পৃথিবীর গতিসমূহ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর: নবম শ্রেণি ভূগোল (WBBSE )

 পৃথিবীর গতিসমূহ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর

prithibir-gotishomuho-exercise-questions-answers



পৃথিবীর গতিসমূহ: অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর (MCQ)

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো | প্রশ্নমান - ১

১। সৌরজগতে প্রধান গ্ৰহ কয়টি?

(ক) ৭টি   (খ) ৮টি   (গ) ৯টি   (ঘ) ১০টি

২। একটি বামন গ্রহ হলো—

(ক) ইউরেনাস   (খ) নেপচুন   (গ) বুধ   (ঘ) প্লুটো

৩। কোন্ গ্রহটির আবর্তন সময় পৃথিবীর মতোই?

(ক) বুধ   (খ) শুক্র   (গ) মঙ্গল   (ঘ) বৃহস্পতি

৪। কোন্ গ্রহটির আবর্তনের দিক সম্পূর্ণ আলাদা?

(ক) বুধ   (খ) শুক্র   (গ) নেপচুন   (ঘ) ইউরেনাস

৫। কোন্ দার্শনিক পৃথিবীকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের পক্ষে মত দেন?

(ক) টলেমি   (খ) কোপারনিকাস   (গ) গ্যালিলিও   (ঘ) নিউটন

৬। কে সর্বপ্রথম বলেন সূর্যকে মাঝখানে রেখে বাকি গ্রহগুলি ঘুরছে?

(ক) টলেমি   (খ) অ্যারিস্টট্ল   (গ) ইউডোক্সাস   (ঘ) কোপারনিকাস

৭। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক কে?

(ক) কোপারনিকাস   (খ) টলেমি   (গ) অ্যারিস্টট্ল   (ঘ) নিউটন

৮। পৃথিবী আবর্তন করছে—

(ক) পশ্চিম থেকে পূর্বে   (খ) পূর্ব থেকে পশ্চিমে   (গ) দক্ষিণ থেকে উত্তরে   (ঘ) উত্তর থেকে দক্ষিণে

৯। নিম্নলিখিত ভারতের কোন্ শহরে আবর্তন বেগ বেশি?

(ক) চেন্নাই   (খ) কলকাতা   (গ) দিল্লি   (ঘ) শ্রীনগর

১০। পশ্চিমবঙ্গের কোন্ জেলায় পৃথিবীর আবর্তন বেগ কম?

(ক) দক্ষিণ ২৪ পরগনা   (খ) নদিয়া   (গ) মালদহ   (ঘ) দার্জিলিং

১১। ভারতের কোন্ রাজ্যে প্রথম সূর্যোদয় হয়?

(ক) রাজস্থান   (খ) বিহার   (গ) পশ্চিমবঙ্গ   (ঘ) অরুণাচল প্রদেশ

১২। কোন্ অক্ষরেখায় গোধূলির স্থায়িত্বকাল সবচেয়ে কম?

(ক) কর্কটক্রান্তি   (খ) মকরক্রান্তি   (গ) সুমেরুবৃত্ত   (ঘ) নিরক্ষরেখা

১৩। ছায়াবৃত্তের কেন্দ্রে কোণের পরিমাণ কত?

(ক) ৯০°   (খ) ১৮০°   (গ) ২৭০°   (ঘ) ৩৬০°

১৪। কোন্ বলের প্রভাবে বায়ুর দিকবিক্ষেপ ঘটে?

(ক) নিউটন বল   (খ) কোরিওলিস বল   (গ) বায়ুচাপের বল   (ঘ) উষ্ণতার তারতম্য বল

১৫। পৃথিবীতে জোয়ারভাটার মূল কারণ কী?

(ক) চাঁদের আকর্ষণ   (খ) সূর্যের আকর্ষণ   (গ) কোরিওলিস বল   (ঘ) পৃথিবীর আবর্তন

১৬। পৃথিবীর মেরুরেখা উল্লম্বরেখার সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে রয়েছে?

(ক) ২৩.৫°   (খ) ৫০°   (গ) ৬৬.৫°   (ঘ) ৯০°

১৭। পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ সেকেন্ডে প্রায় কত কিমি?

(ক) ৩০ কিমি   (খ) ১০০ কিমি   (গ) ৩০০ কিমি   (ঘ) ১০০০ কিমি

১৮। পৃথিবীর পরিক্রমণ পথটির আকৃতি কেমন?

(ক) গোলাকার   (খ) অর্ধবৃত্তাকার   (গ) উপবৃত্তাকার   (ঘ) সরলরেখার ন্যায়

১৯। নিম্নলিখিত কোন্ বছরটি অধিবর্ষ (Leap Year) নয়?

(ক) ১৬০০   (খ) ২০০০   (গ) ২১০০   (ঘ) ২৪০০

২০। অপসূর অবস্থান হয় কোন্ তারিখে?

(ক) ৩ জানুয়ারি   (খ) ৪ জুলাই   (গ) ২১ মার্চ   (ঘ) ২১ জুন

২১। ২১ জুন তারিখে সূর্যরশ্মি সর্বাধিক ৯০° কোণে পড়ে কোথায়?

(ক) নিরক্ষরেখায়   (খ) কর্কটক্রান্তি রেখায়   (গ) মকরক্রান্তি রেখায়   (ঘ) সুমেরুবৃত্ত রেখায়

২২। মহাবিষুব হয় কোন্ তারিখে?

(ক) ২১ জুন   (খ) ২১ মার্চ   (গ) ২২ ডিসেম্বর   (ঘ) ২৩ সেপ্টেম্বর

২৩। মকর সংক্রান্তিতে নিরক্ষরেখায় সূর্য রশ্মি সর্বাধিক পতন কোণ কত?

(ক) ৯০°   (খ) ৬৬.৫°   (গ) ৪৭°   (ঘ) ৪৩°

২৪। মকরসংক্রান্তি হয় কোন্ তারিখে?

(ক) ২১ জুন   (খ) ২১ মার্চ   (গ) ২৩ সেপ্টেম্বর   (ঘ) ২২ ডিসেম্বর

২৫। পৃথিবীর মেরুরেখা কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে রয়েছে?

(ক) ২৩.৫°   (খ) ৪৩°   (গ) ৬৬.৫°   (ঘ) ৯০°

২৬। কোন্ দেশটিতে গেলে মেরুপ্রভা দেখা যাবে?

(ক) মিশর   (খ) নরওয়ে   (গ) ব্রাজিল   (ঘ) চিন

২৭। ভারতের কোন্ রাজ্যে সবচেয়ে শেষে সূর্যাস্ত হয়?

(ক) মহারাষ্ট্র   (খ) মধ্যপ্রদেশ   (গ) গুজরাট   (ঘ) পশ্চিমবঙ্গ

২৮। কোন্ তারিখটিতে পৃথিবীর সর্বত্র ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত হয়?

(ক) ২১ মার্চ   (খ) ২১ জুন   (গ) ৪ জুলাই   (ঘ) ২২ ডিসেম্বর

২৯। কোন্ গ্রহের এক বছরের থেকে একদিন বড়?

(ক) বুধ   (খ) শুক্র   (গ) মঙ্গল   (ঘ) বৃহস্পতি

৩০। কোন্ গ্রহের অক্ষ পুরোপুরি উল্লম্ব?

(ক) বুধ   (খ) শুক্র   (গ) শনি   (ঘ) ইউরেনাস

৩১। কোন্ বামন গ্রহ সূর্যের সবচেয়ে কাছে রয়েছে?

(ক) এরিস   (খ) প্লুটো   (গ) হাউমেয়া   (ঘ) সেরেস

বাক্যটি ‘সত্য’ হলে ‘ঠিক’ এবং ‘অসত্য’ হলে ‘ভুল’ লেখো :

অধ্যায়: পৃথিবীর গতিসমূহ | প্রশ্নমান - ১

১। বর্তমানে প্লুটো একটি প্রধান গ্রহ।
উত্তর: ভুল (প্লুটো একটি বামন গ্রহ)
২। পৃথিবী ও মঙ্গলের আবর্তন সময় প্রায় এক।
উত্তর: ঠিক
৩। নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে আবর্তন বেগ ক্রমশ কমে।
উত্তর: ঠিক
৪। টলেমি পৃথিবীকেন্দ্রিক মহাবিশ্ব ধারণার পক্ষে মত দেন।
উত্তর: ঠিক
৫। নক্ষত্র দিন অপেক্ষা সৌরদিন দীর্ঘতর।
উত্তর: ঠিক (সৌরদিন নক্ষত্র দিন অপেক্ষা ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড বড়)
৬। পৃথিবী পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তন করছে।
উত্তর: ভুল (পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে)
৭। পৃথিবীর পরিক্রমণের কারণেই সূর্য পূর্বদিকে ওঠে ও পশ্চিমদিকে অস্ত যায়।
উত্তর: ভুল (এটি আবর্তন গতির ফল)
৮। দিনরাত্রি ঘটার মূল কারণ পৃথিবীর আবর্তন।
উত্তর: ঠিক
৯। আমরা পৃথিবীর আবর্তন সহজেই অনুভব করতে পারি।
উত্তর: ভুল
১০। সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি কর্কট ও মকরক্রান্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
উত্তর: ঠিক
১১। নিকোলাস কোপারনিকাস হলেন আধুনিক জোতির্বিজ্ঞানের জনক।
উত্তর: ঠিক
১২। অ্যারিস্টট্ল পৃথিবীকেন্দ্রিক ধারণার স্বপক্ষে মত দেন।
উত্তর: ঠিক
১৩। নিম্ন অক্ষাংশে গোধূলির স্থায়িত্বকাল খুব বেশি।
উত্তর: ভুল (উচ্চ অক্ষাংশে গোধূলির স্থায়িত্বকাল বেশি হয়)
১৪। আগামী ২১০০ সাল অধিবর্ষ হবে।
উত্তর: ভুল (শতাব্দীর বছর ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য না হলে তা অধিবর্ষ হয় না)
Geography Study Notes

উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো

১। পৃথিবীতে বামন গ্রহের সংখ্যা বর্তমানে _______ টি।
✔ উত্তর: ৫ টি
২। প্রধান গ্রহগুলির মধ্যে পরিক্রমণ বেগ সবচেয়ে কম _______ গ্রহের।
✔ উত্তর: নেপচুন
৩। _______ গ্রহের এক বছরের থেকে এক দিনের সময় বেশি।
✔ উত্তর: শুক্র
৪। একমাত্র _______ গ্রহের আবর্তন দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে।
✔ উত্তর: ইউরেনাস
৫। জ্যোতির্বিজ্ঞানী _______ প্রথম বলেন সকল গ্রহের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার।
✔ উত্তর: কেপলার
৬। _______ রেখা বরাবর পৃথিবীর আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি।
✔ উত্তর: নিরক্ষরেখা
৭। বায়ু ও সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপের মূল কারণ _______ বল।
✔ উত্তর: কোরিওলিস (Coriolis)
৮। উষাকালের বিপরীত অবস্থা হল _______
✔ উত্তর: গোধূলি
৯। পৃথিবী পরিক্রমণ পথটির আকৃতি _______
✔ উত্তর: উপবৃত্তাকার
১০। পৃথিবীর মেরুরেখা কক্ষতলের সঙ্গে _______ ডিগ্রি কোণে রয়েছে।
✔ উত্তর: ৬৬.৫°
১১। অধিবর্ষ বছরে ফেব্রুয়ারি মাস হয় _______ দিনে।
✔ উত্তর: ২৯ দিনে
১২। _______ বামন গ্রহটি সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে রয়েছে।
✔ উত্তর: এরিস (Eris)
১৩। _______ বামন গ্রহের আবর্তনের সময় সবচেয়ে কম।
✔ উত্তর: হাউমেয়া (Haumea)
১৪। 'Principia' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন _______
✔ উত্তর: স্যার আইজ্যাক নিউটন

স্তম্ভ মেলাও (সঠিক উত্তরসহ টেবিল)

স্তম্ভ ‘ক’ (তারিখ) স্তম্ভ ‘খ’ (ঘটনা)
১। ২১ মার্চ (ঘ) মহাবিষুব
২। ২২ ডিসেম্বর (চ) মকরসংক্রান্তি
৩। ২১ জুন (ঙ) কর্কটসংক্রান্তি
৪। ২৩ সেপ্টেম্বর (ক) জলবিষুব
৫। ৪ জুলাই (খ) অপসূর
৬। ৩ জানুয়ারি (গ) অনুসূর

* উপরে স্তম্ভ ‘ক’-এর সাথে স্তম্ভ ‘খ’-এর সঠিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে।

দুই-এক কথায় উত্তর দাও

অধ্যায়: পৃথিবীর গতিসমূহ | প্রশ্নমান - ১

১। বর্তমানে বামন গ্রহের সংখ্যা ক-টি?
উত্তর: ৫টি (সেরেস, প্লুটো, হাউমেয়া, মেকমেক ও এরিস)।
২। বামন গ্রহগুলির মধ্যে কার পরিক্রমণের জন্য সময় বেশি লাগে?
উত্তর: এরিস (Eris)।
৩। বিজ্ঞানের কোন্ শাখায় মহাকাশ বিষয়কে নিয়ে আলোচনা করা হয়?
উত্তর: জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy)।
৪। পৃথিবীর সৌরদিনের প্রকৃত সময় কত?
উত্তর: ২৪ ঘণ্টা।
৫। পৃথিবীতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হওয়ার মূল কারণ কোনটি?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতি।
৬। ছায়াবৃত্ত বরাবর উভয়দিকে কোন্ কোন্ অবস্থা বিরাজ করে?
উত্তর: একদিকে দিনের আলোক এবং অন্যদিকে রাতের অন্ধকার।
৭। কোন্ অক্ষরেখায় উষা ও গোধূলির স্থায়িত্বকাল সবচেয়ে কম?
উত্তর: নিরক্ষরেখায়।
৮। কোন তারিখে পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর: ৩ জানুয়ারি (অনুসূর অবস্থানের সময়)।
৯। পৃথিবীর কক্ষপথটির আকৃতি কেমন?
উত্তর: উপবৃত্তাকার।
১০। কক্ষতলের কোন্ স্থানে সূর্য রয়েছে?
উত্তর: কক্ষপথের অন্যতম নাভিতে বা ফোকাসে (Focus)।
১১। কোন্ প্রধান গ্রহটি দক্ষিণ থেকে উত্তরে আবর্তিত হচ্ছে?
উত্তর: ইউরেনাস।
১২। কোন্ গ্রহের পরিক্রমণ বেগ সর্বাধিক?
উত্তর: বুধ (Mercury)।
১৩। মধ্যাহ্ন সূর্যের ঠিক পরবর্তী সময়কে আমরা কী বলি?
উত্তর: অপরাহ্ন।
১৪। কোন্ সূত্রের কারণে বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বাঁকে?
উত্তর: ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law)।
১৫। রবিমার্গ সময়ে ২১ মার্চ তারিখে সূর্য কোন্ অক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়?
উত্তর: নিরক্ষরেখায়।

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান - ২)

নবম শ্রেণি | ভূগোল | প্রথম অধ্যায়

১. বামন গ্রহ কী?
যেসব জ্যোতিষ্ক মহাকাশে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে কিন্তু নিজের কক্ষপথ থেকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মহাকর্ষীয় শক্তি রাখে না, তাদের বামন গ্রহ বলে। যেমন—সেরেস, প্লুটো।


২. প্লুটোর বর্তমান পরিচয় কী?
২০০৬ সাল পর্যন্ত প্লুটো একটি প্রধান গ্রহ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা (IAU)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্লুটো একটি বামন গ্রহ (Dwarf Planet) হিসেবে পরিচিত।

৩. নক্ষত্র দিন ও সৌরদিন কী?
পৃথিবী কোনো নক্ষত্রকে স্থির রেখে নিজের অক্ষের ওপর একবার আবর্তন করতে যে সময় নেয় (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড) তাকে নক্ষত্র দিন বলে। আর সূর্যকে স্থির রেখে একবার আবর্তন করতে যে সময় নেয় (২৪ ঘণ্টা) তাকে সৌরদিন বলে।


৪. পৃথিবীর আবর্তন হঠাৎ থেমে গেলে কী হবে?
পৃথিবীর আবর্তন থেমে গেলে যে দিক সূর্যের সামনে থাকবে সেখানে চিরকাল দিন এবং প্রচণ্ড উত্তাপ থাকবে। উল্টোদিকে চিরকাল রাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা থাকবে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে।

৫ ও ১৬. সূর্যের দৈনিক আপাত গতি কী?
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করার কারণে প্রতিদিন সকালে সূর্যকে পূর্ব আকাশ থেকে উঠে পশ্চিম আকাশে অস্ত যেতে দেখা যায়। সূর্যের এই চলনকে সূর্যের দৈনিক আপাত গতি বলে।

৬. কোরিওলিস বল কী?
পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে ভূপৃষ্ঠের গতিশীল বস্তুসমূহ (যেমন—বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত) সরাসরি না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। এই বিচ্যুতি সৃষ্টিকারী বলকে কোরিওলিস বল বলে।


৭. ছায়াবৃত্ত কী?
ভূপৃষ্ঠে আলোকিত অর্ধাংশ এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন অর্ধাংশের মধ্যবর্তী সংযোগকারী বৃত্তাকার সীমারেখাকে ছায়াবৃত্ত বলে।

৮. উষা ও গোধূলি কী?
সূর্যোদয়ের ঠিক আগের অস্পষ্ট আলোককে উষা বলে এবং সূর্যাস্তের ঠিক পরের অস্পষ্ট আলোককে গোধূলি বলে। বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণায় সূর্যরশ্মি বিচ্ছুরিত হওয়ার ফলে এটি ঘটে।


১৪. রবিমার্গ কী?
পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে সূর্যকে বছরের বিভিন্ন সময়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২১ জুন) ও মকরক্রান্তি রেখার (২২ ডিসেম্বর) মধ্যে চলাফেরা করতে দেখা যায়। সূর্যের এই বার্ষিক আপাত পথকে রবিমার্গ বলে।

১০. পৃথিবীর পরিক্রমণ কী?
পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসাকে পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতি বলে।


১১. পৃথিবীর কক্ষপথের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
১. কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার যার একটি নাভিতে সূর্য অবস্থান করে।
২. কক্ষপথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিলোমিটার।


১২. পৃথিবীর অপসূর অবস্থান কী?
৪ঠা জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। পৃথিবীর এই অবস্থানকে অপসূর বলে।

১৩. ২১০০ সালের আগে ও পরে কোন্ দুটি বছর অধিবর্ষ?
২১০০ সাল যেহেতু ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য নয়, তাই এটি অধিবর্ষ নয়। এর আগের অধিবর্ষ বছরটি হলো ২০৯৬ এবং পরেরটি হলো ২১০৪


১৫. নিশীথ সূর্য কী?
সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তে গ্রীষ্মকালে যখন স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১২টা বাজে, তখনও সূর্যকে দিগন্তরেখায় দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। মধ্যরাত্রির এই সূর্যকে নিশীথ সূর্য বলে (যেমন—নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর)।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান - ৩)

নবম শ্রেণি | ভূগোল | বিশেষ সহায়িকা নোটস

১। কুলীন ও বামন গ্রহের তফাত কী?

  • আকার: কুলীন গ্রহ আকারে অনেক বড় হয়, কিন্তু বামন গ্রহ আকারে বেশ ছোট।
  • কক্ষপথের পরিচ্ছন্নতা: কুলীন গ্রহ তার কক্ষপথের অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বামন গ্রহের সেই ক্ষমতা নেই।
  • উপগ্রহ: কুলীন গ্রহের সাধারণত এক বা একাধিক উপগ্রহ থাকে, কিন্তু বামন গ্রহের উপগ্রহ থাকতেও পারে আবার নাও পারে।

২। নক্ষত্র দিন অপেক্ষা সৌরদিন দীর্ঘতর কেন?

পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। নক্ষত্র দিন হিসাব করা হয় দূরবর্তী কোনো স্থির নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড)। কিন্তু সূর্যকে পুনরায় আগের অবস্থানে দেখতে পৃথিবীকে আরও প্রায় ১ ডিগ্রি বা ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড অতিরিক্ত ঘুরতে হয়। এই কারণেই সৌরদিন (২৪ ঘণ্টা) নক্ষত্র দিন অপেক্ষা দীর্ঘতর।

৩। নিরক্ষরেখায় আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি কেন?

পৃথিবী একটি গোলক এবং এর পরিধি নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি)। যেহেতু পৃথিবীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একবার আবর্তন সম্পন্ন করতে হয়, তাই বিশাল এই পথ অতিক্রম করতে নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর গতিবেগ সবচেয়ে বেশি (ঘণ্টায় প্রায় ১৬৭০ কিমি) রাখা প্রয়োজন। মেরুর দিকে পরিধি কম হওয়ায় গতিবেগও কমে যায়।

৪। আমরা পৃথিবীর আবর্তন বুঝতে পারি না কেন?

  1. পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট ও সুষম গতিতে ঘুরছে, যার কোনো ঝাঁকুনি নেই।
  2. পৃথিবীর সাথে সাথে তার বায়ুমণ্ডল এবং আমরা নিজেরাও একই গতিতে আবর্তন করছি।
  3. আমাদের চারপাশে থাকা গাছপালা, পাহাড় বা বাড়িঘরও একই গতিতে ঘুরছে বলে আমাদের সাপেক্ষে তারা স্থির।

৫ ও ৭। কোরিওলিস বলের বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব কী?

পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই বলের বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • এটি কোনো বস্তুর গতির ওপর কাজ করে না, কেবল দিক পরিবর্তন করে।
  • নিরক্ষরেখায় এই বলের মান শূন্য এবং মেরুতে সর্বাধিক।
  • এর প্রভাবেই বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায় (ফেরেলের সূত্র)।

৬। উষা ও গোধূলি কেন হয়?

সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্যাস্তের পরে সূর্য দিগন্তরেখার নিচে থাকলেও তার আলো বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ধূলিকণা ও জলকণা দ্বারা বিচ্ছুরিত হয়। এই বিচ্ছুরিত আলো পৃথিবীতে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে বলেই সরাসরি সূর্যকে দেখার আগেই আমরা হালকা আলো দেখতে পাই, যা উষা ও গোধূলি সৃষ্টি করে।

৮ ও ৯। পৃথিবীর অক্ষ হেলে থাকার ফল কী?

পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকার ফলে:

  • বছরের বিভিন্ন সময়ে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য ছোট-বড় হয়।
  • সূর্যরশ্মির পতন কোণের পরিবর্তন ঘটে এবং ঋতু পরিবর্তন হয়।
  • যদি অক্ষ সর্বদা উল্লম্ব (৯০°) থাকতো, তবে সারা বছর দিন-রাত সমান থাকতো এবং কোনো ঋতু পরিবর্তন হতো না।

১০ ও ১১। ২১০০ সাল অধিবর্ষ হবে না কেন?

পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে প্রকৃত সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। আমরা সুবিধার্থে ৩৬৫ দিন ধরি এবং অতিরিক্ত সময়কে মেলাতে প্রতি ৪ বছর অন্তর ১ দিন যোগ করি। কিন্তু প্রতি ৪ বছরে ১১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড বেশি ধরা হয়ে যায়। এই ত্রুটি কমাতে নিয়ম করা হয়েছে যে, শতাব্দীর বছরগুলো (যেমন ২১০০, ১৯০০) অবশ্যই ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হতে হবে। ২১০০ সাল ৪ দিয়ে বিভাজ্য হলেও ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য নয়, তাই এটি লিপ ইয়ার হবে না।

১২। অপসূর ও অনুসূর অবস্থানের পার্থক্য কী?

বিষয় অপসূর অনুসূর
তারিখ ৪ঠা জুলাই ৩রা জানুয়ারি
দূরত্ব ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি

১৩। উত্তর মেরুতে সূর্যকে কেন ৭ দিন বেশি দেখা যায়?

পৃথিবীর কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার। উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্মকাল (অপসূর অবস্থানের কাছাকাছি), তখন পৃথিবী সূর্য থেকে দূরে থাকায় কেপলারের সূত্র অনুযায়ী তার পরিক্রমণ গতি কিছুটা কমে যায়। ফলে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের সামনে বেশিদিন অবস্থান করে, যা দক্ষিণ মেরুর তুলনায় উত্তর মেরুতে প্রায় ৭ দিন বেশি আলোক প্রদান করে।

১৪। ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দিন-রাত সমান হয় কেন?

এই দুটি দিনে সূর্য সরাসরি নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। একে 'বিষুব' বলা হয়। এই সময় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সূর্য থেকে সমান দূরত্বে থাকে এবং ছায়াবৃত্ত সমস্ত অক্ষরেখাকে সমান দুটি ভাগে ভাগ করে। তাই সারা পৃথিবীতে ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত হয়।

১৫। কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তির পার্থক্য কী?

কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন): সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখায় (২৩.৫° উত্তর) লম্বভাবে কিরণ দেয়। উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হয়।
মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসেম্বর): সূর্য মকরক্রান্তি রেখায় (২৩.৫° দক্ষিণ) লম্বভাবে কিরণ দেয়। দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হয়।

১৬। উচ্চ অক্ষাংশে নিশীথ সূর্যের অবস্থা হয় কেন?

পৃথিবীর অক্ষ ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকার ফলে উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে সুমেরু বৃত্তের (৬৬.৫° উত্তর) উত্তরের অঞ্চলগুলি সবসময় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। পৃথিবী আবর্তন করলেও এই অঞ্চলগুলি ছায়াবৃত্তের বাইরে বের হতে পারে না, ফলে মধ্যরাতেও সূর্য দেখা যায়।

১৭। অরোরা কী এবং কেন সৃষ্টি হয়?

মেরু অঞ্চলে আকাশজুড়ে যে রঙিন আলোর খেলা দেখা যায় তাকে অরোরা বা মেরুজ্যোতি বলে। সূর্যের মহাজাগতিক রশ্মি বা সৌরকণা যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আয়ন স্তরে থাকা গ্যাসীয় অণুর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রতিক্রিয়ায় এই বিচ্ছুরিত আলো বা অরোরার সৃষ্টি হয়। উত্তর গোলার্ধে একে অরোরা বোরিয়ালিস এবং দক্ষিণে অরোরা অস্ট্রালিস বলে।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (Long Answer Type)

প্রশ্নমান - ৫ | ভূগোল সহায়িকা

১। পৃথিবীর আবর্তনের প্রধান দুটি ফলাফল উল্লেখ করো।

পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রধান দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো:

ক) দিন ও রাত্রি সংগঠন: পৃথিবী একটি গোলক এবং এর নিজস্ব কোনো আলো নেই। আবর্তনের সময় পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে 'দিন' হয় এবং বিপরীত অংশে 'রাত' হয়। এই আবর্তনের ফলেই ১২ ঘণ্টা অন্তর দিন ও রাতের চক্র আবর্তিত হয়।

খ) কোরিওলিস বলের সৃষ্টি ও দিকবিক্ষেপ: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে ভূপৃষ্ঠে এক প্রকার কেন্দ্রবিমুখী বলের সৃষ্টি হয়, একে কোরিওলিস বল বলে। এই বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ এবং সমুদ্রস্রোত সোজা পথে না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। একে ফেরেলের সূত্রও বলা হয়।

২। আবর্তনের প্রভাবে দিন ও রাত্রি কীভাবে ঘটে চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করার সময় তার অর্ধাংশ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়।

  • উষা ও সূর্যোদয়: অন্ধকার অংশ যখন ধীরে ধীরে আলোর সংস্পর্শে আসে।
  • মধ্যাহ্ন: যখন সূর্য ঠিক মাথার ওপর থাকে।
  • গোধূলি ও সূর্যাস্ত: আলোকিত অংশ যখন অন্ধকারের দিকে সরে যায়।
  • নিশীথ: যখন সূর্য পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে থাকে।

[চিত্র নির্দেশনা]: একটি বৃত্ত এঁকে তার একদিকে সূর্য আঁকুন। বৃত্তের অর্ধেক অংশে আলো এবং বাকি অর্ধেকের মাঝখানে 'ছায়াবৃত্ত' চিহ্নিত করে দিন ও রাত্রি দেখান।

৩। চিত্রসহ অপসূর ও অনুসূর অবস্থান এবং এর ফলাফল।

পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব পরিবর্তিত হয়।

অনুসূর (৩ জানুয়ারি): এই দিনে দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম হয় এবং পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি সামান্য বৃদ্ধি পায়।

অপসূর (৪ জুলাই): এই দিনে দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের তীব্রতা কিছুটা কম হয় এবং পরিক্রমণ গতি সামান্য কমে যায়।

[চিত্র নির্দেশনা]: একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথের একপাশে সূর্য এবং তার দুই প্রান্তে পৃথিবীর দুটি অবস্থান তারিখ ও দূরত্বসহ চিহ্নিত করুন।

৪। কর্কট ও মকরসংক্রান্তিতে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্যের অবস্থা।

কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন): এই দিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। কুমেরু বৃত্তে একটানা ২৪ ঘণ্টা রাত থাকে।

মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসেম্বর): এই দিন সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। সুমেরু বৃত্তে এই সময় একটানা ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার থাকে।

৫ ও ৬। পৃথিবীতে ঋতুপরিবর্তন কেন এবং কীভাবে হয়?

ঋতুপরিবর্তনের প্রধান কারণগুলি হলো:

  1. পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ গতির কারণে সূর্যরশ্মির পতন কোণের পরিবর্তন ঘটে।
  2. অক্ষতলের হেলানো অবস্থান: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকার ফলে পরিক্রমণের সময় নির্দিষ্ট গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে।
  3. সূর্যরশ্মির পতন কোণ: লম্বভাবে পড়া রশ্মি বেশি উত্তাপ দেয় এবং তির্যক রশ্মি কম উত্তাপ দেয়। এর ফলেই উষ্ণতার তারতম্য ঘটে এবং গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত—এই চারটি ঋতুর চক্র পরিলক্ষিত হয়।

💡 শিক্ষকের বিশেষ পরামর্শ

"সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি নিরন্তর যাত্রা।"

প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, মনে রাখবে পরীক্ষার খাতা কেবল তোমার মেধার পরিচয় নয়, বরং তোমার ধৈর্য এবং প্রস্তুতির প্রতিফলন। পরীক্ষার আগে ঘাবড়ে না গিয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। প্রতিটি দিনকে রুটিন মাফিক কাজে লাগাও এবং মনে রেখো—আজকের কঠোর পরিশ্রমই আগামীকাল তোমার মুখে হাসি ফোটাবে।

🚀 পরীক্ষার জন্য সেরা ৫টি টিপস

সিলেবাস ম্যাপিং: কোন অধ্যায়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা চিহ্নিত করে আগে শেষ করো।

লিখে প্র্যাকটিস: পড়ার সাথে সাথে উত্তরগুলো খাতায় লেখার অভ্যাস করো, এতে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

সময় ব্যবস্থাপনা: ঘড়ি ধরে মক টেস্ট দাও যাতে পরীক্ষার হলে সময়ের অভাব না হয়।

বিগত বছরের প্রশ্ন: WBBSE বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের গত ৫ বছরের প্রশ্ন অবশ্যই সমাধান করো।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম: দিনে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম এবং প্রচুর জল পান করা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

আপনার প্রস্তুতি আরও মজবুত করতে চান?

এই নোটসটির সম্পূর্ণ PDF পেতে এবং নিয়মিত সাজেশন পেতে আমাদের সাথে যুক্ত হন।

আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান। আমরা দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

✍️

আপনি কি আরও বড় এবং বিস্তারিত উত্তর চান?

যদি আপনার কোনো বিশেষ প্রশ্নের আরও বড় ব্যাখ্যামূলক উত্তরের প্রয়োজন হয়, তবে দেরি না করে এখনই নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান।

নিচে কমেন্ট করুন

আমরা আপনার প্রতিটি কমেন্টের গুরুত্ব দিই এবং দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ