ইলিয়াস গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 9
ইলিয়াস – লিও তলস্তোয়
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ নম্বরের প্রশ্ন)
‘ইলিয়াস’ গল্পটি কার লেখা?
ইলিয়াস কোন গোষ্ঠীর মানুষ ছিল?
বিয়ের সময় ইলিয়াসের বাবা তাকে কী কী সম্পত্তি দিয়েছিলেন?
ইলিয়াসের বড় ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?
ইলিয়াসের ছোট ছেলেকে বাড়ি থেকে কেন তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল?
ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগি কত বছর কঠোর পরিশ্রম করেছিল?
পঁচিশ বছর পরে ইলিয়াসের মোট ঘোড়ার সংখ্যা কত হয়েছিল?
ইলিয়াসের জনৈক প্রতিবেশী ও দয়ালু ব্যক্তির নাম কী?
মহম্মদ শা ইলিয়াসকে কী কাজ দিয়েছিলেন?
শাম-শেমাগি মহম্মদ শার বাড়িতে কী কাজ করত?
ইলিয়াস – লিও তলস্তোয়
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১১ থেকে ২০ নম্বর)
কুমিজ (Kumiss) কী?
ইলিয়াস ও তার স্ত্রী ভাড়াটে মজুর হিসেবে কত বছর কাজ করেছিল?
ইলিয়াস অতিথিদের সামনে বসে কী পান করছিল?
ইলিয়াসের সম্পত্তিতে টান পড়ার প্রধান কারণ কী ছিল?
"তারা খিদের জ্বালায় ঘোড়াগুলো চুরি করতে লাগল"—কারা চুরি করত?
পঁচিশ বছর বয়সে ইলিয়াসের অবস্থা কেমন ছিল?
বর্তমানে ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর পাহারাদার কে?
অতিথিরা যখন বাড়িতে এল, তখন ইলিয়াস কী করছিল?
ইলিয়াসের বড় মেয়েটির কী হয়েছিল?
গল্পের শেষে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী প্রকৃত সুখ কোথায় খুঁজে পেয়েছিল?
ইলিয়াস গল্পের(২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ - নবম শ্রেণি
"আশেপাশের সকলেই তাকে ঈর্ষা করত"—কাকে কেন ঈর্ষা করত?
ইলিয়াসের ছোট ছেলেটি কেন তার অবাধ্য হয়ে উঠেছিল?
বৃদ্ধ বয়সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর অবস্থা কেন শোচনীয় হয়ে পড়েছিল?
মহম্মদ শা কেন ইলিয়াসকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন?
"এ বড়ো অদ্ভুত ব্যাপার"—কোন ব্যাপারটিকে অদ্ভুত বলা হয়েছে?
ইলিয়াস (প্রশ্নোত্তর: ৬ থেকে ১০)
সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (মান - ২)
"তখন আমরা ছিলাম বড়ো ব্যস্ত"—কোন সময়ের কথা বলা হয়েছে?
"আমরা কেবলই পাপ বাড়িয়ে চলেছিলাম"—পাপ বাড়ানোর কথা কেন বলা হয়েছে?
ইলিয়াস কীভাবে তার সর্বস্ব হারিয়েছিল?
"বৃদ্ধ এখন তাদের পাশে বসে আছে"—অতিথিরা বৃদ্ধকে দেখে কী ভাবছিলেন?
শাম-শেমাগি কেন অতিথিদের কাছে তার জীবনের সত্য প্রকাশ করতে চেয়েছিল?
ইলিয়াস: বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্নোত্তর
ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নোত্তর (মান - ৩)
"ছেলেরা সব বড়ো হয়ে উঠল"—ইলিয়াসের ছেলেদের পরিণতির বর্ণনা দাও।
"প্রতিবেশীরা বলত—ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ"—প্রতিবেশীরা কেন এমন মনে করত?
"মরার চেয়েও খারাপ অবস্থা"—কাদের সম্পর্কে কেন এই উক্তি করা হয়েছে?
"খুবই চমৎকার!"—অতিথিরা ইলিয়াসের কথা শুনে কেন এমন মন্তব্য করেছিলেন?
"তার সম্পত্তিতে টান পড়ল"—কী কী কারণে ইলিয়াসের সম্পত্তিতে টান পড়েছিল?
ইলিয়াস: প্রশ্নোত্তর (৬ থেকে ১০)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর (মান - ৩)
মহম্মদ শা-র আতিথেয়তার পরিচয় দাও।
"অতিথিরা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল"—অতিথিদের বিস্ময়ের কারণ কী ছিল?
"খোদার দয়ায় আমাদের অবস্থা এখন ভালো"—কে এ কথা বলেছে? বর্তমান অবস্থাটি কেমন?
"সুখ খুঁজে পাওয়ার জন্য পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা ঘুরেছি"—প্রকৃত সুখ বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?
ইলিয়াসের বর্তমান জীবন ও অতীত জীবনের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।
ইলিয়াস গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর
ইলিয়াস: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর
বিশ্লেষণাত্মক ও ব্যাখ্যামূলক আলোচনা (মান - ৫)
'ইলিয়াস' গল্পটি অবলম্বনে ইলিয়াস চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
লিও তলস্তোয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইলিয়াস এক অনন্য জীবনবোধের প্রতিচ্ছবি। তার চরিত্রের প্রধান দিকগুলি হলো:
- ১. কঠোর পরিশ্রমী: ইলিয়াস পঁচিশ বছর ধরে অমানুষিক পরিশ্রম করে সামান্য সাতটি ঘোড়ি থেকে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছিল। তার এই উত্তরণ তাকে এক কর্মঠ পুরুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- ২. শৃঙ্খলা ও ন্যায়পরায়ণতা: সে তার ছেলেদের সুশৃঙ্খল রাখতে চেয়েছিল। ছোট ছেলে অবাধ্য হওয়ায় সে কঠোর হাতে তাকে শাসন করেছে এবং আলাদা করে দিয়েছে।
- ৩. দার্শনিক সত্তা: গল্পের শেষে ইলিয়াস এক মহান সত্যের উন্মোচন করেন। সম্পদ হারিয়ে সে মুষড়ে পড়েনি, বরং জীবনের প্রকৃত সুখ যে আত্মিক শান্তিতে—তা উপলব্ধি করে এক স্থিতপ্রজ্ঞ মানুষের পরিচয় দিয়েছে।
উপসংহার: ইলিয়াস চরিত্রটি আমাদের শেখায় যে জাগতিক সাফল্যের চেয়ে মানসিক শান্তি ও ঈশ্বর-নির্ভরতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
"পঁচিশ বছর ধরে পরিশ্রম করে সে প্রচুর সম্পত্তি করে ফেলল"—ইলিয়াসের সম্পদ বৃদ্ধির ইতিহাসটি লেখো।
ইলিয়াসের অর্থনৈতিক উন্নতির ইতিহাস জিরো থেকে হিরো হওয়ার এক মহাকাব্যিক লড়াই। পঁচিশ বছর বয়সে যখন ইলিয়াসের বাবা মারা যান, তখন তাঁর হাতে ছিল মাত্র ৭টি ঘোড়ি, ২টি গরু এবং ২০টি ভেড়া। কিন্তু ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগি ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমে ব্রতী হয়।
তাদের এই একাগ্রতা ও মিতব্যয়িতার ফলে পঁচিশ বছর পর তাদের সম্পদ অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তখন তার মালিকানায় ছিল ২০০টি ঘোড়া, ১৫০টি গরু এবং ১২০০টি ভেড়া। প্রচুর ভাড়াটে মজুর ও মেষপালক তার অধীনে কাজ করত। পশুপালন ছাড়াও কুমিজ ও পনির বিক্রির মাধ্যমে তার আয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এভাবেই এক সাধারণ বাশকির থেকে ইলিয়াস উফা প্রদেশের এক প্রতিপত্তিশালী ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিল।
"সুখী হওয়ার পরিবর্তে আমরা কেবলই পাপ বাড়িয়ে চলেছিলাম"—বক্তার উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উদ্ধৃত উক্তিটি ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগির। ধনী থাকাকালীন তাদের জীবন যে কতটা অন্তঃসারশূন্য ছিল, তা বোঝাতে তিনি 'পাপ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
তাৎপর্য: ধনী অবস্থায় তাদের মধ্যে অহংকার বাসা বেঁধেছিল। তারা মজুরদের ওপর অহেতুক কড়াকড়ি করত, প্রতিবেশীদের নিন্দা করত এবং সারাদিন সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েই দুশ্চিন্তায় কাটাত। অতিথিদের খুশি করার আতিশয্যে তারা প্রভুর নাম নেওয়ার সময় পেত না। সম্পত্তিতে টান পড়লে তারা হতাশ হয়ে পড়ত, যা আধ্যাত্মিক পতন ডেকে এনেছিল। এই বিষয়াসক্তি এবং নৈতিক অবনতিকেই বক্তা এখানে 'পাপ বাড়ানো' বলে অভিহিত করেছেন।
"পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা সুখ খুঁজেছি"—ইলিয়াস ও শাম-শেমাগি কীভাবে প্রকৃত সুখের সন্ধান পেল তা আলোচনা করো।
গল্পের শুরু থেকে ইলিয়াস দম্পতি জাগতিক সম্পদকে সুখের মানদণ্ড মনে করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর যখন তারা নিঃস্ব হয়ে মহম্মদ শার বাড়িতে মজুরি শুরু করল, তখনই তারা জীবনের এক পরম সত্যের মুখোমুখি হলো।
এখন তাদের কোনো সম্পত্তি নেই, তাই কোনো হারানোর ভয় নেই। সারাদিন কাজ শেষে তারা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। এখন তারা একে অপরের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলার সময় পায় এবং প্রভুর আরাধনায় মন দিতে পারে। আগে তারা ছিল সম্পদের পাহারাদার, এখন তারা নিজেদের মনের মালিক। এই ভারমুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং ঈশ্বর-নির্ভর জীবনই তাদের প্রকৃত সুখের সন্ধান দিয়েছে। গল্পটি প্রমাণ করে যে, সুখ বাইরে নয় বরং মনের গভীরে এবং সন্তুষ্টির মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
'ইলিয়াস' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
সাহিত্যে নামকরণ সাধারণত বিষয়ধর্মী বা চরিত্রকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। লিও তলস্তোয়ের এই গল্পটি সরাসরি প্রধান চরিত্রের নামানুসারে 'ইলিয়াস' রাখা হয়েছে।
গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইলিয়াসকে কেন্দ্র করেই কাহিনীর বিবর্তন ঘটেছে। তার উত্থান, চরম বৈভব, দারিদ্র্যে পতন এবং অবশেষে এক নতুন জীবনদর্শন লাভ—সবই তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গল্পে ইলিয়াস কেবল একটি চরিত্র নয়, বরং এক মানবিক অভিজ্ঞতার প্রতীক। তার মাধ্যমেই লেখক জীবনের নশ্বরতা ও আধ্যাত্মিক শান্তির জয়গান গেয়েছেন। যেহেতু পুরো গল্পের ঘটনাপ্রবাহ ইলিয়াসের জীবনকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে, তাই ‘ইলিয়াস’ নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
© ২০২৬ Teach Vibes
ইলিয়াস: দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর (পর্ব-২)
নবম শ্রেণি - পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (মান - ৫)
"দুর্ভাগ্য তো একা আসে না"—গল্পের প্রেক্ষিতে এই প্রবাদটির সত্যতা যাচাই করো।
লিও তলস্তোয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্পে ইলিয়াসের জীবন এক ট্র্যাজিক পরিবর্তনের উদাহরণ। প্রবাদটির সত্যতা এখানে প্রমাণিত হয় তার ধারাবাহিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে:
- পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা: ইলিয়াসের বড় ছেলে মারপিটে মারা যায় এবং ছোট ছেলে অবাধ্য হয়ে ঘর ছাড়ে। এতে তার মানসিক ও আর্থিক শক্তির প্রথম ক্ষয় শুরু হয়।
- প্রাকৃতিক ও ব্যবসায়িক বিপর্যয়: এক মহামারীতে ইলিয়াসের অনেক মেষ মারা যায় এবং এর পর শুরু হয় চরম দুর্ভিক্ষ। ফলে পশুখাদ্যের অভাবে তার গরু ও ঘোড়িগুলো মরতে থাকে।
- চুরি ও নিঃস্ব হওয়া: সবশেষে কির্গিজরা তার সেরা ঘোড়াগুলো চুরি করে নিয়ে গেলে সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস একবারে রিক্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
মন্তব্য: একের পর এক বিপদ যেভাবে ইলিয়াসকে ঘিরে ধরেছিল, তা এই প্রবাদটিকেই সার্থক করে তোলে।
মহম্মদ শা-র বাড়িতে থাকাকালীন ইলিয়াসের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বর্ণনা করো।
মহম্মদ শা-র বাড়িতে আশ্রিত অবস্থায় ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর জীবন ছিল হাড়ভাঙা খাটুনির। তাদের দৈনন্দিন কাজ ছিল নিম্নরূপ:
ইলিয়াস গ্রীষ্মকালে খুব ভোরে উঠে মহম্মদ শার তরমুজ ক্ষেতে কাজ করত। প্রচণ্ড রোদে তাকে ঘাম ঝরিয়ে জমির তদারকি করতে হতো। শীতকালে সে গরু ও ঘোড়াদের খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করত। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম-শেমাগি ঘোড়িদের দুধ দোয়াত এবং কুমিজ তৈরি করত। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও তারা নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের কাজ করত। তবে এই কঠোর পরিশ্রমের পরেও দিনের শেষে তারা খোদার কাছে প্রার্থনা করার সুযোগ পেত এবং নিশ্চিন্তে ঘুমাত। একসময়ের মালিক হয়েও মজুরের জীবন তারা হাসি মুখে মেনে নিয়েছিল।
গল্পের শেষে অতিথিরা কেন গম্ভীর হয়ে গিয়েছিল? তাদের চিন্তার কারণ কী ছিল?
ইলিয়াস ও শাম-শেমাগির জীবনদর্শন শোনার পর মহম্মদ শার বাড়িতে আগত অতিথিরা গম্ভীর হয়ে যান। তাদের চিন্তার কারণ ছিল:
- জীবনের অনিশ্চয়তা: একসময়ের অঢেল সম্পদের মালিক ইলিয়াস আজ নিঃস্ব পরিচারক। এই পরিবর্তন তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করেছিল যে সম্পদ কখনও চিরস্থায়ী হয় না।
- সুখের ভুল সংজ্ঞা: অতিথিরা এতদিন সম্পত্তিকেই সুখের উৎস মনে করতেন। কিন্তু ইলিয়াসের মুখে 'নিঃস্ব অবস্থায় সুখ' পাওয়ার কথা শুনে তাদের প্রচলিত ধ্যানধারণা ধাক্কা খায়।
- আত্মিক অনুসন্ধান: ইলিয়াস যখন বললেন যে ধনসম্পদ তাদের প্রভুর থেকে দূরে সরিয়ে পাপ বাড়িয়েছিল, তখন অতিথিরা নিজেদের জীবনের সার্থকতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। এই গভীর দার্শনিক উপলব্ধিই তাদের বাক্যহারা ও গম্ভীর করে দিয়েছিল।
"এ এক মস্ত সত্য"—গল্পে কোন সত্যের কথা বলা হয়েছে? মানবজীবনে এর গুরুত্ব আলোচনা করো।
গল্পে ইলিয়াস যে সত্যের কথা বলেছেন তা হলো—জাগতিক সম্পদ সুখের নিশ্চয়তা দেয় না; প্রকৃত সুখ লুকিয়ে থাকে মানসিক শান্তি এবং ঈশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণে।
মানবজীবনে গুরুত্ব: বর্তমান ভোগবাদী সমাজে মানুষ কেবল অর্থের পেছনে ছুটছে। কিন্তু ইলিয়াস দেখিয়েছেন যে অগাধ সম্পদ দুশ্চিন্তা, ঈর্ষা এবং আত্মিক শূন্যতা নিয়ে আসে। মানুষের উচিত বিষয়-সম্পত্তির মোহে অন্ধ না হয়ে নৈতিকতা ও ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেওয়া। অভাব বা দারিদ্র্য সবসময় অভিশাপ নয়, কখনও কখনও এটি মানুষকে নিজের মনের কাছাকাছি পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই সত্যটি উপলব্ধি করলে মানুষ অহেতুক প্রতিযোগিতা ও অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারে।
শাম-শেমাগির চরিত্রটি গল্পে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে তা বর্ণনা করো।
শাম-শেমাগি চরিত্রটি ‘ইলিয়াস’ গল্পে এক ধৈর্যশীল ও সহমর্মী নারীর প্রতীক হিসেবে ফুটে উঠেছে। তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- যোগ্য সহধর্মিণী: স্বামীর সুখের দিনে যেমন সে কঠোর পরিশ্রম করেছে, দুর্দিনেও তেমনি ছায়ার মতো পাশে দাঁড়িয়েছে।
- বাস্তববাদী ও সাহসী: সর্বস্ব হারিয়ে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে সে দ্বিধাবোধ করেনি। নিজের সম্মান রক্ষার চেয়ে কর্তব্য পালনকেই সে বড় মনে করেছে।
- আধ্যাত্মিক বিবর্তন: সে-ই প্রথম অতিথিদের সামনে সাহস করে সত্যটা প্রকাশ করে যে সম্পদ নয়, রিক্ততাই তাদের শান্তি দিয়েছে।
উপসংহার: ইলিয়াসের জীবনের পূর্ণতা আসে শাম-শেমাগির সমর্থনের মাধ্যমেই। সে শুধু একজন স্ত্রী নয়, বরং ইলিয়াসের আধ্যাত্মিক যাত্রার পথপ্রদর্শকও বটে।
ইলিয়াস (লিও তলস্তোয়)
গল্পের উৎস ও মূল বিষয়বস্তু আলোচনা
গল্পের উৎস (Source)
গল্পের বিষয়বস্তু (Subject Matter)
‘ইলিয়াস’ গল্পটি মূলত মানুষের জীবনের উত্থান-পতন এবং প্রকৃত সুখের অনুসন্ধানের এক আধ্যাত্মিক কাহিনী। গল্পের মূল বিষয়বস্তুকে নিম্নলিখিতভাবে আলোচনা করা যায়:
- বৈভবের দিন: মধ্য এশিয়ার উফা প্রদেশে বসবাসকারী এক বাশকির মানুষ ইলিয়াস। বিয়ের সময় সামান্য সম্পদ থাকলেও দীর্ঘ ৩৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমে সে অঞ্চলের বিখ্যাত ধনীতে পরিণত হয়। তার অঢেল সম্পত্তি, ঘোড়া, গরু ও ভেড়ার পাল তাকে প্রতিপত্তিশালী করে তোলে।
- পতন ও দারিদ্র্য: ভাগ্যের পরিহাসে ইলিয়াসের পতন শুরু হয়। অবাধ্য ছোট ছেলেকে আলাদা করে দেওয়া, দুর্ভিক্ষে পশুমড়ক এবং কির্গিজদের দ্বারা ঘোড়া চুরির ফলে সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তারা প্রতিবেশী মহম্মদ শা-র বাড়িতে পরিচারক হিসেবে কাজ শুরু করে।
- প্রকৃত সুখের দর্শন: গল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ে দেখা যায়, সম্পদ হারিয়েও ইলিয়াস দম্পতি পরম শান্তিতে আছে। তারা অতিথিদের কাছে প্রকাশ করে যে, ধনী অবস্থায় তারা কখনও শান্তিতে থাকতে পারেনি—ভয়, দুশ্চিন্তা আর পাপে তাদের জীবন অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আজ নিঃস্ব হয়ে তারা আত্মিক শান্তি ও ভগবানের সান্নিধ্য খুঁজে পেয়েছে।
উপসংহার: লেখক এই গল্পের মাধ্যমে পাঠকদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, জাগতিক ধনসম্পদ মানুষের প্রকৃত সুখের গ্যারান্টি দেয় না; বরং নিরভিমান জীবন এবং মানসিক প্রশান্তিই জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
© ২০২৬ | আপনার শিক্ষা সহায়িকা
ইলিয়াস: নাট্যরূপ (Drama Version)
লিও তলস্তোয়ের অমর কাহিনীর মঞ্চরূপ
চরিত্রলিপি:
- 🎭 ইলিয়াস: কেন্দ্রীয় চরিত্র (বৃদ্ধ)
- 🎭 শাম-শেমাগি: ইলিয়াসের স্ত্রী
- 🎭 মহম্মদ শা: দয়ালু প্রতিবেশী
- 🎭 অতিথি: মহম্মদ শার বাড়িতে আগত ব্যক্তি
- 🎭 সূত্রধর: বর্ণনাকারী
প্রথম দৃশ্য: বৈভব ও পতন
[মঞ্চের একপাশে সূত্রধর দাঁড়িয়ে বর্ণনা করছেন। অন্যপাশে ইলিয়াস ও তাঁর স্ত্রী ব্যস্তভাবে মজুরদের নির্দেশ দিচ্ছেন।]
সূত্রধর: উফা প্রদেশের বাশকির জনজাতিতে একসময় ইলিয়াস ছিল সবচেয়ে ধনী। কিন্তু কালক্রমে ভাগ্য তাকে বিদ্রূপ করল। মহামারী, পশুমড়ক আর চুরির আঘাতে সে আজ নিঃস্ব।
ইলিয়াস: (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) শাম-শেমাগি, আমাদের আর কিছুই রইল না। শেষমেশ প্রতিবেশী মহম্মদ শার আশ্রয়েই আমাদের যেতে হবে।
দ্বিতীয় দৃশ্য: মহম্মদ শার অন্দরমহল
[মহম্মদ শা তাঁর অতিথিদের নিয়ে চা পান করছেন। বৃদ্ধ ইলিয়াস ও শাম-শেমাগি নিরবে সেবা করে চলেছেন।]
মহম্মদ শা: ওই যে বৃদ্ধকে দেখছেন, উনিই একসময়ের বিখ্যাত ধনী ইলিয়াস। আজ তিনি আমার মজুর।
অতিথি: (বিস্ময়ে) কী বলছেন মহম্মদ শা! এই মানুষটিই সেই বিখ্যাত ইলিয়াস? ভাগ্যের কী নিষ্ঠুর পরিহাস!
ইলিয়াস: (হেসে) আজ্ঞে বাবু, ভাগ্য এখন আমার ওপর করুণা করেছে। তাই তো আমি আজ প্রকৃত সুখী!
তৃতীয় দৃশ্য: চরম সত্যের উন্মোচন
অতিথি: ইলিয়াস সাহেব, আপনি একসময় সম্রাট ছিলেন, আজ মজুর—তবু আপনি বলছেন সুখী? কীভাবে?
শাম-শেমাগি: (এগিয়ে এসে) বাবু, যখন ধনী ছিলাম তখন সারারাত ভয়ে ঘুম আসত না—কোথাও চুরি হলো কি না, পশুমড়ক হলো কি না। ভগবানকে ডাকার সময় ছিল না। কিন্তু আজ আমরা নিঃস্ব, তাই আমরা ভয়মুক্ত। আজ আমরা একে অপরের সাথে কথা বলার সময় পাই, প্রভুর নাম জপতে পারি।
ইলিয়াস: ঠিক তাই! পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা সম্পদ আগলে সুখ খুঁজেছি, কিন্তু আজ রিক্ত হয়েই সেই সুখ খুঁজে পেয়েছি।
[অতিথিরা গম্ভীর হয়ে একে অপরের দিকে তাকান। মঞ্চের আলো ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে।]
— যবনিকা —
সম্পাদনা ও রূপান্তর : Sanjib Sir
© ২০২৬ | শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত
নামকরণের সার্থকতা: ইলিয়াস
লিও তলস্তোয়ের অমর কাহিনীর সাহিত্যিক বিশ্লেষণ
সাহিত্যের যেকোনো সার্থক সৃষ্টির ক্ষেত্রে 'নামকরণ' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নামকরণ কখনো বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে হয়, আবার কখনো হয় প্রধান চরিত্রের নামানুসারে। বিশ্ববিখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তোয়ের লেখা ‘ইলিয়াস’ গল্পটি একটি চরিত্রকেন্দ্রিক নামকরণ।
১. কেন্দ্রীয় চরিত্রের প্রাধান্য:
গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনা আবর্তিত হয়েছে 'ইলিয়াস' নামক চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে। তার পঁচিশ বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি, সামান্য অবস্থা থেকে উফা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ ধনী হয়ে ওঠা এবং পরবর্তীকালে ভাগ্যবিপর্যয়ে সর্বস্ব হারিয়ে মহম্মদ শার বাড়িতে মজুর খাটা—সবই গল্পের মূল উপজীব্য।
২. জীবনদর্শনের প্রতিফলন:
গল্পের শেষভাগে ইলিয়াস যে গভীর জীবনদর্শনের কথা শুনিয়েছেন, তা-ই গল্পের মূল বার্তা। প্রাচুর্যের মধ্যে অশান্তি আর রিক্ততার মধ্যে পরম শান্তি খুঁজে পাওয়ার যে অদ্ভুত সত্য ইলিয়াস তাঁর জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন, তা পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল লেখকের উদ্দেশ্য। ইলিয়াস এখানে কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং এক শাশ্বত জীবনবোধের প্রতীক।
৩. কাহিনীর বিবর্তন ও পরিণতি:
গল্পের কাহিনী বিন্যাসে ইলিয়াসের উত্থান ও পতন সমান্তরালভাবে চলেছে। তাঁর পরিবারের ভাঙন, সম্পত্তি হারানো এবং পরিশেষে স্ত্রীর সঙ্গে এক শান্তিময় মজুর জীবন অতিবাহিত করা—সবই ইলিয়াসের ব্যক্তিসত্তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। গল্পের পরিণতিতেও ইলিয়াসই থাকেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে।
উপসংহার:
সামগ্রিক বিচারে দেখা যায় যে, গল্পের প্লট, প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্নিহিত তাৎপর্য—সবকিছুই ইলিয়াসকে কেন্দ্র করে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে। ইলিয়াসের জীবনকাহিনীই যেহেতু এই গল্পের মূল ভিত্তি, তাই গল্পের নামকরণ ‘ইলিয়াস’ রাখা নান্দনিক এবং শিল্পসম্মতভাবে অত্যন্ত সার্থক ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
ইলিয়াস: সেরা ৩০টি MCQ প্রশ্নোত্তর
অধ্যায়ভিত্তিক মক টেস্ট ও প্র্যাকটিস সেট
| নং | প্রশ্ন | সঠিক উত্তর |
|---|---|---|
| ১ | 'ইলিয়াস' গল্পের লেখক কে? | লিও তলস্তোয় |
| ২ | ইলিয়াস কোন প্রদেশের মানুষ ছিল? | উফা প্রদেশ |
| ৩ | বিয়ের সময় ইলিয়াসের কয়টি ঘোড়ি ছিল? | ৭টি |
| ৪ | ইলিয়াস দম্পতি কত বছর কঠোর পরিশ্রম করেছিল? | ৩৫ বছর |
| ৫ | সমৃদ্ধির সময় ইলিয়াসের ভেড়ার সংখ্যা কত ছিল? | ১২০০টি |
| ৬ | ইলিয়াসের কয়টি ছেলে ছিল? | ২টি |
| ৭ | ইলিয়াসের বড় ছেলেটি কীভাবে মারা যায়? | একটি মারপিটে |
| ৮ | ছোট ছেলেকে ইলিয়াস বাড়ি থেকে কেন তাড়িয়ে দেন? | অবাধ্য হওয়ার জন্য |
| ৯ | ইলিয়াসের ঘোড়াগুলো কারা চুরি করেছিল? | কির্গিজরা |
| ১০ | ইলিয়াসের স্ত্রীর নাম কী? | শাম-শেমাগি |
| ১১ | সর্বস্ব হারানোর পর ইলিয়াসকে কে আশ্রয় দেন? | মহম্মদ শা |
| ১২ | মহম্মদ শা-র বাড়িতে ইলিয়াস কী কাজ করত? | তরমুজ ক্ষেতের তদারকি |
| ১৩ | ঘোড়ির দুধ থেকে তৈরি পানীয়র নাম কী? | কুমিজ |
| ১৪ | ইলিয়াস দম্পতি কত বছর ধরে সুখ খুঁজেছিলেন? | ৫০ বছর |
| ১৫ | গল্পের শেষে অতিথিরা কী পান করছিলেন? | চা বা কুমিজ |
| ১৬ | ইলিয়াসের কয়টি গরু ছিল (সুসময়ে)? | ১৫০টি |
| ১৭ | সর্বস্বান্ত হওয়ার সময় ইলিয়াসের বয়স কত ছিল? | ৭০ বছর |
| ১৮ | মজুর অবস্থায় শাম-শেমাগি কী কাজ করত? | দুধ দোয়া ও কুমিজ তৈরি |
| ১৯ | ইলিয়াসের কাহিনী শুনে অতিথিরা কেমন হলেন? | গম্ভীর ও বিস্মিত |
| ২০ | ইলিয়াস দম্পতির প্রকৃত সুখ কোথায়? | মানসিক শান্তিতে |
| ২১ | ইলিয়াসের মেয়ের বিয়ে কোথায় হয়েছিল? | অন্য গ্রামে |
| ২২ | ইলিয়াসের সম্পত্তিতে টান পড়ার অন্যতম কারণ? | পশুমড়ক ও দুর্ভিক্ষ |
| ২৩ | ইলিয়াসের বাবার মৃত্যুর সময় তিনি কেমন ছিলেন? | অল্প ধনী |
| ২৪ | কার কাছে সত্য প্রকাশ করতে চেয়েছিল স্ত্রী? | অতিথিদের কাছে |
| ২৫ | সুখ খুঁজতে খুঁজতে বয়স কত হয়েছিল? | ৭৫ বছর (মজুর অবস্থা) |
| ২৬ | ধনী অবস্থায় ইলিয়াসের রাতের ঘুম কেমন ছিল? | ঘুম হতো না (দুশ্চিন্তা) |
| ২৭ | মজুর অবস্থায় তারা কতক্ষণ খোদার নাম নেয়? | অনেকক্ষণ |
| ২৮ | ইলিয়াস দম্পতিকে মহম্মদ শা কী মনে করতেন? | পাহারাদার বা মজুর |
| ২৯ | বড় মেয়েটি কখন মারা গিয়েছিল? | সুসময়ের শুরুতেই |
| ৩০ | গল্পের মূল বার্তা কী? | শান্তিই প্রকৃত সুখ |
শিক্ষার নতুন দিগন্ত – teachvibes.teacjsanjib.co.in
বিবিধ প্রশ্নোত্তর: সাহিত্য, ধর্ম ও ইতিহাস
সঠিক তথ্য ও সহজ বিশ্লেষণ
📖 তলস্তোয়ের ‘ইলিয়াস’ গল্প সংক্রান্ত:
১. ইলিয়াস কে ছিলেন?
লিও তলস্তোয়ের গল্প অনুযায়ী, ইলিয়াস ছিলেন রাশিয়ার উফা প্রদেশের একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী বাশকির পশুপালক, যিনি শূন্য থেকে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন এবং পরে নিঃস্ব হয়ে প্রকৃত সুখের সন্ধান পান।
২. ইলিয়াসের ছেলের নাম কী?
গল্পে ইলিয়াসের ছেলেদের নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তাঁর দু’টি ছেলে এবং একটি মেয়ের কথা বলা হয়েছে।
৩. ইলিয়াসের বাড়ি কোথায় ছিল?
ইলিয়াসের বাড়ি ছিল রাশিয়ার উফা (Ufa) প্রদেশে।
🕌 ধর্মীয় প্রেক্ষাপট (নবী ইলিয়াস আ.):
১. ইলিয়াস (আ.) কী ধরনের নবী ছিলেন?
ইলিয়াস (আ.) ছিলেন বনী ইসরাঈল বংশের একজন গুরুত্বপূর্ণ নবী ও রাসূল। তিনি মানুষকে এক খোদার ইবাদত করতে এবং 'বাল' (Baal) নামক মূর্তিপূজা ত্যাগ করতে দাওয়াত দিতেন।
২. ইলিয়াস (আ.) কোথায় জন্মগ্রহণ করেন ও রাজধানী কোথায় ছিল?
তিনি ফিলিস্তিন বা বর্তমান লেবাননের বালবাক (Baalbek) অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তাঁর প্রচারকার্য চলত।
৩. ইলিয়াস (আ.) কী জীবিত?
ইসলামিক ও ইহুদি ঐতিহ্যের কিছু বর্ণনা অনুযায়ী মনে করা হয় যে তাঁকে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নেওয়া হয়েছিল, তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
📜 বাংলার শাহী রাজবংশ:
বাংলার শাহী রাজবংশ কী ছিল?
বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাহী রাজবংশ ছিল 'ইলিয়াস শাহী রাজবংশ'। ১৩৪২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ লখনৌতি জয় করে এই বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই প্রথম 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধি গ্রহণ করে সারা বাংলাকে একত্রিত করেছিলেন।
🎓 পরীক্ষার প্রস্তুতি: সঞ্জীব স্যার এর ব্যক্তিগত পরামর্শ
সাফল্যের সিঁড়িতে তোমার প্রথম পদক্ষেপ
📝 লিখে পড়ার অভ্যাস
শুধু রিডিং না পড়ে, পয়েন্টগুলো খাতায় লিখে প্র্যাকটিস করো। এতে পড়ার স্থায়ীত্ব বাড়ে এবং হাতের লেখা দ্রুত হয়।
⏰ পমোডোরো টেকনিক
টানা ৩ ঘণ্টা না পড়ে, প্রতি ২৫ মিনিট পড়ার পর ৫ মিনিটের ছোট বিরতি নাও। এতে মস্তিষ্কের গ্রহণ ক্ষমতা সতেজ থাকে।
📊 চিত্র ও ছক ব্যবহার
জীবনবিজ্ঞান বা ভূগোলের মতো বিষয়ে বেশি বেশি ছবি ও ফ্লো-চার্ট আঁকো। পরীক্ষক এতে ইমপ্রেস হন এবং নম্বর বেশি পাওয়া যায়।
🧘 আত্মবিশ্বাস রাখো
পরীক্ষা মানে কেবল নম্বর নয়, এটি একটি লার্নিং প্রসেস। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো, তুমি অবশ্যই ভালো ফল করবে।
তোমার প্রস্তুতি কি সম্পূর্ণ? 🚀
এরকম আরও স্পেশাল নোটস, সাজেশন্স এবং ট্রিকস পেতে আমাদের স্টাডি গ্রুপে যোগ দাও অথবা নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে পিডিএফ ডাউনলোড করো।

0 মন্তব্যসমূহ