পৃথিবীর গতিসমূহ অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর
পৃথিবীর গতিসমূহ: অনুশীলনী প্রশ্নোত্তর (MCQ)
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো | প্রশ্নমান - ১
১। সৌরজগতে প্রধান গ্ৰহ কয়টি?
(ক) ৭টি (খ) ৮টি (গ) ৯টি (ঘ) ১০টি২। একটি বামন গ্রহ হলো—
(ক) ইউরেনাস (খ) নেপচুন (গ) বুধ (ঘ) প্লুটো৩। কোন্ গ্রহটির আবর্তন সময় পৃথিবীর মতোই?
(ক) বুধ (খ) শুক্র (গ) মঙ্গল (ঘ) বৃহস্পতি৪। কোন্ গ্রহটির আবর্তনের দিক সম্পূর্ণ আলাদা?
(ক) বুধ (খ) শুক্র (গ) নেপচুন (ঘ) ইউরেনাস৫। কোন্ দার্শনিক পৃথিবীকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের পক্ষে মত দেন?
(ক) টলেমি (খ) কোপারনিকাস (গ) গ্যালিলিও (ঘ) নিউটন৬। কে সর্বপ্রথম বলেন সূর্যকে মাঝখানে রেখে বাকি গ্রহগুলি ঘুরছে?
(ক) টলেমি (খ) অ্যারিস্টট্ল (গ) ইউডোক্সাস (ঘ) কোপারনিকাস৭। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক কে?
(ক) কোপারনিকাস (খ) টলেমি (গ) অ্যারিস্টট্ল (ঘ) নিউটন৮। পৃথিবী আবর্তন করছে—
(ক) পশ্চিম থেকে পূর্বে (খ) পূর্ব থেকে পশ্চিমে (গ) দক্ষিণ থেকে উত্তরে (ঘ) উত্তর থেকে দক্ষিণে৯। নিম্নলিখিত ভারতের কোন্ শহরে আবর্তন বেগ বেশি?
(ক) চেন্নাই (খ) কলকাতা (গ) দিল্লি (ঘ) শ্রীনগর১০। পশ্চিমবঙ্গের কোন্ জেলায় পৃথিবীর আবর্তন বেগ কম?
(ক) দক্ষিণ ২৪ পরগনা (খ) নদিয়া (গ) মালদহ (ঘ) দার্জিলিং১১। ভারতের কোন্ রাজ্যে প্রথম সূর্যোদয় হয়?
(ক) রাজস্থান (খ) বিহার (গ) পশ্চিমবঙ্গ (ঘ) অরুণাচল প্রদেশ১২। কোন্ অক্ষরেখায় গোধূলির স্থায়িত্বকাল সবচেয়ে কম?
(ক) কর্কটক্রান্তি (খ) মকরক্রান্তি (গ) সুমেরুবৃত্ত (ঘ) নিরক্ষরেখা১৩। ছায়াবৃত্তের কেন্দ্রে কোণের পরিমাণ কত?
(ক) ৯০° (খ) ১৮০° (গ) ২৭০° (ঘ) ৩৬০°১৪। কোন্ বলের প্রভাবে বায়ুর দিকবিক্ষেপ ঘটে?
(ক) নিউটন বল (খ) কোরিওলিস বল (গ) বায়ুচাপের বল (ঘ) উষ্ণতার তারতম্য বল১৫। পৃথিবীতে জোয়ারভাটার মূল কারণ কী?
(ক) চাঁদের আকর্ষণ (খ) সূর্যের আকর্ষণ (গ) কোরিওলিস বল (ঘ) পৃথিবীর আবর্তন১৬। পৃথিবীর মেরুরেখা উল্লম্বরেখার সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে রয়েছে?
(ক) ২৩.৫° (খ) ৫০° (গ) ৬৬.৫° (ঘ) ৯০°১৭। পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ সেকেন্ডে প্রায় কত কিমি?
(ক) ৩০ কিমি (খ) ১০০ কিমি (গ) ৩০০ কিমি (ঘ) ১০০০ কিমি১৮। পৃথিবীর পরিক্রমণ পথটির আকৃতি কেমন?
(ক) গোলাকার (খ) অর্ধবৃত্তাকার (গ) উপবৃত্তাকার (ঘ) সরলরেখার ন্যায়১৯। নিম্নলিখিত কোন্ বছরটি অধিবর্ষ (Leap Year) নয়?
(ক) ১৬০০ (খ) ২০০০ (গ) ২১০০ (ঘ) ২৪০০২০। অপসূর অবস্থান হয় কোন্ তারিখে?
(ক) ৩ জানুয়ারি (খ) ৪ জুলাই (গ) ২১ মার্চ (ঘ) ২১ জুন২১। ২১ জুন তারিখে সূর্যরশ্মি সর্বাধিক ৯০° কোণে পড়ে কোথায়?
(ক) নিরক্ষরেখায় (খ) কর্কটক্রান্তি রেখায় (গ) মকরক্রান্তি রেখায় (ঘ) সুমেরুবৃত্ত রেখায়২২। মহাবিষুব হয় কোন্ তারিখে?
(ক) ২১ জুন (খ) ২১ মার্চ (গ) ২২ ডিসেম্বর (ঘ) ২৩ সেপ্টেম্বর২৩। মকর সংক্রান্তিতে নিরক্ষরেখায় সূর্য রশ্মি সর্বাধিক পতন কোণ কত?
(ক) ৯০° (খ) ৬৬.৫° (গ) ৪৭° (ঘ) ৪৩°২৪। মকরসংক্রান্তি হয় কোন্ তারিখে?
(ক) ২১ জুন (খ) ২১ মার্চ (গ) ২৩ সেপ্টেম্বর (ঘ) ২২ ডিসেম্বর২৫। পৃথিবীর মেরুরেখা কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণে রয়েছে?
(ক) ২৩.৫° (খ) ৪৩° (গ) ৬৬.৫° (ঘ) ৯০°২৬। কোন্ দেশটিতে গেলে মেরুপ্রভা দেখা যাবে?
(ক) মিশর (খ) নরওয়ে (গ) ব্রাজিল (ঘ) চিন২৭। ভারতের কোন্ রাজ্যে সবচেয়ে শেষে সূর্যাস্ত হয়?
(ক) মহারাষ্ট্র (খ) মধ্যপ্রদেশ (গ) গুজরাট (ঘ) পশ্চিমবঙ্গ২৮। কোন্ তারিখটিতে পৃথিবীর সর্বত্র ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত হয়?
(ক) ২১ মার্চ (খ) ২১ জুন (গ) ৪ জুলাই (ঘ) ২২ ডিসেম্বর২৯। কোন্ গ্রহের এক বছরের থেকে একদিন বড়?
(ক) বুধ (খ) শুক্র (গ) মঙ্গল (ঘ) বৃহস্পতি৩০। কোন্ গ্রহের অক্ষ পুরোপুরি উল্লম্ব?
(ক) বুধ (খ) শুক্র (গ) শনি (ঘ) ইউরেনাস৩১। কোন্ বামন গ্রহ সূর্যের সবচেয়ে কাছে রয়েছে?
(ক) এরিস (খ) প্লুটো (গ) হাউমেয়া (ঘ) সেরেসবাক্যটি ‘সত্য’ হলে ‘ঠিক’ এবং ‘অসত্য’ হলে ‘ভুল’ লেখো :
অধ্যায়: পৃথিবীর গতিসমূহ | প্রশ্নমান - ১
উত্তর: ভুল (প্লুটো একটি বামন গ্রহ)
উত্তর: ঠিক
উত্তর: ঠিক
উত্তর: ঠিক
উত্তর: ঠিক (সৌরদিন নক্ষত্র দিন অপেক্ষা ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড বড়)
উত্তর: ভুল (পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে)
উত্তর: ভুল (এটি আবর্তন গতির ফল)
উত্তর: ঠিক
উত্তর: ভুল
উত্তর: ঠিক
উত্তর: ঠিক
উত্তর: ঠিক
উত্তর: ভুল (উচ্চ অক্ষাংশে গোধূলির স্থায়িত্বকাল বেশি হয়)
উত্তর: ভুল (শতাব্দীর বছর ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য না হলে তা অধিবর্ষ হয় না)
উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো
✔ উত্তর: ৫ টি
✔ উত্তর: নেপচুন
✔ উত্তর: শুক্র
✔ উত্তর: ইউরেনাস
✔ উত্তর: কেপলার
✔ উত্তর: নিরক্ষরেখা
✔ উত্তর: কোরিওলিস (Coriolis)
✔ উত্তর: গোধূলি
✔ উত্তর: উপবৃত্তাকার
✔ উত্তর: ৬৬.৫°
✔ উত্তর: ২৯ দিনে
✔ উত্তর: এরিস (Eris)
✔ উত্তর: হাউমেয়া (Haumea)
✔ উত্তর: স্যার আইজ্যাক নিউটন
স্তম্ভ মেলাও (সঠিক উত্তরসহ টেবিল)
* উপরে স্তম্ভ ‘ক’-এর সাথে স্তম্ভ ‘খ’-এর সঠিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে।
দুই-এক কথায় উত্তর দাও
অধ্যায়: পৃথিবীর গতিসমূহ | প্রশ্নমান - ১
উত্তর: ৫টি (সেরেস, প্লুটো, হাউমেয়া, মেকমেক ও এরিস)।
উত্তর: এরিস (Eris)।
উত্তর: জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy)।
উত্তর: ২৪ ঘণ্টা।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতি।
উত্তর: একদিকে দিনের আলোক এবং অন্যদিকে রাতের অন্ধকার।
উত্তর: নিরক্ষরেখায়।
উত্তর: ৩ জানুয়ারি (অনুসূর অবস্থানের সময়)।
উত্তর: উপবৃত্তাকার।
উত্তর: কক্ষপথের অন্যতম নাভিতে বা ফোকাসে (Focus)।
উত্তর: ইউরেনাস।
উত্তর: বুধ (Mercury)।
উত্তর: অপরাহ্ন।
উত্তর: ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law)।
উত্তর: নিরক্ষরেখায়।
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান - ২)
নবম শ্রেণি | ভূগোল | প্রথম অধ্যায়
১. বামন গ্রহ কী?
যেসব জ্যোতিষ্ক মহাকাশে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে কিন্তু নিজের কক্ষপথ থেকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মহাকর্ষীয় শক্তি রাখে না, তাদের বামন গ্রহ বলে। যেমন—সেরেস, প্লুটো।
২. প্লুটোর বর্তমান পরিচয় কী?
২০০৬ সাল পর্যন্ত প্লুটো একটি প্রধান গ্রহ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা (IAU)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্লুটো একটি বামন গ্রহ (Dwarf Planet) হিসেবে পরিচিত।
৩. নক্ষত্র দিন ও সৌরদিন কী?
পৃথিবী কোনো নক্ষত্রকে স্থির রেখে নিজের অক্ষের ওপর একবার আবর্তন করতে যে সময় নেয় (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড) তাকে নক্ষত্র দিন বলে। আর সূর্যকে স্থির রেখে একবার আবর্তন করতে যে সময় নেয় (২৪ ঘণ্টা) তাকে সৌরদিন বলে।
৪. পৃথিবীর আবর্তন হঠাৎ থেমে গেলে কী হবে?
পৃথিবীর আবর্তন থেমে গেলে যে দিক সূর্যের সামনে থাকবে সেখানে চিরকাল দিন এবং প্রচণ্ড উত্তাপ থাকবে। উল্টোদিকে চিরকাল রাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা থাকবে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে।
৫ ও ১৬. সূর্যের দৈনিক আপাত গতি কী?
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করার কারণে প্রতিদিন সকালে সূর্যকে পূর্ব আকাশ থেকে উঠে পশ্চিম আকাশে অস্ত যেতে দেখা যায়। সূর্যের এই চলনকে সূর্যের দৈনিক আপাত গতি বলে।
৬. কোরিওলিস বল কী?
পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে ভূপৃষ্ঠের গতিশীল বস্তুসমূহ (যেমন—বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত) সরাসরি না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। এই বিচ্যুতি সৃষ্টিকারী বলকে কোরিওলিস বল বলে।
৭. ছায়াবৃত্ত কী?
ভূপৃষ্ঠে আলোকিত অর্ধাংশ এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন অর্ধাংশের মধ্যবর্তী সংযোগকারী বৃত্তাকার সীমারেখাকে ছায়াবৃত্ত বলে।
৮. উষা ও গোধূলি কী?
সূর্যোদয়ের ঠিক আগের অস্পষ্ট আলোককে উষা বলে এবং সূর্যাস্তের ঠিক পরের অস্পষ্ট আলোককে গোধূলি বলে। বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণায় সূর্যরশ্মি বিচ্ছুরিত হওয়ার ফলে এটি ঘটে।
১৪. রবিমার্গ কী?
পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে সূর্যকে বছরের বিভিন্ন সময়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২১ জুন) ও মকরক্রান্তি রেখার (২২ ডিসেম্বর) মধ্যে চলাফেরা করতে দেখা যায়। সূর্যের এই বার্ষিক আপাত পথকে রবিমার্গ বলে।
১০. পৃথিবীর পরিক্রমণ কী?
পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসাকে পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতি বলে।
১১. পৃথিবীর কক্ষপথের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
১. কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার যার একটি নাভিতে সূর্য অবস্থান করে।
২. কক্ষপথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিলোমিটার।
১২. পৃথিবীর অপসূর অবস্থান কী?
৪ঠা জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। পৃথিবীর এই অবস্থানকে অপসূর বলে।
১৩. ২১০০ সালের আগে ও পরে কোন্ দুটি বছর অধিবর্ষ?
২১০০ সাল যেহেতু ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য নয়, তাই এটি অধিবর্ষ নয়। এর আগের অধিবর্ষ বছরটি হলো ২০৯৬ এবং পরেরটি হলো ২১০৪।
১৫. নিশীথ সূর্য কী?
সুমেরু ও কুমেরু বৃত্তে গ্রীষ্মকালে যখন স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১২টা বাজে, তখনও সূর্যকে দিগন্তরেখায় দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। মধ্যরাত্রির এই সূর্যকে নিশীথ সূর্য বলে (যেমন—নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর)।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (প্রশ্নমান - ৩)
নবম শ্রেণি | ভূগোল | বিশেষ সহায়িকা নোটস
১। কুলীন ও বামন গ্রহের তফাত কী?
- আকার: কুলীন গ্রহ আকারে অনেক বড় হয়, কিন্তু বামন গ্রহ আকারে বেশ ছোট।
- কক্ষপথের পরিচ্ছন্নতা: কুলীন গ্রহ তার কক্ষপথের অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বামন গ্রহের সেই ক্ষমতা নেই।
- উপগ্রহ: কুলীন গ্রহের সাধারণত এক বা একাধিক উপগ্রহ থাকে, কিন্তু বামন গ্রহের উপগ্রহ থাকতেও পারে আবার নাও পারে।
২। নক্ষত্র দিন অপেক্ষা সৌরদিন দীর্ঘতর কেন?
পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘুরতে ঘুরতে কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। নক্ষত্র দিন হিসাব করা হয় দূরবর্তী কোনো স্থির নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড)। কিন্তু সূর্যকে পুনরায় আগের অবস্থানে দেখতে পৃথিবীকে আরও প্রায় ১ ডিগ্রি বা ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড অতিরিক্ত ঘুরতে হয়। এই কারণেই সৌরদিন (২৪ ঘণ্টা) নক্ষত্র দিন অপেক্ষা দীর্ঘতর।
৩। নিরক্ষরেখায় আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি কেন?
পৃথিবী একটি গোলক এবং এর পরিধি নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি)। যেহেতু পৃথিবীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একবার আবর্তন সম্পন্ন করতে হয়, তাই বিশাল এই পথ অতিক্রম করতে নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর গতিবেগ সবচেয়ে বেশি (ঘণ্টায় প্রায় ১৬৭০ কিমি) রাখা প্রয়োজন। মেরুর দিকে পরিধি কম হওয়ায় গতিবেগও কমে যায়।
৪। আমরা পৃথিবীর আবর্তন বুঝতে পারি না কেন?
- পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট ও সুষম গতিতে ঘুরছে, যার কোনো ঝাঁকুনি নেই।
- পৃথিবীর সাথে সাথে তার বায়ুমণ্ডল এবং আমরা নিজেরাও একই গতিতে আবর্তন করছি।
- আমাদের চারপাশে থাকা গাছপালা, পাহাড় বা বাড়িঘরও একই গতিতে ঘুরছে বলে আমাদের সাপেক্ষে তারা স্থির।
৫ ও ৭। কোরিওলিস বলের বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব কী?
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই বলের বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- এটি কোনো বস্তুর গতির ওপর কাজ করে না, কেবল দিক পরিবর্তন করে।
- নিরক্ষরেখায় এই বলের মান শূন্য এবং মেরুতে সর্বাধিক।
- এর প্রভাবেই বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায় (ফেরেলের সূত্র)।
৬। উষা ও গোধূলি কেন হয়?
সূর্যোদয়ের আগে বা সূর্যাস্তের পরে সূর্য দিগন্তরেখার নিচে থাকলেও তার আলো বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ধূলিকণা ও জলকণা দ্বারা বিচ্ছুরিত হয়। এই বিচ্ছুরিত আলো পৃথিবীতে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে বলেই সরাসরি সূর্যকে দেখার আগেই আমরা হালকা আলো দেখতে পাই, যা উষা ও গোধূলি সৃষ্টি করে।
৮ ও ৯। পৃথিবীর অক্ষ হেলে থাকার ফল কী?
পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকার ফলে:
- বছরের বিভিন্ন সময়ে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য ছোট-বড় হয়।
- সূর্যরশ্মির পতন কোণের পরিবর্তন ঘটে এবং ঋতু পরিবর্তন হয়।
- যদি অক্ষ সর্বদা উল্লম্ব (৯০°) থাকতো, তবে সারা বছর দিন-রাত সমান থাকতো এবং কোনো ঋতু পরিবর্তন হতো না।
১০ ও ১১। ২১০০ সাল অধিবর্ষ হবে না কেন?
পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে প্রকৃত সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। আমরা সুবিধার্থে ৩৬৫ দিন ধরি এবং অতিরিক্ত সময়কে মেলাতে প্রতি ৪ বছর অন্তর ১ দিন যোগ করি। কিন্তু প্রতি ৪ বছরে ১১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড বেশি ধরা হয়ে যায়। এই ত্রুটি কমাতে নিয়ম করা হয়েছে যে, শতাব্দীর বছরগুলো (যেমন ২১০০, ১৯০০) অবশ্যই ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হতে হবে। ২১০০ সাল ৪ দিয়ে বিভাজ্য হলেও ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য নয়, তাই এটি লিপ ইয়ার হবে না।
১২। অপসূর ও অনুসূর অবস্থানের পার্থক্য কী?
| বিষয় | অপসূর | অনুসূর |
|---|---|---|
| তারিখ | ৪ঠা জুলাই | ৩রা জানুয়ারি |
| দূরত্ব | ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি | ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি |
১৩। উত্তর মেরুতে সূর্যকে কেন ৭ দিন বেশি দেখা যায়?
পৃথিবীর কক্ষপথটি উপবৃত্তাকার। উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্মকাল (অপসূর অবস্থানের কাছাকাছি), তখন পৃথিবী সূর্য থেকে দূরে থাকায় কেপলারের সূত্র অনুযায়ী তার পরিক্রমণ গতি কিছুটা কমে যায়। ফলে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের সামনে বেশিদিন অবস্থান করে, যা দক্ষিণ মেরুর তুলনায় উত্তর মেরুতে প্রায় ৭ দিন বেশি আলোক প্রদান করে।
১৪। ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দিন-রাত সমান হয় কেন?
এই দুটি দিনে সূর্য সরাসরি নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। একে 'বিষুব' বলা হয়। এই সময় উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সূর্য থেকে সমান দূরত্বে থাকে এবং ছায়াবৃত্ত সমস্ত অক্ষরেখাকে সমান দুটি ভাগে ভাগ করে। তাই সারা পৃথিবীতে ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত হয়।
১৫। কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তির পার্থক্য কী?
কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন): সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখায় (২৩.৫° উত্তর) লম্বভাবে কিরণ দেয়। উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হয়।
মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসেম্বর): সূর্য মকরক্রান্তি রেখায় (২৩.৫° দক্ষিণ) লম্বভাবে কিরণ দেয়। দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হয়।
১৬। উচ্চ অক্ষাংশে নিশীথ সূর্যের অবস্থা হয় কেন?
পৃথিবীর অক্ষ ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকার ফলে উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে সুমেরু বৃত্তের (৬৬.৫° উত্তর) উত্তরের অঞ্চলগুলি সবসময় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। পৃথিবী আবর্তন করলেও এই অঞ্চলগুলি ছায়াবৃত্তের বাইরে বের হতে পারে না, ফলে মধ্যরাতেও সূর্য দেখা যায়।
১৭। অরোরা কী এবং কেন সৃষ্টি হয়?
মেরু অঞ্চলে আকাশজুড়ে যে রঙিন আলোর খেলা দেখা যায় তাকে অরোরা বা মেরুজ্যোতি বলে। সূর্যের মহাজাগতিক রশ্মি বা সৌরকণা যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আয়ন স্তরে থাকা গ্যাসীয় অণুর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রতিক্রিয়ায় এই বিচ্ছুরিত আলো বা অরোরার সৃষ্টি হয়। উত্তর গোলার্ধে একে অরোরা বোরিয়ালিস এবং দক্ষিণে অরোরা অস্ট্রালিস বলে।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (Long Answer Type)
প্রশ্নমান - ৫ | ভূগোল সহায়িকা
১। পৃথিবীর আবর্তনের প্রধান দুটি ফলাফল উল্লেখ করো।
পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রধান দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো:
ক) দিন ও রাত্রি সংগঠন: পৃথিবী একটি গোলক এবং এর নিজস্ব কোনো আলো নেই। আবর্তনের সময় পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে 'দিন' হয় এবং বিপরীত অংশে 'রাত' হয়। এই আবর্তনের ফলেই ১২ ঘণ্টা অন্তর দিন ও রাতের চক্র আবর্তিত হয়।
খ) কোরিওলিস বলের সৃষ্টি ও দিকবিক্ষেপ: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে ভূপৃষ্ঠে এক প্রকার কেন্দ্রবিমুখী বলের সৃষ্টি হয়, একে কোরিওলিস বল বলে। এই বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ এবং সমুদ্রস্রোত সোজা পথে না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়। একে ফেরেলের সূত্রও বলা হয়।
২। আবর্তনের প্রভাবে দিন ও রাত্রি কীভাবে ঘটে চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করার সময় তার অর্ধাংশ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়।
- উষা ও সূর্যোদয়: অন্ধকার অংশ যখন ধীরে ধীরে আলোর সংস্পর্শে আসে।
- মধ্যাহ্ন: যখন সূর্য ঠিক মাথার ওপর থাকে।
- গোধূলি ও সূর্যাস্ত: আলোকিত অংশ যখন অন্ধকারের দিকে সরে যায়।
- নিশীথ: যখন সূর্য পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে থাকে।
[চিত্র নির্দেশনা]: একটি বৃত্ত এঁকে তার একদিকে সূর্য আঁকুন। বৃত্তের অর্ধেক অংশে আলো এবং বাকি অর্ধেকের মাঝখানে 'ছায়াবৃত্ত' চিহ্নিত করে দিন ও রাত্রি দেখান।
৩। চিত্রসহ অপসূর ও অনুসূর অবস্থান এবং এর ফলাফল।
পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব পরিবর্তিত হয়।
অনুসূর (৩ জানুয়ারি): এই দিনে দূরত্ব সবচেয়ে কম হয় (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম হয় এবং পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি সামান্য বৃদ্ধি পায়।
অপসূর (৪ জুলাই): এই দিনে দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের তীব্রতা কিছুটা কম হয় এবং পরিক্রমণ গতি সামান্য কমে যায়।
[চিত্র নির্দেশনা]: একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথের একপাশে সূর্য এবং তার দুই প্রান্তে পৃথিবীর দুটি অবস্থান তারিখ ও দূরত্বসহ চিহ্নিত করুন।
৪। কর্কট ও মকরসংক্রান্তিতে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্যের অবস্থা।
কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন): এই দিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। কুমেরু বৃত্তে একটানা ২৪ ঘণ্টা রাত থাকে।
মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসেম্বর): এই দিন সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। সুমেরু বৃত্তে এই সময় একটানা ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার থাকে।
৫ ও ৬। পৃথিবীতে ঋতুপরিবর্তন কেন এবং কীভাবে হয়?
ঋতুপরিবর্তনের প্রধান কারণগুলি হলো:
- পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণ গতির কারণে সূর্যরশ্মির পতন কোণের পরিবর্তন ঘটে।
- অক্ষতলের হেলানো অবস্থান: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকার ফলে পরিক্রমণের সময় নির্দিষ্ট গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে।
- সূর্যরশ্মির পতন কোণ: লম্বভাবে পড়া রশ্মি বেশি উত্তাপ দেয় এবং তির্যক রশ্মি কম উত্তাপ দেয়। এর ফলেই উষ্ণতার তারতম্য ঘটে এবং গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত—এই চারটি ঋতুর চক্র পরিলক্ষিত হয়।
আপনি কি আরও বড় এবং বিস্তারিত উত্তর চান?
যদি আপনার কোনো বিশেষ প্রশ্নের আরও বড় ব্যাখ্যামূলক উত্তরের প্রয়োজন হয়, তবে দেরি না করে এখনই নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান।
আমরা আপনার প্রতিটি কমেন্টের গুরুত্ব দিই এবং দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি।

0 মন্তব্যসমূহ