকা-নাজকা
১৮। কোন্ নবীন ভঙ্গিল পর্বতটিতে আগ্নেয়গিরি দেখা যায়—
ক) হিমালয় খ) হিন্দুকুশ গ) সুলেমান (ঘ) আন্দিজ
উত্তর: (ঘ) আন্দিজ
১৯। কোনটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত—
(ক) অ্যাপেলেসিয়ান (খ) হিন্দুকুশ গ) হিমালয় ঘ) আল্পস
উত্তর: (ক) অ্যাপেলেসিয়ান
২০। ইউরোপ-এশিয়ার সীমান্তের উরাল পর্বত একটি—
(ক) নবীন ভঙ্গিল পর্বত (খ) প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত গ) আগ্নেয় পর্বত ঘ) স্তুপ পর্বত
উত্তর: (খ) প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত
২১। হিমালয়, রকি, আন্দিজ প্রভৃতি পর্বতের উত্থানের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোন্ শব্দটি জড়িত—
ক) হার্সিনিয়ান খ) ক্যালিডোনিয়ান গ) টার্সিয়ারি (ঘ) জুরাসিক
উত্তর: (গ) টার্সিয়ারি
২২। কোন্ পাতসীমানায় আগ্নেয়গিরির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—
ক) ধ্বংসাত্মক (খ) গঠনাত্মক গ) অপরিবর্তনশীল ঘ) নিরপেক্ষ।
উত্তর: (ক) ধ্বংসাত্মক
২৩। ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ হল কোনটি—
ক) ভিসুভিয়াস (খ) স্ট্রোম্বলি গ) এটনা ঘ) ফুজিয়ামা
উত্তর: (খ) স্ট্রোম্বলি
২৪। মায়ানমারের পোপা কি ধরনের আগ্নেয়গিরি—
ক) সবিরাম খ) অবিরাম গ) সুপ্ত (ঘ) মৃত
উত্তর: (ঘ) মৃত
২৫। কোন্ আগ্নেয়গিরিটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয়মেখলা বলয়ে অবস্থিত—
ক) ফুজিয়ামা খ) ভিসুভিয়াস গ) কিলিমাঞ্জারো ঘ) স্ট্রোম্বলি
উত্তর: (ক) ফুজিয়ামা
২৬। ভারতের কোন্ উপত্যকাটি গ্রস্ত উপত্যকা—
ক) মহানদী উপত্যকা খ) গোদাবরী উপত্যকা গ) লুনি উপত্যকা (ঘ) নর্মদা উপত্যকা
উত্তর: (ঘ) নর্মদা উপত্যকা
২৭। স্তূপ পর্বত উৎপত্তির সাথে কোন্ শব্দটি জড়িত—
(ক) মহিভাবক আলোড়ন খ) গিরিজনি আলোড়ন গ) সমস্থিতিক আলোড়ন ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (ক) মহিভাবক আলোড়ন
২৮। আরাবল্লী বর্তমানে ক্ষয়জাত পর্বত হলেও আগে ছিল—
ক) স্তূপ পর্বত খ) হোর্স্ট গ) ভঙ্গিল পর্বত (ঘ) আগ্নেয়
উত্তর: (গ) ভঙ্গিল পর্বত
২৯। নিম্নলিখিত কোনটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত নয় অথচ ক্ষয়জাত পর্বত—
ক) অ্যাপেলোসিয়ান খ) উরাল গ) আরাবল্লী (ঘ) মহাকাল
উত্তর: (ঘ) মহাকাল
৩০। ভারতের একমাত্র পর্বতবেষ্টিত মালভূমি হল—
(ক) লাডাক (খ) ডেকানট্র্যাপ (গ) বুন্দেলখণ্ড ঘ) বাঘেলখণ্ড
উত্তর: (ক) লাডাক
৩১। বিদার অগ্ন্যুদ্গমের সাথে ভারতের কোন্ মালভূমিটি সম্পর্কিত—
ক) ডেকানট্র্যাপ (খ) ছোটোনাগপুর গ) ময়দান (ঘ) মালনাদ
উত্তর: (ক) ডেকানট্র্যাপ
৩২। সমপ্রায়ভূমির অনুচ্চ টিলাগুলি হল—
(ক) মোনাডনক খ) ইনসেলবার্জ গ) পেডিমেন্ট (ঘ) বাজাদা
উত্তর: (ক) মোনাডনক
৩৩। কোন্ সমভূমিতে লেগুন দেখা যায়—
ক) উপকূল সমভূমি খ) পাদদেশীয় সমভূমি গ) পেডিমেন্ট সমভূমি (ঘ) সমপ্রায়ভূমি
উত্তর: (ক) উপকূল সমভূমি
৩৪। কোন্ ভূপ্রাকৃতিক অংশে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে—
ক) সমভূমি খ) মালভূমি গ) পর্বত ঘ) মরুভূমি
উত্তর: (ক) সমভূমি
৩৫। বৃহত্তম পাতটি হল—
ক) প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত খ) ইউরেশিয়া পাত গ) আফ্রিকা পাত (ঘ) নাজকা পাত
উত্তর: (ক) প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত
৩৬। প্লায়া হ্রদকে কেন্দ্র করে কোন্ ধরনের সমভূমি গড়ে ওঠে—
ক) লোয়েস খ) বাজাদা গ) সমপ্রায়ভূমি ঘ) পেডিমেন্ট
উত্তর: (খ) বাজাদা
৩৭। পর্বতের পাদদেশের ভূমি হল—
ক) ইনসেলবার্জ (খ) মোনাডনক্ গ) পেডিমেন্ট (ঘ) পিডমন্ড
উত্তর: (ঘ) পিডমন্ড (পাদদেশীয় সমভূমি)
৩৮। টেথিস হল—
ক) ভঙ্গিল পর্বত খ) পর্বতগ্রন্থি গ) মহিখাত (ঘ) হটস্পট
উত্তর: (গ) মহিখাত
৩৯। পশ্চিমবঙ্গের কোটি পিডমন্ড সমভূমি—
ক) তরাই ও ডুয়ার্স (খ) রাঢ় গ) বরেন্দ্রভূমি ঘ) বদ্বীপ
উত্তর: (ক) তরাই ও ডুয়ার্স
৪০। ভারতের কোটি লাভাশিলা গঠিত মালভূমি —
ক) ডেকানট্র্যাপ খ) লাডাক গ) ছোটোনাগপুর (ঘ) বুন্দেলখণ্ড
উত্তর: (ক) ডেকানট্র্যাপ
© ২০২৪ ভূগোল শিক্ষা সহায়তা
ভূগোল স্পেশাল সিরিজ
অধ্যায়: ভূ-প্রকৃতি গঠনকারী প্রক্রিয়া ও ভূমিরূপ প্রশ্ন উত্তর
ঠিক বা ভুল নির্বাচন করো (প্রশ্নমান-১):
সৌজন্যে: Teach Vibes এডুকেশনাল ব্লগ
ভূগোল স্পেশাল সিরিজ
অধ্যায়: ভূ-প্রকৃতি গঠনকারী প্রক্রিয়া ও ভূমিরূপ
ঠিক বা ভুল নির্বাচন করো (প্রশ্নমান-১):
সৌজন্যে: Teach Vibes এডুকেশনাল ব্লগ
স্তম্ভ মেলাও (Match the Column)
বিষয়: নবম শ্রেণীর ভূগোল - ভূমিরূপ ও প্রক্রিয়া
সেট - ১: ভূমিরূপ ও অঞ্চল
| স্তম্ভ ‘ক’ | স্তম্ভ ‘খ’ (সঠিক উত্তর) |
|---|---|
| ১। লোয়েস সমভূমি | (চ) চিন |
| ২। তুরানের নিম্নভূমি | (গ) অবনমিত সমভূমি |
| ৩। মোনাডনক্ | (ক) সমপ্রায়ভূমি |
| ৪। ইনসেলবার্জ | (ঙ) পেডিমেন্ট |
| ৫। কানাডা উচ্চভূমি | (খ) শিল্ড |
| ৬। ময়দান ও মালনাদ | (ঘ) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি |
সেট - ২: পর্বত ও পাতসীমানা
| স্তম্ভ ‘ক’ | স্তম্ভ ‘খ’ (সঠিক উত্তর) |
|---|---|
| ১। সান আন্দ্রিয়াস | (খ) নিরপেক্ষ পাতসীমানা |
| ২। মহিখাত | (ঙ) ভঙ্গিল পর্বত |
| ৩। ক্রেটার | (ক) আগ্নেয়গিরি |
| ৪। গ্রস্ত উপত্যকা | (চ) স্তূপ পর্বত |
| ৫। টেবিলল্যান্ড | (গ) মালভূমি |
| ৬। তরাই ও ডুয়ার্স | (ঘ) পাদদেশীয় সমভূমি |
সেট - ৩: বিজ্ঞানী ও তাঁদের মতবাদ
| স্তম্ভ ‘ক’ | স্তম্ভ ‘খ’ (সঠিক উত্তর) |
|---|---|
| ১। আর্থার হোমস্ | (গ) পরিচলন স্রোত |
| ২। এল. সি. পিঁচো | (ঙ) পাতগাঠনিক তত্ত্বের জনক |
| ৩। উইলসন | (ক) প্লেট বা পাত |
| ৪। ওয়েগনার | (চ) মহিসঞ্চরণ |
| ৫। চেম্বারলিন ও সলিসবেরি | (ঘ) পর্যায়ন |
| ৬। উইলিয়াম মরিস ডেভিস | (খ) মোনাডনক |
ভূগোল সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)
নবম শ্রেণী | ভূ-প্রকৃতি ও ভূমিরূপ
১। কোন্ প্রকার ভূ-আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে সমান্তরালে কাজ করে?
উত্তরঃ গিরিজনি আলোড়ন।
২। বন্ধুর ভূমি সমতলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াটি কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ পর্যায়ন (Gradation)।
৩। পর্যায়ন প্রক্রিয়াটি কোন্ ভূতত্ত্ববিদ প্রথম ব্যবহার করেন?
উত্তরঃ চেম্বারলিন ও স্যালিসবেরি।
৪। ভূগাঠনিক আলোড়ন কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে কাজ করে?
উত্তরঃ মহিভাবক ও গিরিজনি পদ্ধতিতে।
৫। পৃথিবীর উচ্চতম ভঙ্গিল পর্বত কোনটি এবং এই পর্বতটির বেশিরভাগ অংশ কোন্ দেশে অবস্থিত?
উত্তরঃ হিমালয়; নেপাল (মাউন্ট এভারেস্ট নেপালে অবস্থিত)।
৬। পাতগুলি সচল আছে যে পরিচলন স্রোতের কারণে সেই পরিচলন স্রোতের ব্যাখ্যা কে প্রথম দেন?
উত্তরঃ আর্থার হোমস।
৭। পাতের অগ্রভাগ ভিতরে ঢুকে যে অংশে গলে যায় সেই অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ বেনিউফ জোন (Benioff Zone)।
৮। হিমালয় কোন্ যুগে সৃষ্ট ভঙ্গিল পর্বত?
উত্তরঃ টারশিয়ারি যুগে।
৯। ভারতের কোন্ অঞ্চলে আগ্নেয়গিরি রয়েছে?
উত্তরঃ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে (ব্যারেন ও নারকোন্ডাম)।
১০। ভারতের একটি পর্বতবেষ্টিত মালভূমির নাম লেখো।
উত্তরঃ লাদাখ মালভূমি।
১১। পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতবেষ্টিত মালভূমি কোনটি?
উত্তরঃ তিব্বত মালভূমি।
১২। পেডিপ্লেনের অনুচ্চ টিলাগুলি কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ ইনসেলবার্জ।
১৩। কোন্ প্রকার ভূ-আলোড়ন উল্লম্বভাবে কাজ করে?
উত্তরঃ মহিভাবক আলোড়ন।
১৪। বহির্জাত শক্তির মূল উৎস কোনটি?
উত্তরঃ সূর্য বা সৌরশক্তি।
১৫। পৃথিবীর বৃহত্তম পাত কোনটি?
উত্তরঃ প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত।
১৬। দুটি পাতের সীমানা অঞ্চলকে কী বলা হয়?
উত্তরঃ পাতসীমানা (Plate Boundary)।
১৭। কোন্ মহিখাত থেকে হিমালয়ের উত্থান ঘটেছে?
উত্তরঃ টেথিস মহিখাত।
১৮। ভারতের একটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতের নাম লেখো।
উত্তরঃ আরাবল্লী পর্বত।
১৯। আগ্নেয়গিরির যে পথ দিয়ে লাভা নির্গত হয় তা কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ জ্বালামুখ বা অগ্ন্যুৎগম প্রণালী।
২০। একটি মৃত আগ্নেয়গিরির নাম লেখো।
উত্তরঃ মায়ানমারের মাউন্ট পোপা।
ভূগোল সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান - ২)
অধ্যায়: ভূ-প্রকৃতি গঠনকারী প্রক্রিয়া ও ভূমিরূপ
১। ভূগাঠনিক বিপর্যয় কী?
উত্তরঃ ভূ-অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রভাবে যখন আকস্মিকভাবে ভূমিরূপের আমূল পরিবর্তন ঘটে (যেমন- প্রবল ভূমিকম্প বা অগ্ন্যুৎপাত), তখন তাকে ভূগাঠনিক বিপর্যয় বলে।
২। পরিচলন স্রোত কাকে বলে?
উত্তরঃ ভূ-অভ্যন্তরে গুরুমণ্ডলের ম্যাগমা উত্তপ্ত হয়ে হালকা হয়ে উপরে ওঠে এবং শীতল ম্যাগমা নিচে নেমে যায়, এইভাবে যে চক্রাকার স্রোতের সৃষ্টি হয় তাকে পরিচলন স্রোত বলে। এর প্রভাবেই পাতগুলি সঞ্চালিত হয়।
৩। পর্যায়ন প্রক্রিয়া কী?
উত্তরঃ অবরোহণ (ক্ষয়) ও আরোহণ (সঞ্চয়) প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের বন্ধুরতা দূর হয়ে একটি সাধারণ তল বা সমতা আসার প্রক্রিয়াকে পর্যায়ন বলে।
৪। পর্বতের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
উত্তরঃ (i) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু হবে। (ii) ঢাল খুব খাড়া এবং শিখরদেশ সূচালো হবে। (iii) ভূমি অত্যন্ত বন্ধুর প্রকৃতির হয়।
৫। ‘পাত’ ও ‘অ্যাসথেনোস্ফিয়ার’ কী?
উত্তরঃ পাত: লিথোস্ফিয়ার বা শিলামণ্ডলের যে বিশাল খণ্ডগুলি গুরুমণ্ডলের ওপর ভাসমান, তাদের পাত বলে।
অ্যাসথেনোস্ফিয়ার: শিলামণ্ডলের নিচে গুরুমণ্ডলের উপরের স্তরে অবস্থিত থকথকে সান্দ্র অঞ্চলটি হলো অ্যাসথেনোস্ফিয়ার।
৬। অভিসারী পাতসীমানা কাকে বলে ও উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ যখন দুটি পাত পরস্পরের অভিমুখে অগ্রসর হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তাকে অভিসারী পাতসীমানা বলে। উদাহরণ: ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতসীমানা।
৭। মহিখাত কী?
উত্তরঃ দুটি কঠিন ভূখণ্ডের মাঝে অবস্থিত অগভীর ও সংকীর্ণ সমুদ্র বা জলাভূমিকে মহিখাত (Geosyncline) বলে। এখান থেকেই ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি হয়।
৮। ম্যাগমা ও লাভার তফাত কী?
উত্তরঃ ভূ-অভ্যন্তরে গলিত পদার্থকে ম্যাগমা বলে। এই ম্যাগমা যখন আগ্নেয়গিরির ছিদ্রপথ দিয়ে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে লাভা বলে।
৯। ক্রেটার ও ক্যালডেরা কাকে বলে?
উত্তরঃ আগ্নেয়গিরির মাথায় অবস্থিত ফানেল আকৃতির গর্তকে ক্রেটার বা জ্বালামুখ বলে। জ্বালামুখটি যখন বিশাল বড় আকার ধারণ করে, তখন তাকে ক্যালডেরা বলে।
১০। জীবন্ত ও মৃত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ জীবন্ত আগ্নেয়গিরি: ইতালির স্ট্রোম্বলি। মৃত আগ্নেয়গিরি: মায়ানমারের মাউন্ট পোপা।
১১। ‘দ্য গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি' বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম গ্রস্ত উপত্যকা যা আফ্রিকার উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে বিস্তৃত। পাতের অপসারণের ফলে এটি সৃষ্টি হয়েছে।
১২। হোস্ট ও গ্রাবেন কী?
উত্তরঃ দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ মহিভাবক আলোড়নের ফলে উত্থিত হয়ে যে স্তূপ পর্বত গঠন করে তাকে হোস্ট বলে এবং পাশের অবনমিত অংশকে গ্রাবেন বলে।
১৩। পৃথিবীর বৃহত্তম পর্বতবেষ্টিত মালভূমি কোনটি এবং সেটি কোন্ দুটি পর্বতের মাঝে রয়েছে?
উত্তরঃ তিব্বত মালভূমি। এটি হিমালয় এবং কুনলুন পর্বতের মাঝে অবস্থিত।
১৪। ‘ডেকানট্র্যাপ’-এর বিশেষত্ব কী?
উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিমাংশ সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে নেমে গেছে। লাভা স্তরে গঠিত এই বিশেষ ভূমিরূপকে ডেকানট্র্যাপ (Trap মানে সিঁড়ি) বলে।
১৫। মালভূমিতে প্রচুর খনিজ সম্পদ আছে কেন?
উত্তরঃ মালভূমিগুলি সাধারণত প্রাচীন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত এবং দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয় পাওয়ার ফলে ভূ-গর্ভের গভীর স্তরের খনিজ সম্পদ বাইরে প্রকাশ পায়।
১৬। মোনাডনক ও ইনসেলবার্জ কী?
উত্তরঃ আর্দ্র অঞ্চলে সমপ্রায় ভূমির উপর অবস্থিত কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত অনুচ্চ টিলা হলো মোনাডনক। মরু অঞ্চলে পেডিমেন্টের ওপর দণ্ডায়মান টিলা হলো ইনসেলবার্জ।
১৭। লোয়েস কী?
উত্তরঃ মরু অঞ্চলের সূক্ষ্ম বালিকণা বায়ুর দ্বারা বহুদূরে বাহিত হয়ে কোনো নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে লোয়েস বলে।
১৮। গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে?
উত্তরঃ যে ভূ-আলোড়ন ভূপৃষ্ঠে অনুভূমিকভাবে বা সমান্তরালে কাজ করে এবং শিলাস্তরে ভাঁজ সৃষ্টি করে পর্বত গঠন করে, তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে।
১৯। সমস্থিতিক আলোড়ন বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ পৃথিবীর বিভিন্ন উচ্চতার ভূমিরূপগুলির (যেমন পর্বত, মালভূমি, সমভূমি) মধ্যে যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রক্রিয়া চলে, তাকেই সমস্থিতিক আলোড়ন বলে।
২০। অবরোহণ ও আরোহণের মূল তফাত কী?
উত্তরঃ অবরোহণ প্রক্রিয়ায় উচ্চভূমি ক্ষয় পেয়ে উচ্চতা হ্রাস পায়। অন্যদিকে, আরোহণ প্রক্রিয়ায় নিচু স্থান পলল বা বালুকণা দ্বারা ভরাট হয়ে উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
২১। পর্বতগ্রন্থি ও পর্বতমালা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে স্থান থেকে বিভিন্ন দিকে একাধিক পর্বতশ্রেণি বিস্তৃত হয় তাকে পর্বতগ্রন্থি বলে (যেমন- পামির)। আর অনেকগুলি পর্বতশ্রেণি সমান্তরালে অবস্থান করলে তাকে পর্বতমালা বলে।
২২। প্রতিসারী পাতসীমানা কাকে বলে?
উত্তরঃ যখন দুটি পাত পরস্পর থেকে বিপরীত দিকে দূরে সরে যায়, তাকে প্রতিসারী পাতসীমানা বলে। এখানে নতুন ভূত্বক গঠিত হয়।
২৩। জিওক্লাইন কী?
উত্তরঃ এটি মহিখাতেরই অন্য নাম। অর্থাৎ শিলামণ্ডলের অবনমিত সুদীর্ঘ ও সংকীর্ণ জলাভূমি যেখানে পলল সঞ্চিত হয়।
২৪। কোন্ দুটি পাতের সংঘর্ষে হিমালয় পর্বতের উত্থান ঘটেছে?
উত্তরঃ উত্তরে ইউরেশীয় পাত এবং দক্ষিণে ভারতীয় পাতের সংঘর্ষে হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে।
২৫। দুটি মাঝারি পাতের নাম লেখো।
উত্তরঃ (i) নাজকা পাত এবং (ii) কোকোস পাত।
২৬। আন্দিজ পর্বতের দুপাশে কোন্ দুটি পাত রয়েছে?
উত্তরঃ নাজকা পাত এবং দক্ষিণ আমেরিকান পাত।
২৭। বেনিওফ এলাকা কাকে বলে?
উত্তরঃ অভিসারী পাতসীমানায় ভারী পাতটি হালকা পাতের নিচে প্রবেশ করে যেখানে বেঁকে যায় এবং ভূমিকম্প প্রবণ হয়ে ওঠে, সেই অঞ্চলকে বেনিওফ এলাকা বলে।
২৮। অগ্ন্যুদ্গম ও আগ্নেয়গিরির তফাত কী?
উত্তরঃ ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা বাইরে বেরিয়ে আসার পদ্ধতি হলো অগ্ন্যুৎগম। আর যে পাহাড় বা পর্বতের ছিদ্রপথ দিয়ে এই ম্যাগমা বের হয়, তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
২৯। টার্সিয়ারী যুগে সৃষ্ট দুটি পর্বতের নাম লেখো।
উত্তরঃ হিমালয় এবং আল্পস।
৩০। হটস্পট কাকে বলে?
উত্তরঃ ভূ-ত্বকের নিচে অবস্থিত যে নির্দিষ্ট উত্তপ্ত অঞ্চল থেকে তেজস্ক্রিয় তাপের প্রভাবে পরিচলন স্রোতের উৎপত্তি ঘটে, তাকে হটস্পট বলে।
৩১। আন্দিজ পর্বতে রয়েছে এরূপ দুটি আগ্নেয়গিরির নাম লেখো।
উত্তরঃ (i) ওজোস ডেল সালাডো এবং (ii) চিম্বোরাজো।
ভূগোল সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (SAQ)
প্রশ্নমান - ৩ | অধ্যায়: ভূমিরূপ ও প্রক্রিয়া
১। মহিভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের পার্থক্য:
মহিভাবক আলোড়ন পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর উল্লম্বভাবে কাজ করে, যার ফলে মহাদেশীয় ভূখণ্ড উত্থিত বা অবনমিত হয়। অন্যদিকে, গিরিজনি আলোড়ন ভূপৃষ্ঠের স্পর্শক বরাবর অনুভূমিকভাবে কাজ করে। মহিভাবক আলোড়নে চ্যুতি ও স্তূপ পর্বত গঠিত হয়, কিন্তু গিরিজনি আলোড়নে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়।
৩। অবরোহণ ও আরোহণের পার্থক্য লেখো:
অবরোহণ হলো এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে আবহাওয়া বিকার ও ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে উঁচু ভূমিভাগের উচ্চতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। আরোহণ হলো নদী, বায়ু বা হিমবাহ দ্বারা বাহিত পদার্থ নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে উচ্চতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া। অবরোহণে ভূমির ঢাল কমে, আরোহণে নতুন ভূমিরূপ গঠিত হয়।
৪। অন্তর্জাত ও বহির্জাত প্রক্রিয়ার পার্থক্য কী?
পৃথিবীর অভ্যন্তরে উৎপন্ন শক্তির প্রভাবে যে ভূমিরূপ পরিবর্তন ঘটে (যেমন- অগ্নুৎপাত, ভূমিকম্প), তাকে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া বলে। এটি দ্রুত ও ধীর উভয়ই হতে পারে। আর ভূপৃষ্ঠের বাইরের প্রাকৃতিক শক্তির (নদী, বায়ু) কাজকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে। অন্তর্জাত প্রক্রিয়া নতুন ভূমি তৈরি করে, আর বহির্জাত প্রক্রিয়া তাকে সমতলে পরিণত করে।
৫। ‘পাতসংস্থান’ ধারণাটি এল কীভাবে?
১৯৬০-এর দশকে পিঁচো, মর্গ্যান, ম্যাকেঞ্জি প্রমুখ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এই ধারণা পূর্ণতা পায়। এটি মূলত মহিসঞ্চরণ মতবাদ (ওয়েগনার) এবং সমুদ্রবক্ষের বিস্তৃতি (হ্যারি হেস) ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পাতগুলির পরিচলন স্রোতের প্রভাবে চলনই এই তত্ত্বের মূল ভিত্তি।
৬। অভিসারী পাতসীমানা ধ্বংসাত্মক এবং প্রতিসারী পাতসীমানা গঠনাত্মক কেন?
অভিসারী পাতসীমানায় দুটি পাত পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং ভারী পাতটি হালকা পাতের নিচে প্রবেশ করে গুরুমণ্ডলে গলে যায়, ফলে ভূত্বকের বিনাশ ঘটে। তাই একে ধ্বংসাত্মক বলে। প্রতিসারী পাতসীমানায় পাত দুটি দূরে সরে যাওয়ায় ফাটল দিয়ে ম্যাগমা উপরে এসে নতুন ভূত্বক বা সমুদ্রবক্ষ গঠন করে, তাই একে গঠনাত্মক বলে।
৭। নবীন ও প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতের পার্থক্য লেখো:
নবীন ভঙ্গিল পর্বতগুলি টার্সিয়ারি যুগে (প্রায় ৬-৭ কোটি বছর আগে) সৃষ্ট এবং এগুলি অত্যন্ত উঁচু ও সূচালো হয় (উদা- হিমালয়)। প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতগুলি প্রাক-ক্যাম্ব্রিয়ান বা প্যালিওজোয়িক যুগে সৃষ্ট এবং দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয় পাওয়ার ফলে এগুলি উচ্চতায় কম ও গোলাকার হয় (উদা- আরাবল্লী)।
৮। কোন্ আগ্নেয়গিরিকে ‘ভূমধ্যসাগরের আলোকস্তম্ভ' বলা হয় এবং কেন?
ভূমধ্যসাগরের স্ট্রোম্বলি আগ্নেয়গিরিকে আলোকস্তম্ভ বলা হয়। কারণ, এই আগ্নেয়গিরি থেকে দীর্ঘকাল ধরে অবিরাম অগ্নুৎপাত ঘটে চলেছে। নির্গত উজ্জ্বল উত্তপ্ত লাভা ও জ্বলন্ত গ্যাসের আলোয় রাতের বেলা ভূমধ্যসাগরের আকাশ ও জলভাগ আলোকিত হয়ে থাকে, যা নাবিকদের দিকনির্ণয়ে সাহায্য করে।
৯। প্রশান্ত মহাসাগরের উভয় পাশে এত আগ্নেয়গিরি তৈরি হল কেন?
প্রশান্ত মহাসাগরের দুপাশে অভিসারী পাতসীমানা অবস্থিত। এখানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের সাথে আমেরিকা ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষ ঘটছে। ভারী সামুদ্রিক পাতটি নিচে প্রবেশ করে গলে গিয়ে প্রচুর ম্যাগমা তৈরি করে, যা ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে আগ্নেয়গিরি শৃঙ্খল বা ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয়মেখলা’ তৈরি করেছে।
১০। হোর্স্ট ও গ্রাবেন এর উৎপত্তি কীভাবে হয়?
মহিভাবক আলোড়নের ফলে ভূত্বকে সমান্তরাল চ্যুতির সৃষ্টি হয়। দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ যদি পার্শ্ববর্তী অংশ অপেক্ষা উপরে উঠে যায়, তবে সেই উঁচু অংশকে হোর্স্ট (স্তূপ পর্বত) বলে। অন্যদিকে, দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ নিচে বসে গেলে তাকে গ্রাবেন বা গ্রস্ত উপত্যকা বলা হয়।
১১। আগ্নেয় ও ক্ষয়জাত পর্বতের পার্থক্য কী?
আগ্নেয় পর্বত অগ্নুৎপাতের ফলে সঞ্চিত লাভা ও ছাই দিয়ে গঠিত হয়, এর আকৃতি শঙ্কুর মতো। ক্ষয়জাত পর্বত মূলত কোনো প্রাচীন পর্বত বা মালভূমি প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অবশিষ্ট অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকে। আগ্নেয় পর্বত গঠনাত্মক, ক্ষয়জাত পর্বত বিনাশক প্রক্রিয়ার ফল।
১২। পর্বতবেষ্টিত ও ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির পার্থক্য কী?
পর্বতবেষ্টিত মালভূমি চারদিকে পর্বতশ্রেণি দ্বারা ঘেরা থাকে এবং এটি অত্যন্ত উঁচু হয় (উদা- তিব্বত)। ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি হলো এমন একটি মালভূমি যা নদী বা অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে যায় (উদা- ছোটনাগপুর)।
১৩। শিল্ড মালভূমির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো:
(i) এগুলি পৃথিবীর প্রাচীনতম আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত। (ii) এগুলি অত্যন্ত কঠোর ও দীর্ঘকাল ধরে স্থির ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত। (iii) এগুলির উপরিভাগ দীর্ঘদিনের ক্ষয়ে প্রায় সমতল বা সামান্য ঢেউখেলানো হয়।
১৪। পেনিপ্লেন ও পেডিপ্লেনের উৎপত্তি কীভাবে ঘটে?
নদীর দীর্ঘদিনের ক্ষয়কাজের ফলে আর্দ্র অঞ্চলে গঠিত প্রায় সমতল ভূমিকে পেনিপ্লেন (Peniplen) বলে। অন্যদিকে, মরু অঞ্চলে বায়ু ও বৃষ্টির জলের মিলিত ক্ষয় ও সঞ্চয়কাজে পাহাড়ের পাদদেশে যে সমতল ভূমি তৈরি হয়, তাকে পেডিপ্লেন (Pediplen) বলে।
১৫। ভূ-আলোড়ন ও ভূমিকম্পের কী পার্থক্য?
ভূ-আলোড়ন হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের ধীর বা দ্রুত পরিবর্তন (যেমন পর্বত গঠন)। এটি দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। ভূমিকম্প হলো ভূ-অভ্যন্তরে শক্তির মুক্তির ফলে সৃষ্ট হঠাৎ কম্পন। ভূ-আলোড়ন হলো কারণ, আর ভূমিকম্প হলো তার ফল।
১৬। তিন-প্রকার পাতসীমানার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
(i) অভিসারী: দুই পাত কাছে আসে (উদা- হিমালয়)। (ii) প্রতিসারী: দুই পাত দূরে সরে যায় (উদা- মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা)। (iii) নিরপেক্ষ: দুই পাত পাশাপাশি ঘর্ষণ করে চলে যায়, কোনো ভূত্বক তৈরি বা ধ্বংস হয় না (উদা- সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি)।
১৭। তিন প্রকার পাতসীমানার চিত্র:
[attachment_0](attachment)
(ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্দেশ: খাতায় আঁকার সময় অভিসারী-তে দুই মুখী তির, প্রতিসারী-তে বিপরীত মুখী তির এবং নিরপেক্ষ-তে পাশাপাশি বিপরীত তির ব্যবহার করবে।)
১৮। পর্বত ও পাহাড়ের পার্থক্য কী?
পর্বত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ মিটারের বেশি উঁচু হয় এবং এর শৃঙ্গ বা চূড়া থাকে। পাহাড় সাধারণত ৬০০ থেকে ১০০০ মিটারের মধ্যে উঁচু হয় এবং এটি পর্বতের তুলনায় কম বন্ধুর ও ছোট হয়। পর্বতের ঢাল অত্যন্ত খাড়া হয়, পাহাড়ের ঢাল মাঝারি।
ভূগোল রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (নোটস)
শ্রেণী: নবম | প্রশ্নমান - ৫
১। ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি চিত্র ও উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
ভূমিকা: শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। আধুনিক 'পাতসংস্থান তত্ত্ব' (Plate Tectonics) অনুসারে এর উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা হলো:
উৎপত্তি প্রক্রিয়া: পাতের চলনের ফলে যখন দুটি পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে (অভিসারী পাতসীমানা), তখন তাদের মধ্যবর্তী অগভীর সমুদ্র বা মহিখাতে (Geosyncline) সঞ্চিত পলিরাশি প্রবল পার্শ্বচাপের সম্মুখীন হয়। এই চাপের ফলে পলল স্তর কুঁচকে গিয়ে ভাঁজ সৃষ্টি হয় এবং ক্রমশ উপরে উঠে ভঙ্গিল পর্বতের আকার ধারণ করে।
উদাহরণ: ভারতের হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা।
২। চিত্রসহ বিভিন্ন ধরনের পাতসীমানার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: পাতসংস্থান তত্ত্ব অনুযায়ী পাতসীমানা প্রধানত তিন প্রকার:
- ১. অভিসারী পাতসীমানা (Convergent Boundary): যখন দুটি পাত পরস্পরের অভিমুখে এগিয়ে আসে। এখানে একটি পাত অন্যটির নিচে প্রবেশ করে ধ্বংস হয় বলে একে 'ধ্বংসাত্মক পাতসীমানা' বলে। এর ফলে ভঙ্গিল পর্বত বা আগ্নেয় দ্বীপ সৃষ্টি হয়।
- ২. প্রতিসারী পাতসীমানা (Divergent Boundary): যখন দুটি পাত পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়। ফাটল দিয়ে ম্যাগমা উঠে এসে নতুন ভূত্বক গঠন করে বলে একে 'গঠনাত্মক পাতসীমানা' বলে। এর ফলে মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা গঠিত হয়েছে।
- ৩. নিরপেক্ষ পাতসীমানা (Transform Boundary): এখানে পাত দুটি পাশাপাশি ঘর্ষণ করে চলে যায়। কোনো ভূত্বক তৈরি বা ধ্বংস হয় না। এর ফলে চ্যুতি (যেমন- সান আন্দ্রিয়াস চ্যুতি) সৃষ্টি হয়।
৩। চিত্রসহ আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা যখন অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে, তখন তাকে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টির প্রক্রিয়া বলা হয়।
প্রক্রিয়া: ভূত্বকের কোনো দুর্বল ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূ-গর্ভের গলিত ম্যাগমা, ছাই, পাথর, ধোঁয়া প্রবল বেগে বাইরে বেরিয়ে আসে (লাভা)। এই লাভা ও ছাই ছিদ্রপথের চারদিকে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে উঁচু শঙ্কু আকৃতির পাহাড় বা পর্বত গঠন করে। সঞ্চয়ের ফলে তৈরি হয় বলে একে 'সঞ্চয়জাত পর্বত'ও বলা হয়।
উদাহরণ: ইতালির ভিসুভিয়াস, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ভারতের ব্যারেন আগ্নেয়গিরি।
৪। ভঙ্গিল ও স্তূপ পর্বতের বৈশিষ্ট্য লেখো।
ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্য:
১. এই পর্বত কুঞ্চিত বা ভাঁজযুক্ত শিলাস্তর দিয়ে গঠিত।
২. এটি মূলত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত এবং এতে জীবাশ্ম দেখা যায়।
৩. এই পর্বতের বিস্তার ও উচ্চতা অন্যান্য পর্বতের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
৪. ভঙ্গিল পর্বতের শৃঙ্গগুলি অত্যন্ত সূচালো হয়।
স্তূপ পর্বতের বৈশিষ্ট্য:
১. এটি ভূ-আলোড়নের ফলে সৃষ্ট চ্যুতির মাধ্যমে গঠিত হয়।
২. স্তূপ পর্বতের উপরিভাগ সাধারণত সমতল বা চ্যাপ্টা আকৃতির হয়।
৩. এর পার্শ্বদেশ বা ঢাল অত্যন্ত খাড়া হয়।
৪. এই পর্বতে ভঙ্গিল পর্বতের মতো কোনো ভাঁজ বা জীবাশ্ম দেখা যায় না।
৫। চিত্রসহ স্তূপ পর্বতের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মহিভাবক আলোড়নের ফলে শিলাস্তরে প্রসারণ বা সংকোচনের সৃষ্টি হলে সেখানে চ্যুতি (Fault) তৈরি হয়।
উৎপত্তি পদ্ধতি: ১. দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ যদি পার্শ্ববর্তী অংশ অপেক্ষা উপরে উঠে যায়, তবে তাকে স্তূপ পর্বত বা 'হোর্স্ট' (Horst) বলে। ২. আবার অনেক সময় দুই পাশের ভূখণ্ড নিচে বসে গেলে মাঝখানের অংশটি উঁচু হয়ে স্তূপ পর্বত হিসেবে অবস্থান করে।
[attachment_1](attachment)উদাহরণ: ভারতের সাতপুরা ও বিন্ধ্য পর্বত এবং জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট স্তূপ পর্বতের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৬। মানুষের জীবনের উপর পর্বত কীরূপ প্রভাব ফেলে?
উত্তর: মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পর্বতের প্রভাব অপরিসীম:
- ১. নদীর উৎস: পর্বতগুলি বৃষ্টির জল বা বরফ গলা জল সঞ্চয় করে রাখে, যা থেকে গঙ্গা, সিন্ধু বা ব্রহ্মপুত্রের মতো চিরপ্রবাহী নদীর জন্ম হয়।
- ২. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: সুউচ্চ পর্বত প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুকে বাধা দেয় এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় (যেমন হিমালয়)। আবার শীতল বায়ুকে বাধা দিয়ে শীতের প্রকোপ কমায়।
- ৩. বনজ সম্পদ: পার্বত্য অঞ্চলের বনভূমি থেকে কাঠ, মধু, মোম ও মূল্যবান ওষুধি গাছ পাওয়া যায়।
- ৪. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: পার্বত্য নদীর প্রবল স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
- ৫. পর্যটন ও খনিজ: মনোরম পরিবেশের জন্য পর্বত পর্যটন শিল্পে সহায়ক এবং অনেক ক্ষেত্রে পর্বতে মূল্যবান খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়।
এই নোটসটি Teach Vibes ব্লগের পাঠকদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভূগোল রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (পার্ট - ২)
শ্রেণী: নবম | প্রশ্নমান - ৫
৭। চিত্রসহ প্রধান দু'প্রকার মালভূমির উৎপত্তি লেখো।
১. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি (Intermontane Plateau): মহিভাবক বা গিরিজনি আলোড়নের সময় যখন বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড উঁচু হয়, তখন তার চারপাশ সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি দ্বারা ঘেরা থাকলে তাকে পর্বতবেষ্টিত মালভূমি বলে। পলিরাশি চাপের ফলে উপরে ওঠার সময় মাঝখানের অংশ মালভূমি হিসেবে রয়ে যায়। উদাহরণ: তিব্বত মালভূমি (হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে)।
[attachment_0](attachment)২. লাভা মালভূমি (Lava Plateau): ভূ-ত্বকের কোনো ফাটল দিয়ে ভূ-গর্ভের তরল ম্যাগমা ধীরগতিতে শান্তভাবে বাইরে বেরিয়ে এসে (বিদার অগ্ন্যুৎপাত) বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। কালক্রমে এই লাভাস্তর শীতল ও কঠিন হয়ে চ্যাপ্টা আকৃতির মালভূমি গঠন করে। উদাহরণ: ভারতের দাক্ষিণাত্যের মালভূমি (ডেকানট্র্যাপ)।
[attachment_1](attachment)৮। ক্ষয়কার্যের মাধ্যমে সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: প্রাকৃতিক শক্তির (নদী, বায়ু, হিমবাহ) ক্রমাগত ক্ষয়কাজের ফলে উচ্চভূমি সমভূমিতে পরিণত হয়। এর প্রধান দুটি ভাগ হলো:
- ১. সমপ্রায়ভূমি (Peneplain): আর্দ্র অঞ্চলে নদীর দীর্ঘদিনের ক্ষয়কাজের ফলে কোনো উচ্চভূমি বা মালভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় নেমে আসে। একে সমপ্রায়ভূমি বলে। এখানে মাঝে মাঝে কঠিন শিলার অবশিষ্টাংশ হিসেবে 'মোনাডনক' দেখা যায়।
- ২. পেডিপ্লেন (Pediplain): মরু বা আধা-মরু অঞ্চলে বায়ু ও বৃষ্টির জলের মিলিত প্রভাবে পাহাড়ের পাদদেশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি তৈরি হয়, তাকে পেডিপ্লেন বলে। এখানে অবশিষ্ট টিলা হিসেবে 'ইনসেলবার্জ' দেখা যায়।
- ৩. তরঙ্গায়িত সমভূমি: সমুদ্র তরঙ্গের আঘাতে উপকূলবর্তী উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এই সমভূমি গঠিত হয়।
৯। সঞ্চয়কার্যে গঠিত প্রধান তিনপ্রকার সমভূমির উৎপত্তি প্রক্রিয়া লেখো।
১. প্লাবন সমভূমি (Flood Plain): বর্ষাকালে নদীর নিম্নগতিতে জলের পরিমাণ বেড়ে গেলে দুকূল প্লাবিত হয়। এই প্লাবনের সময় বাহিত পলি, বালি, কাদা নদীর দুই তীরে সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর সমভূমি গঠন করে তাকে প্লাবন সমভূমি বলে (উদা: গাঙ্গেয় সমভূমি)।
২. বদ্বীপ সমভূমি (Delta Plain): নদীর মোহনায় যেখানে নদী সমুদ্রে মেশে, সেখানে স্রোতের বেগ কমে যাওয়ায় বাহিত পলি সমুদ্রবক্ষে সঞ্চিত হয়ে গ্রিক বর্ণ 'ডেল্টা' বা 'ব'-এর মতো সমভূমি তৈরি করে (উদা: সুন্দরবন বদ্বীপ)।
৩. লোয়েস সমভূমি (Loess Plain): মরুভূমি অঞ্চলের অত্যন্ত সূক্ষ্ম বালিকণা বায়ুপ্রবাহের দ্বারা বহুদূরে (হাজার হাজার কিমি) বাহিত হয়ে কোনো নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে লোয়েস সমভূমি বলে (উদা: চিনের হোয়াংহো অববাহিকা)।
১০। সমভূমি মানুষের জীবনে কীরূপ প্রভাব ফেলে?
উত্তর: সমভূমি হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বসতি অঞ্চল। এর প্রভাবগুলি হলো:
- কৃষিকাজ: উর্বর পলিমাটি ও জলের সহজলভ্যতার জন্য সমভূমি কৃষিকাজে অত্যন্ত উন্নত, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
- শিল্পায়ন: কাঁচামালের সহজ লভ্যতা, সমতল জমি এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির কারণে বড় বড় শিল্প কারখানা সমভূমিতেই গড়ে ওঠে।
- যোগাযোগ ব্যবস্থা: সমতল ভূমিতে রেলপথ, সড়কপথ ও খাল খনন করা অত্যন্ত সহজ ও খরচ কম, যা বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
- জনবসতি: জীবনধারণের অনুকূল পরিবেশ থাকায় পৃথিবীর অধিকাংশ বড় শহর ও ঘন জনবসতি সমভূমি অঞ্চলেই অবস্থিত।
১১। ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কীভাবে গঠিত হয়? এর সাথে পর্বতবেষ্টিত মালভূমির পার্থক্য কী?
ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির গঠন: কোনো প্রাচীন উচ্চ মালভূমি অঞ্চল যখন নদী, হিমবাহ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন নদী উপত্যকাগুলি মালভূমিটিকে ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত করে দেয়। দূর থেকে মনে হয় মালভূমিটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একেই ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে (উদা: ছোটনাগপুর মালভূমি)।
| বৈশিষ্ট্য | ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি | পর্বতবেষ্টিত মালভূমি |
|---|---|---|
| উৎপত্তি | ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট। | ভূ-আলোড়নের ফলে সৃষ্ট। |
| অবস্থান | নদী উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন। | পর্বত দ্বারা বেষ্টিত। |
| উচ্চতা | অপেক্ষাকৃত কম। | অত্যন্ত বেশি। |
১২। অগ্ন্যুৎপাতের সময়ের ব্যবধান অনুসারে আগ্নেয়গিরির শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর: অগ্ন্যুৎপাতের সক্রিয়তা ও সময় অনুসারে আগ্নেয়গিরিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
- ১. সজাগ বা সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano): যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে বর্তমানে অবিরাম বা মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত ঘটছে। উদা: ইতালির স্ট্রোম্বলি, ভারতের ব্যারেন।
- ২. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano): যে সকল আগ্নেয়গিরি অতীতে সক্রিয় ছিল কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘকাল শান্ত আছে, তবে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে পারে। উদা: জাপানের ফুজিয়ামা।
- ৩. মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano): যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সুদূর অতীতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল কিন্তু ভবিষ্যতে অগ্ন্যুৎপাতের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। উদা: মায়ানমারের মাউন্ট পোপা।
এই শিক্ষামূলক কন্টেন্টটি Teach Vibes ব্লগের জন্য নিবেদিত।
💡 আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ ও পরীক্ষার টিপস
"সাফল্য মানেই হলো প্রস্তুতির সাথে সুযোগের মিলন।"
১. খাতার প্রেজেন্টেশন: ভূগোলের ৫ নম্বরের প্রশ্নে অন্তত ১টি করে প্রাসঙ্গিক চিত্র দেওয়ার চেষ্টা করবে। এতে পরীক্ষক তোমার খাতার প্রতি আলাদা গুরুত্ব দেন।
২. ম্যাপ পয়েন্ট করা: প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ম্যাপ প্র্যাকটিস করো। এটি ছাঁকা নম্বর পাওয়ার সেরা উপায়।
৩. সময়ের সঠিক ব্যবহার: বড় প্রশ্নগুলো আগে লিখে নিয়ে তারপর ছোট প্রশ্নে হাত দিলে সময় ম্যানেজ করা সহজ হয়।
৪. আত্মবিশ্বাস রাখো: পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম খুব জরুরি। নিজেকে বলো, "আমি সব পারবো!"
প্রস্তুতি কি মজবুত তো? 🚀
এই নোটসগুলো তোমার কেমন লাগলো? নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাও। তোমার একটি শেয়ার অন্য কোনো বন্ধুর উপকারে আসতে পারে!
© ২০২৬ | Teach Vibes - শিক্ষার নতুন দিগন্ত

0 মন্তব্যসমূহ