পথের দাবী গল্পের প্রশ্নোত্তর - মাধ্যমিক ২০২৬ সাজেশন ও নোটস

 পথের দাবী গল্পের প্রশ্নোত্তর

পথের-দাবী-গল্পের-প্রশ্নোত্তর


শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশের প্রশ্নোত্তর

১. 'পথের দাবী' উপন্যাসটি কবে প্রকাশিত হয়েছিল?

উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয়েছিল।

২. পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ধরার জন্য পুলিশ কোন স্টেশনে ওত পেতে ছিল?

উত্তর: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ধরার জন্য পুলিশ ব্রহ্মদেশের (বর্তমান মায়ানমার) রেঙ্গুন স্টেশনে ওত পেতে ছিল।

৩. গিরিশ মহাপাত্রের ট্যাঁক ও পকেট থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছিল?

উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের ট্যাঁক থেকে একটি টাকা ও গণ্ডাছয়েক পয়সা পাওয়া গিয়েছিল। তার পকেট থেকে একটা লোহার কম্পাস, মাপ করার কাঠের একটা ফুটরুল, কয়েকটা বিড়ি, একটা দেশলাই এবং একটা গাঁজার কলিকা পাওয়া গিয়েছিল।

৪. "অপূর্ব রাজি হইয়াছিল"— অপূর্ব কিসে রাজি হয়েছিল?

উত্তর: রামদাসের স্ত্রী যখন অপূর্বকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছিলেন যে, যতদিন না অপূর্বর মা বা বাড়ির আর কোনো আত্মীয় রেঙ্গুনে আসছেন, ততদিন অপূর্বকে তাঁর হাতের তৈরি সামান্য মিষ্টান্ন প্রতিদিন গ্রহণ করতে হবে— অপূর্ব এই প্রস্তাবেই রাজি হয়েছিল।

৫. "বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো"— এখানে বুড়ো মানুষ কে? তিনি কাকে কী বলেছিলেন?

উত্তর: এখানে 'বুড়ো মানুষ' বলতে পুলিশ নিমাইবাবুকে বোঝানো হয়েছে। তিনি ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক অর্থাৎ গিরিশ মহাপাত্রকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, গাঁজা খাওয়ার অভ্যাসটি যেন সে ত্যাগ করে।

৬. গিরিশ মহাপাত্রের খড়ম জোড়াটি কী দিয়ে তৈরি ছিল?

উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের খড়ম জোড়াটি কাঠের তৈরি ছিল এবং তাতে রবারের তলা লাগানো ছিল।

৭. "ইনি আমার আত্মীয়, আমার গুরুজন"— এখানে কার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: এখানে অপূর্ব তার বড়বাবু অর্থাৎ রেঙ্গুন পুলিশের বড়কর্তা নিমাইবাবুর কথা বলেছে।

'পথের দাবী' - সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (৩ নম্বর)

১. "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।" — বাবুটি কে? তাঁর সাজসজ্জার বর্ণনা দিয়ে কেন এমন বলা হয়েছে তা বুঝিয়ে দাও।

বাবুটির পরিচয়: আলোচ্য অংশে 'বাবুটি' বলতে ছদ্মবেশী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক ওরফে গিরিশ মহাপাত্রকে বোঝানো হয়েছে।

সাজসজ্জার বর্ণনা: গিরিশ মহাপাত্রের পরনে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, বিলেতি মখমলের সবুজ রঙের কোট এবং ল্যাভেন্ডার রঙের সিল্কের রুমাল। পায়ে ছিল রবারের তলা লাগানো খড়ম এবং হাতে একটি হরিণের সিং-এর হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি।

মন্তব্যের কারণ: পুলিশ স্টেশনে হাজির করা এই মানুষটির শরীর ছিল অত্যন্ত রোগা এবং কাশি দেখে মনে হচ্ছিল যেন যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত। কিন্তু এমন ভগ্ন স্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তার বেশভূষায় যে উগ্র শৌখিনতা ও রঙের বাহার ছিল, তা দেখে অপূর্ব রসিকতা করে উক্তিটি করেছিল।

২. "পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে নিমাইবাবুর সম্মুখে হাজির করা হইল।" — সব্যসাচী মল্লিককে দেখে নিমাইবাবুর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল? গিরিশ মহাপাত্রের বর্ণনা দাও।

নিমাইবাবুর প্রতিক্রিয়া: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ধরার জন্য পুলিশ অত্যন্ত তৎপর ছিল। কিন্তু গিরিশ মহাপাত্রের বেশভূষা এবং ভগ্ন স্বাস্থ্য দেখে নিমাইবাবু হতাশ হন। তার মনে হয়েছিল এই রোগা ও জরাজীর্ণ মানুষটি কখনোই দুর্ধর্ষ বিপ্লবী সব্যসাচী হতে পারেন না। তাই তিনি কিছুটা ব্যঙ্গ মিশ্রিত করুণার সঙ্গেই তাকে পরীক্ষা করেছিলেন।

গিরিশ মহাপাত্রের বর্ণনা:

  • তার বয়স ছিল ত্রিশ-বত্রিশের মতো, কিন্তু স্বাস্থ্য ছিল অত্যন্ত রুগ্ন।
  • গায়ের রঙ ফর্সা হলেও তামাটে হয়ে গিয়েছিল, চোখ দুটি ছিল গভীর ও অত্যন্ত উজ্জ্বল।
  • তার মাথার সামনের দিকে বড় চুল থাকলেও পেছনের দিকে ছিল ছোট করে ছাঁটা এবং মাথার চুলে লেবুর তেলের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।

৩. "ইহা যে কত বড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা দিন পরেই সে অনুভব করিল।" — কার কোন ভ্রান্তির কথা বলা হয়েছে? সে কীভাবে তা অনুভব করল?

ভ্রান্তির কথা: এখানে অপূর্বর একটি ভুল ধারণার কথা বলা হয়েছে। অপূর্ব মনে করেছিল যে বিদেশের মাটিতে তার স্বজাতির মানুষ অর্থাৎ ভারতীয়রা তাকে ঠকালেও, তার ব্রাহ্মণ পদমর্যাদা এবং সাহেবদের অফিসে তার উচ্চ পদের কারণে ইংরেজরা অন্তত তাকে অপমান করবে না।

অনুভবের কারণ: রেল ভ্রমণের সময় প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেবল 'কালা আদমি' বা ভারতীয় হওয়ার অপরাধে পুলিশ তাকে জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। এমনকি স্টেশন মাস্টারকে অভিযোগ জানাতে গেলে তাকে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দিয়ে অপমান করা হয়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই অপূর্ব বুঝতে পারে যে ইংরেজদের কাছে জাতিবিদ্বেষই বড় কথা।

৪. "বুনো হাঁস ধরায় এদের কাজ।" — বক্তা কে? কাদের সম্বন্ধে কেন এমন উক্তি করা হয়েছে?

বক্তা: উক্তিটির বক্তা হলেন রেঙ্গুন পুলিশের বড়কর্তা নিমাইবাবু

উদ্দেশ্য: নিমাইবাবু নিজের পুলিশ দপ্তরের কর্মচারীদের কর্মপদ্ধতি ও ব্যর্থতা সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন।

ব্যাখ্যা: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ধরার জন্য পুলিশ যে পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন করেছিল, তার শেষে গিরিশ মহাপাত্রের মতো এক রুগ্ন গাঁজাখোরকে ধরে আনা নিমাইবাবুর কাছে হাস্যকর মনে হয়েছিল। বিপ্লবীদের ধরতে গিয়ে পুলিশ যেভাবে ভুল মানুষকে সন্দেহ করে হয়রানি করছিল, তাকেই তিনি নিষ্ফল 'বুনো হাঁস ধরা'র শ্রমের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

'পথের দাবী' - রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (৫ নম্বর)

১. গিরিশ মহাপাত্রের সাজসজ্জা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দাও।

বিচিত্র সাজসজ্জা: গিরিশ মহাপাত্রের সাজসজ্জা ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত ও রঙচঙে। তার পরনে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি, তার ওপর বিলেতি মখমলের সবুজ রঙের কোট। গলায় ল্যাভেন্ডার রঙের সিল্কের রুমাল এবং পায়ে খড়ম থাকলেও তাতে রবারের তলা লাগানো ছিল। হাতে ছিল হরিণের শিং-এর হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি।

ভগ্ন স্বাস্থ্য: তার বয়স ছিল ত্রিশ-বত্রিশের মতো। চেহারা ছিল অত্যন্ত রুগ্ন ও কৃশ। অনবরত কাশির কারণে মনে হচ্ছিল সে হয়তো বেশিদিন বাঁচবে না। তবে তার গভীর ও উজ্জ্বল চোখের দৃষ্টি ছিল অত্যন্ত অর্থবহ।

উপস্থিত বুদ্ধি: পুলিশের জেরার মুখে সে অত্যন্ত শান্ত ও স্বাভাবিক ছিল। পকেটে গাঁজার কলিকা পাওয়া গেলেও সে অবলীলায় জানায় যে সেটি সে কুড়িয়ে পেয়েছে এবং অন্যকে দেওয়ার জন্য রেখেছে।

ছদ্মবেশ ধারণে নিপুণতা: গিরিশ আসলে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক। পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য সে নিজেকে এক জন সাধারণ শৌখিন ও রুগ্ন মানুষ হিসেবে সফলভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছিল।

২. অপূর্ব চরিত্রটির বিশ্লেষণ: স্বদেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাবোধ।

জাতীয়তাবাদী চেতনা: অপূর্ব ছিল মনেপ্রাণে একজন দেশপ্রেমিক। বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে সে মনে-প্রাণে শ্রদ্ধা করত এবং তার গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল। সে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, তার কাছে দেশের মুক্তিই প্রধান।

বিপ্লবীদের প্রতি সহানুভূতি: পুলিশ স্টেশনে গিরিশ মহাপাত্রের মতো সাধারণ মানুষকে হেনস্থা হতে দেখে সে ব্যথিত হয়। সে নিজের জাতির মানুষকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার কাজকে ঘৃণা করত।

আত্মমর্যাদাবোধ ও আঘাত: রেল স্টেশনে বিনা অপরাধে ইংরেজ পুলিশের হাতে অপদস্থ হওয়ার পর তার আত্মমর্যাদায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। সে বুঝতে পারে যে পরাধীন দেশে একজন শিক্ষিত ভারতীয়র সম্মানের কোনো মূল্য নেই।

প্রতিবাদী সত্তা: অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদী সত্তা জাগ্রত হয় যখন সে দেখে যে ইউরোপীয় হওয়ার অপরাধে সাহেবরা অন্যায় করেও ছাড় পেয়ে যায়, আর विद्यार्थ्यांनी লাঞ্ছিত হয়।

৩. পুলিশ স্টেশনে কথোপকথন ও পুলিশের ব্যর্থতা।

কথোপকথনের ধরন: নিমাইবাবু যখন গিরিশকে তার গাঁজা খাওয়ার নেশা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন গিরিশ অত্যন্ত কৌতুকপূর্ণ ও সরলভাবে উত্তর দেয়। সে দাবি করে সে নিজে গাঁজা খায় না, কেবল পথে কুড়িয়ে পাওয়া কলিকাটি পকেটে রেখেছে।

রসিকতা ও ব্যঙ্গ: গিরিশের উদ্ভট সাজপোশাক এবং তেলের গন্ধ নিয়ে অপূর্ব ও নিমাইবাবু যে রসিকতা করেন, গিরিশ তা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে মেনে নেয়। তার এই 'বোকা' সাজার অভিনয়ই ছিল তার প্রধান অস্ত্র।

পুলিশের ব্যর্থতা: রাজদ্রোহী সব্যসাচীকে ধরার জন্য পুলিশ রেঙ্গুন স্টেশনে জাল পেতেছিল। কিন্তু গিরিশের রুগ্ন চেহারা এবং অদ্ভুত সাজগোজ দেখে তারা এতটাই নিশ্চিত হয়ে যায় যে সে কোনো বিপ্লবী হতে পারে না, যে তারা তাকে ছেড়ে দেয়।

বিদ্রূপ: একজন দুর্ধর্ষ বিপ্লবী পুলিশের চোখের সামনে দিয়েই নির্বিঘ্নে চলে গেলেন, অথচ পুলিশ তাকে কেবল একজন 'গাঁজাখোর' ভেবে উপহাস করল— এটাই ছিল পুলিশের চরম ব্যর্থতা।

৪. সব্যসাচীকে ধরার তৎপরতা ও পুলিশের ব্যর্থতার বিদ্রূপ।

পুলিশের তোড়জোড়: বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে ধরার জন্য ব্রিটিশ পুলিশ অত্যন্ত তৎপর ছিল। রেঙ্গুন বন্দরে জাহাজ আসার সাথে সাথে প্রতিটি যাত্রীকে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। সন্দেহভাজনদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিদ্রূপাত্মক পরিস্থিতি: নিমাইবাবু এবং জগদীশবাবু অত্যন্ত অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার হওয়া সত্ত্বেও গিরিশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশ ধরতে ব্যর্থ হন। তারা গিরিশের রুগ্ন দেহ দেখে তাকে করুণা করেন।

প্রকৃত বিপ্লবী বনাম ধারণা: পুলিশের ধারণা ছিল বিপ্লবী মানেই বলিষ্ঠ চেহারার কেউ হবে। কিন্তু সব্যসাচী যে একজন রুগ্ন মানুষের ছদ্মবেশে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে রসিকতা করে চলে যাবেন, তা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।

উপসংহার: লেখক দেখিয়েছেন যে বিপ্লবীদের মেধা ও বুদ্ধির কাছে সাম্রাজ্যবাদী পুলিশের পেশীশক্তির পরাজয় ঘটে। এটিই গল্পের মূল বিদ্রূপ।

৫. রেল স্টেশনে অপূর্বর অপদস্থ হওয়ার ঘটনা ও তার প্রভাব।

ঘটনার বিবরণ: ভামো যাওয়ার পথে ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামরায় একা ঘুমানোর সময় পুলিশ গভীর রাতে অপূর্বকে জাগিয়ে তুলে তল্লাশি করে। তারা তার জাতির দোহাই দিয়ে তাকে জেরা করে এবং কামরা থেকে নামিয়ে দেওয়ার উপক্রম করে।

স্টেশন মাস্টারের ভূমিকা: সকালে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্টেশন মাস্টারের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি অপূর্বর কথা না শুনে তাকে 'কালা আদমি' বলে অপমান করে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দেন।

প্রভাব: এই ঘটনা অপূর্বর মনে গভীর রেখাপাত করে। সে উপলব্ধি করে যে কেবল পড়াশোনা বা পদমর্যাদা দিয়ে বিদেশি শাসকের কাছে সম্মান পাওয়া অসম্ভব।

মানসিক পরিবর্তন: এই তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আরও বিদ্রোহী করে তোলে এবং দেশের স্বাধীনতা যে কতটা জরুরি, তা সে মর্মে মর্মে অনুভব করে।

পরামর্শ: মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে এই পয়েন্টগুলোর সাথে টেক্সট বইয়ের কিছু উদ্ধৃতি (যেমন— "ইহা যে কত বড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা দিন পরেই সে অনুভব করিল") ব্যবহার করা জরুরি।

'পথের দাবী' - ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর

ক্র. নং প্রশ্ন উত্তর
'পথের দাবী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পলিটিক্যাল সাসপেক্ট-এর নাম কী ছিল?সব্যসাচী মল্লিক
সব্যসাচী মল্লিককে ধরার জন্য পুলিশ কোন স্টেশনে ওত পেতে ছিল?রেঙ্গুন
গিরিশ মহাপাত্রের বয়স আনুমানিক কত ছিল?৩০-৩২ বছর
গিরিশ মহাপাত্রের পাঞ্জাবির রঙ কেমন ছিল?রামধনু রঙের
গিরিশ মহাপাত্রের কোটটি কী দিয়ে তৈরি ছিল?বিলেতি মখমল
তার রুমালটি কোন রঙের ছিল?ল্যাভেন্ডার রঙের
গিরিশের খড়ম জোড়ায় কিসের তলা লাগানো ছিল?রবারের
গিরিশ মহাপাত্রের হাতে কী ছিল?বেতের ছড়ি
১০পুলিশের বড়কর্তার নাম কী ছিল?নিমাইবাবু
১১জগদীশবাবু কে ছিলেন?পুলিশ অফিসার
১২গিরিশ মহাপাত্রের ট্যাঁক থেকে কত টাকা পাওয়া যায়?একটি টাকা
১৩তার ট্যাঁকে কত গণ্ডা পয়সা ছিল?গণ্ডাছয়েক
১৪গিরিশের পকেটে কী পাওয়া গিয়েছিল?গাঁজার কলিকা
১৫অপূর্বর বাবার বন্ধু কে ছিলেন?নিমাইবাবু
১৬গিরিশের চুলে কিসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল?লেবুর তেলের
১৭"ইনি আমার আত্মীয়, আমার গুরুজন"— এখানে কার কথা বলা হয়েছে?নিমাইবাবু
১৮অপূর্ব ট্রেনে কোন ক্লাসের যাত্রী ছিল?প্রথম শ্রেণী
১৯অপূর্ব কোথায় কাজ করত?সাহেবদের অফিসে
২০রেল স্টেশনে অপূর্বকে কে অপমান করেছিল?ইউরোপীয় পুলিশ
২১স্টেশন মাস্টার অপূর্বকে কী বলে গালি দিয়েছিলেন?কালা আদমি
২২অপূর্ব কোন স্টেশনে পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়ে?ভামো
২৩তেওয়ারি কোথায় গিয়েছিল?ফয়া দেখতে
২৪অপূর্বর ব্রাহ্মণত্বকে কে শ্রদ্ধা করতেন?রামদাসের স্ত্রী
২৫রামদাসের পদবি কী ছিল?তলোয়ারকর
২৬"বুনো হাঁস ধরায় এদের কাজ"— উক্তিটি কার?নিমাইবাবু
২৭গিরিশের ছড়িটি কিসের হাতলযুক্ত ছিল?হরিণের সিং-এর
২৮সব্যসাচী মল্লিক আসলে কে ছিলেন?বিপ্লবী
২৯'পথের দাবী' উপন্যাসটি কবে প্রকাশিত হয়?১৯২৬ সালে
৩০গল্পে উল্লেখিত নিমাইবাবু কোন পদে ছিলেন?পুলিশের বড়কর্তা

'পথের দাবী' উপন্যাসের বিষয়বস্তু ও নামকরণের সার্থকতা

পথের দাবী উপন্যাসের বিষয়বস্তু

কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী রাজনৈতিক উপন্যাস 'পথের দাবী'। এই উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো পরাধীন ভারতবর্ষের মুক্তি আন্দোলনের সংগ্রাম এবং বিপ্লবীদের আদর্শ।

মূল কেন্দ্রবিন্দু: উপন্যাসের মূল চরিত্র হলো সব্যসাচী মল্লিক, যিনি একজন দুর্ধর্ষ বিপ্লবী। তিনি 'পথের দাবী' নামক একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠনের নায়ক। বিদেশের মাটিতে বসে ভারতের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য।

কাহিনী সংক্ষেপ: গল্পের প্রেক্ষাপট মূলত ব্রহ্মদেশ (বর্তমান মায়ানমার)। ব্রিটিশ পুলিশের নজর এড়িয়ে সব্যসাচী কীভাবে ছদ্মবেশে দেশপ্রেমের বীজ বপন করেন, তা এখানে ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি অপূর্ব নামক এক মধ্যবিত্ত বাঙালির নৈতিক টানাপোড়েন, তার স্বদেশপ্রেম এবং রেলে ইংরেজ পুলিশের হাতে তার লাঞ্ছনার অভিজ্ঞতা এই উপন্যাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

নারীর ভূমিকা: এই উপন্যাসে ভারতীসুমিত্রার মতো নারী চরিত্রগুলোর মাধ্যমে বিপ্লবে নারীদের অবদান ও মানবিক মূল্যবোধের সংঘাতকেও লেখক নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। একদিকে সশস্ত্র সংগ্রাম আর অন্যদিকে মানবিক প্রেম—এই দুইয়ের সমন্বয়ে উপন্যাসটি এক অনন্য রূপ পেয়েছে।

নামকরণের সার্থকতা

সাহিত্যে নামকরণের মাধ্যমে রচনার মূল সুরটি ধরা পড়ে। 'পথের দাবী' উপন্যাসটির নামকরণের ক্ষেত্রে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এক গভীর রাজনৈতিক ও দার্শনিক বার্তা দিয়েছেন।

  • বিপ্লবের পথ: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় বিপ্লবী সংগঠনের নামই হলো 'পথের দাবী'। এই নামটি নির্দেশ করে যে ভারতের মুক্তির পথটি কেবল আলোচনার নয়, বরং ত্যাগের ও সংগ্রামের। এই সংগঠনের সদস্যদের কাছে দেশের মুক্তিই হলো জীবনের সবচেয়ে বড় 'দাবী' বা অধিকার।
  • নিপীড়িতের অধিকার: 'পথের দাবী' শব্দের অর্থ হলো যারা পথের মানুষ বা সাধারণ নিপীড়িত জনগণ, তাদের অধিকার। ব্রিটিশ শাসনে শোষিত মানুষেরা যে পথে দাঁড়িয়ে লড়াই করছে, সেই লড়াইয়ের ন্যায্য অধিকারকেই এই নাম দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
  • ব্যক্তিক বনাম রাজনৈতিক: উপন্যাসে সব্যসাচী মনে করেন স্বাধীনতার জন্য যেকোনো ব্যক্তিগত মায়া-মমতা ত্যাগ করা প্রয়োজন। তাঁর কাছে আদর্শের পথই চূড়ান্ত। এই 'পথ' বেছে নেওয়ার জন্য যে আত্মত্যাগ করতে হয়, তাই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।

উপসংহার: উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় সব্যসাচীর বিপ্লবী সত্তা এবং দেশপ্রেমের যে কঠিন পথের কথা বলা হয়েছে, তার নিরিখে 'পথের দাবী' নামটি অত্যন্ত সার্থক ও ব্যঞ্জনাধর্মী হয়েছে।

'পথের দাবী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রসমূহ

১. সব্যসাচী মল্লিক (গিরিশ মহাপাত্র)

পরিচয়: তিনি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং 'পথের দাবী' নামক বিপ্লবী সংগঠনের প্রধান নেতা।

বৈশিষ্ট্য: তিনি একাধারে ডাক্তার, বহুভাষাবিদ এবং একজন অকুতোভয় দেশপ্রেমিক। পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য তিনি 'গিরিশ মহাপাত্র' নামক এক রুগ্ন, শৌখিন ও অদ্ভুত মানুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। তাঁর প্রখর বুদ্ধি এবং অদম্য দেশপ্রেমই উপন্যাসের মূল চালিকাশক্তি।

২. অপূর্ব

পরিচয়: তিনি একজন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি যুবক, যিনি জীবিকার সন্ধানে রেঙ্গুনে গিয়েছিলেন।

বৈশিষ্ট্য: অপূর্ব চরিত্রটির মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষের দেশপ্রেম ও আত্মমর্যাদাবোধ ফুটে উঠেছে। তিনি বিপ্লবী সব্যসাচীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। রেল স্টেশনে ইংরেজ পুলিশের হাতে অপমানিত হওয়ার পর তাঁর ব্রিটিশবিরোধী চেতনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

৩. ভারতী

পরিচয়: তিনি এই উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র এবং বিপ্লবী দলের অন্যতম সদস্যা।

বৈশিষ্ট্য: ভারতী একদিকে যেমন দেশপ্রেমিক, অন্যদিকে তেমনি অত্যন্ত দয়ালু ও মানবিক। সশস্ত্র বিপ্লবের চেয়ে তিনি মানুষের সেবা ও শান্তির পথকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। অপূর্বর প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং সব্যসাচীর প্রতি তাঁর অগাধ ভক্তি চরিত্রটিকে অনন্য করে তুলেছে।

৪. নিমাইবাবু

পরিচয়: তিনি রেঙ্গুন পুলিশের বড়কর্তা এবং অপূর্ব’র বাবার বন্ধু।

বৈশিষ্ট্য: ব্রিটিশ সরকারের অনুগত কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে বাঙালি সুলভ স্নেহ মমতা ছিল। সব্যসাচীকে ধরার জন্য তিনি অত্যন্ত তৎপর ছিলেন, কিন্তু গিরিশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশের কাছে শেষ পর্যন্ত তিনি পরাজিত হন।

৫. রামদাস তলোয়ারকর

পরিচয়: তিনি অপূর্বর সহকর্মী এবং বন্ধু।

বৈশিষ্ট্য: রামদাস একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক মানুষ। অপূর্বর লাঞ্ছনার কথা শুনে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁর স্ত্রীও অপূর্বর প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ছিলেন।

৬. সুমিত্রা

পরিচয়: তিনি বিপ্লবী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এবং এক রহস্যময়ী নারী।

বৈশিষ্ট্য: সুমিত্রা অত্যন্ত বুদ্ধিমতী এবং কঠোর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বিপ্লবের স্বার্থে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও আবেগ বিসর্জন দিতে কুণ্ঠিত হন না।

নাট্যরূপ: পথের দাবী

(শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল কাহিনীর ছায়ায় একটি দৃশ্য)


স্থান: রেঙ্গুন পুলিশ স্টেশন।
সময়: সকালবেলা।
চরিত্র: নিমাইবাবু (পুলিশের বড়কর্তা), জগদীশবাবু (পুলিশ অফিসার), অপূর্ব (বাঙালি যুবক) এবং গিরিশ মহাপাত্র (ছদ্মবেশী সব্যসাচী)।

[ দৃশ্যপট: নিমাইবাবু মেজে বসে ডায়েরি লিখছেন। জগদীশবাবু দাঁড়িয়ে আছেন। অপূর্ব একপাশে চুপচাপ বসে আছে। এমন সময় কনস্টেবল একজন অদ্ভুতদর্শন মানুষকে নিয়ে প্রবেশ করল। মানুষটির পরনে রামধনু রঙের চুড়িদার আর মাথায় লেবুর তেলের তীব্র গন্ধ। ]

নিমাইবাবু: (মাথা তুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে) কী হে? তোমার নাম কী?

গিরিশ মহাপাত্র: (একটু কেশে, বিনীতভাবে) আজ্ঞে কর্তা, আমার নাম গিরিশ মহাপাত্র। আমি এই ব্রহ্মদেশেই থাকি।

নিমাইবাবু: বলি, তোমার শরীরের এই দশা কেন? যক্ষ্মা নেই তো? বড্ড তো কাশছ!

গিরিশ মহাপাত্র: (করুণ সুরে) আজ্ঞে না কর্তা, যক্ষ্মা নয়। কেবল কাশির ব্যামো। অনেকদিন হলো পেটের গোলমাল থেকে শরীরটা এমন জরাজীর্ণ হয়েছে।

জগদীশবাবু: (কঠোর স্বরে) নাম-ধাম তো হলো। এবার পকেটে কী আছে বার করো তো বাপু!

[ গিরিশ মহাপাত্র ভীরুভবে নিজের পকেট খালি করতে শুরু করল। টেবিলের ওপর একে একে বেরোলো— একটা লোহার কম্পাস, কাঠের ফুটরুল, কয়েকটা বিড়ি, একটা দেশলাই এবং একটা মাটির গাঁজার কলিকা। ]

নিমাইবাবু: (বিস্ময়ে কলিকাটি তুলে ধরে) একি হে গিরিশ! তুমি কি গাঁজা খাও?

গিরিশ মহাপাত্র: (হাত জোড় করে) আজ্ঞে না হুজুর, আমি খাই না। পথে কুড়িয়ে পেয়েছি। ভাবলুম যদি কারোর কাজে লাগে, তাই তুলে রেখেছি।

জগদীশবাবু: (হেসে ফেলে) বলিহারি বুদ্ধি! লোকে পথে গাঁজার কলিকা কুড়িয়ে পায় বুঝি?

অপূর্ব: (এতক্ষণ পর মৃদু হেসে) নিমাইবাবু, লোকটিকে আর বেশি হেনস্থা করবেন না। এর চেহারা দেখে কি মনে হয় ইনি সেই ভয়ংকর বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক হতে পারেন?

নিমাইবাবু: (হতাশ হয়ে কলিকাটি ছুড়ে ফেলে) ঠিকই বলেছ অপূর্ব। বুনো হাঁস ধরায় আমাদের কাজ! যাও গিরিশ, তুমি যেতে পারো। তবে সাবধান, খুক খুক করে কাশির শব্দে যদি জেলখানা ফাটিয়ে দাও, তবে কিন্তু অন্য ব্যবস্থা হবে।

গিরিশ মহাপাত্র: (সবিনয়ে মাথা নুইয়ে) আপনার দয়া কর্তা। আমি তবে আসি।

[ গিরিশ মহাপাত্র খোড়াতে খোড়াতে রবারের তলা লাগানো খড়ম পায়ে বেরিয়ে গেল। নিমাইবাবু গম্ভীর মুখে চেয়ারে হেলান দিলেন। অপূর্ব উদাস হয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। ]

--- যবনিকা ---

'পথের দাবী' - অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয়।

২. 'পথের দাবী' কী?
উত্তর: 'পথের দাবী' হলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক উপন্যাস এবং গল্পে উল্লিখিত একটি বিপ্লবী সংগঠনের নাম

৩. 'পথের দাবী' গল্পের মূল গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: আলোচ্য গল্পটির মূল গ্রন্থের নামও হলো 'পথের দাবী' (এটি একটি উপন্যাসের অংশ)।

৪. নিমাইবাবু চুপ করে থাকার কারণ কী?
উত্তর: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিককে ধরতে না পেরে এবং তার পরিবর্তে গিরিশ মহাপাত্রের মতো এক রুগ্ন মানুষকে ধরে আনায় নিজের দপ্তরের ব্যর্থতায় নিমাইবাবু লজ্জায় ও হতাশায় চুপ করে ছিলেন।

৫. "মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল"— কে এবং কেন হাসি গোপন করল?
উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের অদ্ভুত সাজগোজ এবং খড়মের শব্দ শুনে অপূর্ব মুখ ফিরিয়ে হাসি গোপন করেছিল।

৬. গিরিশ মহাপাত্রের বয়স কত?
উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের বয়স ছিল আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ বছর

৭. ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বর সঙ্গী কারা ছিলেন?
উত্তর: ভামো যাত্রায় ট্রেনে অপূর্বর সঙ্গী ছিলেন একজন আরদালি এবং অফিসের একজন হিন্দুস্থানি ব্রাহ্মণ পেয়াদা

৮. নিমাইবাবুর চাকরি কে করে দিয়েছিলেন?
উত্তর: নিমাইবাবুর চাকরি করে দিয়েছিলেন অপূর্বর বাবা। (নিমাইবাবু অপূর্বকে বলেছিলেন, "তোর বাবা আমার চাকরি করে দিয়েছিলেন")।

৯. চুরির সময় তেওয়ারি কোথায় ছিল?
উত্তর: চুরির সময় তেওয়ারি বর্মার বিখ্যাত উৎসব 'ফয়া' দেখতে গিয়েছিল।

১০. "আমি বাবু ভারী ধর্মভীরু মানুষ"— কথাটি কে বলেছিলেন?
উত্তর: কথাটি ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক ওরফে গিরিশ মহাপাত্র নিমাইবাবুকে বলেছিলেন।

১১. সব্যসাচী মল্লিক কে ছিলেন?
উত্তর: সব্যসাচী মল্লিক ছিলেন 'পথের দাবী' উপন্যাসের নায়ক এবং একজন বিপ্লবী বীর, যাকে ধরার জন্য ব্রিটিশ পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল।

১২. গিরিশ মহাপাত্রের জামার রঙ কী ছিল?
উত্তর: গিরিশ মহাপাত্রের জামার রঙ ছিল রামধনু রঙের (জাপানি সিল্কের চুড়িদার পাঞ্জাবি)।

১৩. রামদাস মুচকিয়া একটু হাসিয়া কী বলল?
উত্তর: রামদাস মুচকি হেসে অপূর্বর স্বদেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে তাকে উৎসাহিত করার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

'পথের দাবী' - গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্নোত্তর (৫ নম্বর)

১. "বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।" — উক্তিটি কার? বাবুটির স্বাস্থ্য ও শখের পরিচয় দাও।

উদ্ধৃত অংশটির বক্তা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে উদ্ধৃত উক্তিটির বক্তা হলেন অপূর্ব

স্বাস্থ্য: 'বাবুটি' অর্থাৎ গিরিশ মহাপাত্রের শরীর ছিল অত্যন্ত রুগ্ন। তার বয়স ৩০-৩২ এর মধ্যে হলেও রোগা শরীরে কাশির বেগ দেখে মনে হচ্ছিল সে হয়তো বেশিদিন বাঁচবে না। তার গায়ের রঙ ফর্সা হলেও রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গিয়েছিল এবং চোখ দুটি ছিল গভীর ও উজ্জ্বল।

শখের পরিচয়: ভগ্ন স্বাস্থ্য সত্ত্বেও তার সাজপোশাকে ছিল উগ্র আধুনিকতা ও শৌখিনতার ছাপ। তার পরনে ছিল—

  • জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি।
  • বিলেতি মখমলের সবুজ রঙের কোট।
  • ল্যাভেন্ডার রঙের সিল্কের রুমাল।
  • পায়ে রবারের তলা লাগানো কাঠের খড়ম।
  • হাতে হরিণের সিং-এর হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি।
এমন বৈপরীত্য দেখেই বক্তা রসিকতা করে উক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।

২. "ইহা যে কত বড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা দিন পরেই সে অনুভব করিল।" — ভ্রমটি কী ছিল? কীভাবে অপূর্বর সেই ভ্রম দূর হলো?

ভ্রম বা ভুল ধারণা: অপূর্ব মনে করত যে বিদেশ বিভূঁইয়ে তার স্বজাতির মানুষ অর্থাৎ ভারতীয়রা তাকে ঠকালেও, শিক্ষিত ইংরেজরা তাকে বিনা কারণে অপমান করবে না। তার উচ্চ পদমর্যাদা ও সামাজিক আভিজাত্য তাকে লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করবে— এটাই ছিল তার বড় ভ্রম।

ভ্রম দূর হওয়ার ঘটনা: ভামো যাওয়ার পথে প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেবল ভারতীয় হওয়ার অপরাধে ইংরেজ পুলিশ গভীর রাতে অপূর্বকে জাগিয়ে তুলে তল্লাশি করে এবং কামরা থেকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অপূর্ব প্রতিবাদ করলে তাকে জানানো হয় যে সে 'কালা আদমি', তাই তার কোনো অধিকার নেই।

পরিণতি: পরদিন সকালে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্টেশন মাস্টারের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি অপূর্বর কথা শোনাই দূরে থাক, তাকে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দিয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে বের করে দেন। এই চরম অপমানের মাধ্যমেই অপূর্বর ভ্রম দূর হয় এবং সে বুঝতে পারে পরাধীন দেশে ভারতবাসীর কোনো সম্মান নেই।

৩. 'পথের দাবী' পাঠ্যাংশে গিরিশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশের আড়ালে বিপ্লবী সব্যসাচীর যে পরিচয় পাওয়া যায় তা লেখো।

ছদ্মবেশের নিপুণতা: বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক জানতেন যে পুলিশ তাকে বলিষ্ঠ ও তেজস্বী চেহারার মানুষ হিসেবে খুঁজছে। তাই তিনি নিজেকে এক জরাজীর্ণ, রুগ্ন এবং উদ্ভট সাজের অধিকারী 'গিরিশ মহাপাত্র' হিসেবে উপস্থাপন করেন।

উপস্থিত বুদ্ধি: পুলিশের জেরার মুখে তিনি অত্যন্ত শান্ত ছিলেন। পকেটে গাঁজার কলিকা পাওয়া গেলেও তিনি অবলীলায় 'ধর্মভীরু' মানুষের অভিনয় করে জানান যে সেটি তিনি কুড়িয়ে পেয়েছেন। তার এই সহজ-সরল ও বোকা সাজার অভিনয় নিমাইবাবুকে বিভ্রান্ত করতে সফল হয়।

চারিত্রিক দৃঢ়তা: গিরিশের চোখের দৃষ্টি ছিল অত্যন্ত গভীর ও উজ্জ্বল, যা নির্দেশ করে যে এই জরাজীর্ণ দেহের আড়ালে এক দুর্ধর্ষ দেশপ্রেমিক লুকিয়ে আছেন। পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি বেরিয়ে যান, যা তার অসাধারণ মেধা ও সাহসিকতার পরিচয় দেয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন ১: 'পথের দাবী' উপন্যাসের রচয়িতা কে এবং এটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

উত্তর: 'পথের দাবী' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি গ্রন্থাকারে ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন ২: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিকের ছদ্মবেশের নাম কী ছিল?

উত্তর: পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিকের ছদ্মবেশের নাম ছিল গিরিশ মহাপাত্র। তিনি পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য এক রুগ্ন ও শৌখিন মানুষের সাজ ধারণ করেছিলেন।

প্রশ্ন ৩: অপূর্বকে কেন প্রথম শ্রেণীর কামরা থেকে পুলিশ নামিয়ে দিতে চেয়েছিল?

উত্তর: অপূর্ব ভারতীয় তথা 'কালা আদমি' হওয়ার কারণে ইংরেজ পুলিশ তাকে প্রথম শ্রেণীর কামরা থেকে অপমান করে নামিয়ে দিতে চেয়েছিল। এটি ব্রিটিশ শাসনামলের বর্ণবিদ্বেষের একটি চরম উদাহরণ।

প্রশ্ন ৪: গিরিশ মহাপাত্রের ট্যাঁক ও পকেটে কী কী পাওয়া গিয়েছিল?

উত্তর: গিরিশের ট্যাঁক থেকে একটি টাকা ও গণ্ডাছয়েক পয়সা পাওয়া যায়। তার পকেট থেকে লোহার কম্পাস, মাপ করার ফুটরুল, কয়েকটি বিড়ি, দেশলাই এবং একটি গাঁজার কলিকা পাওয়া গিয়েছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ