পৃথিবীর গতিসমূহ: নবম শ্রেণি ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর ( নোটস) - Teach Vibes

 

  • নবম শ্রেণি ভূগোল: পৃথিবীর গতিসমূহ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সমাধান ও চিত্রসহ নোটস

পৃথিবীর-গতিসমূহ



নবম শ্রেণি: পৃথিবীর গতিসমূহ (১ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর)

পৃথিবী নিজের অক্ষের চারদিকে কোন দিক থেকে কোন দিকে ঘোরে?

উত্তর: পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে।

পৃথিবীর অপসূর অবস্থান কোন তারিখে হয়?

উত্তর: ৪ঠা জুলাই।

পৃথিবীর অনুসূর অবস্থান কোন তারিখে হয়?

উত্তর: ৩রা জানুয়ারি।

কত বছর অন্তর অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার হয়?

উত্তর: ৪ বছর অন্তর।

পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি কেমন?

উত্তর: উপবৃত্তাকার।

কোন্ দিনটিকে 'মহাবিষুব' বলা হয়?

উত্তর: ২১শে মার্চ।

কোন্ দিনটিকে 'জলবিষুব' বলা হয়?

উত্তর: ২৩শে সেপ্টেম্বর।

কর্কটসংক্রান্তি কোন তারিখে হয়?

উত্তর: ২১শে জুন।

মকরসংক্রান্তি কোন তারিখে হয়?

উত্তর: ২২শে ডিসেম্বর।

১০সুমেরু বৃত্তে কত মাস একটানা দিন থাকে?

উত্তর: ৬ মাস।

১১পৃথিবীর আবর্তন গতির অপর নাম কী?

উত্তর: আহ্নিক গতি।

১২পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির অপর নাম কী?

উত্তর: বার্ষিক গতি।

১৩লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষে ফেব্রুয়ারি মাস কত দিনের হয়?

উত্তর: ২৯ দিনের।

১৪পৃথিবীর কক্ষতল ও অক্ষের মধ্যে কোণের মান কত?

উত্তর: ৬৬.৫ ডিগ্রি (৬৬ ১/২°)।

১৫উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন কোনটি?

উত্তর: ২১শে জুন।

১৬দক্ষিণ গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন কোনটি?

উত্তর: ২২শে ডিসেম্বর।

১৭পৃথিবীর কোন্ জায়গায় ঋতু পরিবর্তন হয় না?

উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে।

১৮'নিশীথ সূর্যের দেশ' কাকে বলা হয়?

উত্তর: নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দরকে।

১৯মকরসংক্রান্তির দিন সূর্যরশ্মি কোথায় লম্বভাবে পড়ে?

উত্তর: মকরক্রান্তি রেখার ওপর (২৩.৫° দক্ষিণ)।

২০ছায়াবৃত্ত কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীর আলোকিত ও অন্ধকার অংশের মধ্যবর্তী বৃত্তাকার সীমারেখাকে ছায়াবৃত্ত বলে।

পৃথিবীর গতিসমূহ: ২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

নবম শ্রেণি | ভূগোল | পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

১. অপসূর ও অনুসূর অবস্থানের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

(i) ৪ঠা জুলাই সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) হয়, একে অপসূর বলে। অন্যদিকে, ৩রা জানুয়ারি এই দূরত্ব সবচেয়ে কম (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) হয়, একে অনুসূর বলে।
(ii) অপসূর অবস্থানে সূর্যরশ্মি কিছুটা তির্যকভাবে পড়ে, কিন্তু অনুসূর অবস্থানে সূর্যরশ্মি তুলনামূলক লম্বভাবে পড়ে।

২. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার কাকে বলে?

পৃথিবীর সূর্যকে পরিক্রমণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। হিসেবের সুবিধার জন্য প্রতি ৪ বছর অন্তর বাড়তি সময়টুকুকে যোগ করে ফেব্রুয়ারি মাসকে ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিন করা হয় এবং ওই বছরটি হয় ৩৬৬ দিনের। একেই অধিবর্ষ বলে।

৩. করিওলিস বল কী?

পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপর প্রবাহিত বায়ুপ্রবাহ বা সমুদ্রস্রোতের গতির ওপর যে বিচ্যুতি ঘটানো বল কাজ করে, তাকে করিওলিস বল বলে। ১৮৩৫ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী গুস্তাভ দ্য করিওলিস এটি আবিষ্কার করেন।

৪. কক্ষপথ ও কক্ষতল বলতে কী বোঝো?

যে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে পৃথিবী সূর্যকে পরিক্রমণ করে, তাকে কক্ষপথ বলে। আর এই কক্ষপথটি যে কাল্পনিক সমতলে অবস্থিত, তাকে কক্ষতল বলে। পৃথিবীর কক্ষপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কোটি কিমি।

৫. ছায়াবৃত্তের গুরুত্ব কী?

ছায়াবৃত্ত পৃথিবীর দিন ও রাতের সীমানা নির্ধারণ করে। এটি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়কাল বুঝতে সাহায্য করে এবং পৃথিবীর কোনো অংশে কখন গোধূলি বা উষা হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে।

৬. বিষুব (Equinox) কথাটির অর্থ কী?

'বিষুব' কথাটির আক্ষরিক অর্থ হলো সমান দিন ও রাত। ২১শে মার্চ এবং ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়।

৭. মেরুজ্যোতি বা অরোরা কী?

মেরু অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে তড়িৎ শুল্ক কণার বিচ্ছুরণের ফলে আকাশে যে রঙিন আলোর ছটা দেখা যায়, তাকে মেরুজ্যোতি বলে। উত্তর গোলার্ধে একে সুমেরু প্রভা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে কুমেরু প্রভা বলে।

৮. আবর্তন গতির দুটি প্রমাণ দাও।

(i) মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতে পৃথিবীকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরতে দেখা গেছে।
(ii) অন্যান্য গ্রহরাও নিজ অক্ষের ওপর আবর্তন করছে, যা পৃথিবীর আবর্তনের পরোক্ষ প্রমাণ দেয়।

৯. উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়ন বলতে কী বোঝো?

২২শে ডিসেম্বরের পর থেকে ২১শে জুন পর্যন্ত সূর্যের উত্তরমুখী আপাত গতিকে উত্তরায়ন বলে। আবার ২১শে জুনের পর থেকে ২২শে ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্যের দক্ষিণমুখী আপাত গতিকে দক্ষিণায়ন বলে।

১০. নিশীথ সূর্য কাকে বলে?

উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে সুমেরু বৃত্তে একটানা দিন থাকার সময় উত্তর নরওয়ের হ্যামারফেস্ট বন্দর থেকে গভীর রাতেও সূর্যকে দেখা যায়। এই ঘটনাকেই নিশীথ সূর্য বলে।

১১. মকরসংক্রান্তি বলতে কী বোঝো?

২২শে ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই দিন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। একে মকরসংক্রান্তি বলে।

১২. পৃথিবীর আবর্তন গতি হঠাৎ থেমে গেলে কী হবে?

আবর্তন গতি থেমে গেলে পৃথিবীর একদিকের অংশে চিরকাল দিন এবং অন্যদিকের অংশে চিরকাল রাত থাকবে। উষ্ণতার চরম পার্থক্যের কারণে প্রাণীকুল বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

১৩. নক্ষত্র দিন ও সৌর দিনের মধ্যে পার্থক্য কী?

পৃথিবীর কোনো নক্ষত্রের সাপেক্ষে একবার আবর্তনের সময় (২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড) হলো নক্ষত্র দিন। আর সূর্যের সাপেক্ষে আবর্তনের সময় (২৪ ঘণ্টা) হলো সৌর দিন

১৪. মুক্তিবেগ কাকে বলে?

কোনো বস্তুকে প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিমি বেগে ওপরের দিকে ছুড়ে দিলে তা পৃথিবীর অভিকর্ষজ টান কাটিয়ে মহাকাশে চলে যায়, একেই মুক্তিবেগ বলে।

১৫. পৃথিবীর কোন্ গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন হয়?

পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি বা বার্ষিক গতির ফলে এবং পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের কারণে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।

পৃথিবীর গতিসমূহ: ৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (নোট)

নবম শ্রেণি | ভূগোল | পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

১. পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলাফলগুলি আলোচনা করো।

পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রধান তিনটি ফলাফল হলো:
(i) দিন-রাত্রি সংগঠন: আবর্তনের ফলে পৃথিবীর যে দিক সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন এবং বিপরীত দিকে রাত হয়।
(ii) সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে বলেই আমরা প্রতিদিন সকালে সূর্যকে উঠতে এবং সন্ধ্যায় ডুবতে দেখি।
(iii) করিওলিস বল সৃষ্টি: আবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীতে এক প্রকার শক্তির সৃষ্টি হয় যা বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিক বিক্ষেপ ঘটায়।

২. অনুসূর ও অপসূর অবস্থানের বর্ণনা দাও।

অনুসূর: ৩রা জানুয়ারি পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সবচেয়ে কম থাকে (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)। এই অবস্থানকে অনুসূর বলে।
অপসূর: ৪ঠা জুলাই পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। একে অপসূর বলে।
(বি.দ্র. ব্লগে ব্যবহারের সময় এই উত্তরের পাশে একটি কক্ষপথের ডিম্বাকৃতি চিত্র যোগ করতে পারেন।)

৩. ঋতু পরিবর্তনের কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো।

ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ তিনটি:
(i) পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি: উপবৃত্তাকার পথে পৃথিবীর ঘোরার সময় সূর্যের দূরত্ব পরিবর্তিত হয়।
(ii) অক্ষের হেলানো অবস্থান: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকায় বিভিন্ন অংশে সূর্যরশ্মি ভিন্ন ভিন্ন কোণে পড়ে।
(iii) সমান্তরাল অবস্থান: পৃথিবীর অক্ষ পরিক্রমণের সময় সর্বদা একই দিকে হেলে থাকে, ফলে গোলার্ধভেদে সূর্যরশ্মির পতন কোণের পরিবর্তন ঘটে।

৪. পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে কেন?

মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় আদি গ্যাসীয় কুণ্ডলী বা নেবুলা বামাবর্তে (Counter-clockwise) ঘুরছিল। কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র অনুযায়ী পৃথিবী সেই আদি ঘূর্ণন বজায় রেখেছে। সূর্যের চারদিকে পৃথিবী যে দিকে ঘোরে (পরিক্রমণ), নিজের অক্ষের ওপরও সেই একই দিকে আবর্তন করে। শুক্র ও ইউরেনাস বাদে সৌরজগতের অধিকাংশ গ্রহই এই নিয়ম মেনে চলে।

৫. সব বছর কেন লিপ ইয়ার হয় না? (শতাব্দীর বছর ব্যাখ্যা)

সৌর বছর আসলে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। আমরা ৩ বছরের প্রতিটিতে প্রায় ৬ ঘণ্টা করে বাদ দিই এবং ৪র্থ বছরে ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন যোগ করি। কিন্তু প্রতি বছর ১১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড করে বেশি সময় যোগ হয়ে যায়। এই ত্রুটি কমাতে শতাব্দীর বছরগুলিকে (যেমন ১৯০০, ২১০০) ৪০০ দিয়ে ভাগ করা হয়। যদি ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হয় তবেই সেটি লিপ ইয়ার হয়। তাই ১৮০০ বা ১৯০০ লিপ ইয়ার ছিল না, কিন্তু ২০০০ ছিল।

৬. উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল কেন?

পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে। ২১শে জুন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি হেলে থাকে, ফলে সেখানে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে এবং দিনের দৈর্ঘ্য বড় হয়। ফলে উত্তর গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মকাল। ঠিক একই সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে যায় এবং সেখানে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে এবং রাত বড় হয়। তাই দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীতকাল অনুভূত হয়।

৭. আবর্তন গতি ও পরিক্রমণ গতির তিনটি পার্থক্য লেখো।

বৈশিষ্ট্য আবর্তন গতি পরিক্রমণ গতি
সময় প্রায় ২৪ ঘণ্টা। প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা।
কেন্দ্র নিজ অক্ষের ওপর। সূর্যের চারদিকে।
ফলাফল দিন ও রাত্রি হয়। ঋতু পরিবর্তন হয়।

৮. জিপিএস (GPS) এর ব্যবহারিক গুরুত্ব কী?

জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের গুরুত্ব হলো:
(i) অবস্থান নির্ণয়: পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নিখুঁতভাবে জানা যায়।
(ii) যাতায়াত ব্যবস্থা: বিমান, জাহাজ বা গাড়ি চলাচলে দিকনির্ণয় ও ম্যাপ দেখার কাজে ব্যবহৃত হয়।
(iii) উদ্ধারকাজ: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় নিখোঁজ ব্যক্তি বা যান খুঁজে পেতে এটি অপরিহার্য।

৯. মেরু অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত হওয়ার কারণ কী?

পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকার ফলে পরিক্রমণের সময় ২১শে মার্চ থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুমেরু অঞ্চল সূর্যের দিকে হেলে থাকে। এই ৬ মাস সুমেরুতে সূর্য অস্ত যায় না (টানা দিন)। বিপরীত দিকে কুমেরুতে তখন টানা ৬ মাস রাত থাকে। আবার ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে ২১শে মার্চ পর্যন্ত ঠিক উল্টো অবস্থা ঘটে।

১০. দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য কেন হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে?

এর প্রধান কারণগুলি হলো— (i) পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ, (ii) পৃথিবীর অক্ষের ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকা এবং (iii) পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি। পরিক্রমণের সময় পৃথিবীর বিভিন্ন গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি হেলে থাকে, ফলে সেখানে দিন বড় ও রাত ছোট হয়। আবার যে অংশ দূরে সরে যায় সেখানে দিন ছোট ও রাত বড় হয়।

১১. নিরক্ষরেখায় সারাবছর দিন ও রাত সমান হয় কেন?

ছায়াবৃত্ত সবসময় নিরক্ষরেখাকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে। পৃথিবী তার কক্ষপথে যেভাবে এবং যে কোণেই থাকুক না কেন, নিরক্ষরেখা সবসময় অর্ধেক আলোকিত এবং অর্ধেক অন্ধকার থাকে। এছাড়া নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারাবছরই প্রায় লম্বভাবে পড়ে। তাই এখানে সারাবছর ১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত থাকে।

১২. কর্কটসংক্রান্তির বর্ণনা দাও।

২১শে জুন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই অবস্থাকে কর্কটসংক্রান্তি বলে। এই দিন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি হেলে থাকে। উত্তর গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মকাল।

১৩. ফেরেলের সূত্রটি ব্যাখ্যা করো।

বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফেরেলের মতে, পৃথিবীর আবর্তন বা করিওলিস বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপর প্রবাহিত বায়ু বা সমুদ্রস্রোত সোজা পথে প্রবাহিত না হয়ে কিছুটা বেঁকে যায়। এই নিয়ম অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে বায়ুপ্রবাহ ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। একেই ফেরেলের সূত্র বলা হয়।

১৪. আবর্তন গতির বেগ নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি কেন?

পৃথিবীর পরিধি নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি)। পৃথিবীকে ২৪ ঘণ্টায় একবার পাক খেতে হয়। যেহেতু নিরক্ষরেখায় পরিধি বেশি, তাই একই সময়ে এক পাক শেষ করতে ওই অঞ্চলের ভূমিকে মেরু অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত ছুটতে হয়। নিরক্ষরেখায় এই বেগ প্রায় ১৬৭০ কিমি/ঘণ্টা, যা মেরু অঞ্চলে প্রায় শূন্য।

১৫. জলবিষুব ও মহাবিষুবের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মহাবিষুব: ২১শে মার্চ দিনটিকে মহাবিষুব বলে। এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকে।
জলবিষুব: ২৩শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে জলবিষুব বলে। এই সময় উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল থাকে।
উভয় দিনেই নিরক্ষরেখায় সূর্য লম্বভাবে পড়ে এবং পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত সমান হয়।

পৃথিবীর গতিসমূহ: ৫ নম্বরের বড় প্রশ্নোত্তর (Notes)

নবম শ্রেণি | ভূগোল | পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

১. চিত্রসহ পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে ঋতু পরিবর্তনের চক্রটি বর্ণনা করো।

পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে বছরে চারটি প্রধান অবস্থান তৈরি হয়, যা ঋতু পরিবর্তনের মূল ভিত্তি:

  • উত্তর অয়নান্ত (২১শে জুন): এই দিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। উত্তর গোলার্ধে দিন বড় ও রাত ছোট হয়, ফলে সেখানে গ্রীষ্মকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল চলে।
  • জলবিষুব (২৩শে সেপ্টেম্বর): সূর্য নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত সমান হয়। উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
  • দক্ষিণ অয়নান্ত (২২শে ডিসেম্বর): সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে থাকে। দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হয়।
  • মহাবিষুব (২১শে মার্চ): পুনরায় সূর্য নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে থাকে। উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল দেখা দেয়।
সূর্য ২১ জুন (উ: গ্রীষ্ম) ২২ ডিসে (উ: শীত) ২১ মার্চ (উ: বসন্ত) ২৩ সেপ্টে (উ: শরৎ)

চিত্র ১: পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তন চক্র

২. চিত্রসহ পৃথিবীর দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য হ্রাস-বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করো।

পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয় না। এর প্রধান কারণগুলি হলো:

  1. অক্ষের হেলানো অবস্থান: পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে। ফলে পরিক্রমণের সময় এক একটি গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি হেলে থাকে।
  2. পরিক্রমণ গতি: পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে বলে সূর্যের সাপেক্ষে গোলার্ধগুলির অবস্থান প্রতিনিয়ত বদলায়।
  3. উপবৃত্তাকার কক্ষপথ: এর ফলে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব বাড়ে-কমে, যা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।

ফলাফল: ২১শে জুন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় (১৪ ঘণ্টা+) এবং রাত ছোট হয়। আবার ২২শে ডিসেম্বর ঠিক উল্টোটা ঘটে। শুধুমাত্র নিরক্ষরেখায় সারাবছর দিন-রাত সমান থাকে।

সূর্যরশ্মি উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরু নিরক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রাত দিন (২১ জুনের অবস্থান)

চিত্র ২: দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য হ্রাস-বৃদ্ধি (২১ জুন)

৩. পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রমাণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

পৃথিবী যে নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরছে, তার কয়েকটি জোরালো প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো:

  • মহাকাশচারীদের অভিজ্ঞতা: মহাকাশযান ও কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে পৃথিবীকে স্পষ্টত পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করতে দেখা গেছে।
  • ফুকোর দোলন পরীক্ষা: ১৮৫১ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী জঁ বার্নার্ড লিও ফুকো প্যারিসের প্যান্থিয়ন গির্জার চূড়া থেকে একটি দীর্ঘ তারের সাহায্যে ভারী গোলক ঝুলিয়ে প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী ঘুরছে বলেই দোলকের তল পরিবর্তিত হচ্ছে।
  • অন্যান্য গ্রহের আবর্তন: দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা গেছে মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি গ্রহ নিজ নিজ অক্ষের ওপর আবর্তন করছে। পৃথিবী একটি গ্রহ হওয়ায় তারও আবর্তন থাকা স্বাভাবিক।
  • করিওলিস বল ও ফেরেলের সূত্র: আবর্তন গতির ফলেই বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
নিরক্ষরেখা আবর্তন (প: -> পূ:) উত্তর গোলার্ধ (ডানদিকে) দক্ষিণ গোলার্ধ (বামদিকে)

চিত্র ৩: করিওলিস বল ও বায়ুর দিকবিক্ষেপ

৪. কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তির তুলনামূলক আলোচনা করো।

ভিত্তি কর্কটসংক্রান্তি মকরসংক্রান্তি
তারিখ ২১শে জুন ২২শে ডিসেম্বর
সূর্যের অবস্থান কর্কটক্রান্তি রেখায় (২৩.৫° উ:) লম্বকিরণ মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দ:) লম্বকিরণ
দিন-রাত্রি (উ: গো:) দিন দীর্ঘতম, রাত ক্ষুদ্রতম দিন ক্ষুদ্রতম, রাত দীর্ঘতম
ঋতু (উ: গো:) গ্রীষ্মকাল শীতকাল
কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন) লম্বকিরণ (২৩.৫° উ:) মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসে) লম্বকিরণ (২৩.৫° দ:)

চিত্র ৪: কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তির তুলনা

৫. পৃথিবীর কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ার ফলাফলগুলি কী কী?

পৃথিবীর কক্ষপথ গোল না হয়ে উপবৃত্তাকার হওয়ার ফলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ঘটে:

  • দূরত্বের পরিবর্তন: সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সারাবছর সমান থাকে না। কখনো বাড়ে (অপসূর), কখনো কমে (অনুসূর)।
  • অপসূর ও অনুসূর অবস্থান: ৩রা জানুয়ারি দূরত্ব সবচেয়ে কমে (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) এবং ৪ঠা জুলাই দূরত্ব সবচেয়ে বাড়ে (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)।
  • পরিক্রমণ বেগের পরিবর্তন: কেপলারের সূত্র অনুযায়ী, সূর্য যখন পৃথিবীর কাছে থাকে (অনুসূর), তখন পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ সামান্য বেড়ে যায়।
  • উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকালের তীব্রতা: কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় সামান্য বেশি দিন স্থায়ী হয়।
সূর্য অনুসূর (৩ জানু) ১৪.৭ কোটি কিমি অপসূর (৪ জুলাই) ১৫.২ কোটি কিমি উপবৃত্তাকার কক্ষপথ

চিত্র ৫: পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ ও অনুসূর-অপসূর

৬. পরিক্রমণ গতির তিনটি প্রধান ফলাফল চিত্রসহ আলোচনা করো।

পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে ভূপৃষ্ঠে যে তিনটি প্রধান পরিবর্তন ঘটে তা হলো:

  • দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য হ্রাস-বৃদ্ধি: পরিক্রমণের সময় পৃথিবীর অক্ষ হেলে থাকায় বছরের বিভিন্ন সময়ে দিন বড় ও রাত ছোট (বা উল্টোটা) হয়।
  • ঋতু পরিবর্তন: সূর্যরশ্মির পতন কোণের পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত—এই চারটি ঋতুর চক্র আবর্তিত হয়।
  • সূর্যের আপাত বার্ষিক গতি (রবিমার্গ): পরিক্রমণের ফলে সূর্যকে মনে হয় কর্কটক্রান্তি থেকে মকরক্রান্তি রেখার মধ্যে উত্তর-দক্ষিণে যাতায়াত করছে।
সূর্য

চিত্র ৬: পৃথিবীর পরিক্রমণ ও ফলাফল

৭. ঋতু পরিবর্তনের উপর পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।

পৃথিবীর মেরুরেখা বা অক্ষ তার কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে। এর প্রভাবগুলি হলো:

  • সূর্যরশ্মির পতন কোণ: অক্ষ হেলে থাকার কারণেই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কোনো গোলার্ধ সূর্যের কাছে আসে (লম্বভাবে রশ্মি পড়ে) এবং অন্য গোলার্ধ দূরে সরে যায় (তির্যকভাবে রশ্মি পড়ে)।
  • তাপমাত্রার পার্থক্য: লম্বভাবে পড়া রশ্মি অল্প জায়গায় বেশি তাপ দেয় (গ্রীষ্মকাল), আর তির্যক রশ্মি বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় তাপ কম হয় (শীতকাল)।
  • স্থায়িত্ব: এই হেলানো অবস্থানের জন্য ঋতুগুলো হঠাৎ পরিবর্তন না হয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়।

৮. উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল ও শরৎকালের সময়ের পার্থক্য কেন হয়?

পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘোরার সময় গোলার্ধ দুটি সূর্যের বিপরীতে অবস্থান করে।

কারণ: ২১শে মার্চ (মহাবিষুব) সূর্য নিরক্ষরেখায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই সময় উত্তর গোলার্ধ শীতকাল কাটিয়ে গ্রীষ্মের দিকে যায়, তাই সেখানে বসন্তকাল। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধ গ্রীষ্ম কাটিয়ে শীতের দিকে যায় বলে সেখানে শরৎকাল হয়। ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটে ২৩শে সেপ্টেম্বর (জলবিষুব), যখন উত্তর গোলার্ধে শরৎ এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্ত অনুভূত হয়।

৯. পৃথিবী পৃষ্ঠে আবর্তন গতির বেগ সর্বত্র সমান নয় কেন? বুঝিয়ে দাও।

পৃথিবীর আবর্তন গতির বেগ তার পরিধির ওপর নির্ভর করে। পৃথিবী যেহেতু একটি গোলক, তাই এর পরিধি সর্বত্র সমান নয়।

  • নিরক্ষরেখায় বেগ বেশি: নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি)। ২৪ ঘণ্টায় এক পাক শেষ করতে এখানে গতিবেগ থাকে সবচেয়ে বেশি (১৬৭০ কিমি/ঘণ্টা)।
  • মেরু অঞ্চলে বেগ কম: নিরক্ষরেখা থেকে যত মেরুর দিকে যাওয়া যায়, পরিধি তত কমতে থাকে। ফলে আবর্তনের বেগও কমতে থাকে। মেরুবিন্দুতে আবর্তন বেগ প্রায় শূন্য
সর্বোচ্চ বেগ (১৬৭০ কিমি) বেগ ০

চিত্র ৯: আবর্তন গতির বেগের পার্থক্য

১০. বিষুব ও সংক্রান্তির মধ্যে পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।

বিষয় বিষুব (Equinox) সংক্রান্তি (Solstice)
অর্থ সমান দিন ও রাত। সূর্যের স্থিতি বা অয়নান্ত।
তারিখ ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর। ২১শে জুন ও ২২শে ডিসেম্বর।
সূর্যের অবস্থান নিরক্ষরেখার ওপর লম্বকিরণ। কর্কট বা মকরক্রান্তি রেখায় লম্বকিরণ।
দিনের দৈর্ঘ্য সর্বত্র ১২ ঘণ্টা দিন, ১২ ঘণ্টা রাত। দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য সর্বোচ্চ হয়।

পৃথিবীর গতিসমূহ: ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর

নবম শ্রেণি | ভূগোল | পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

১. পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ওপর কোন্ দিক থেকে কোন্ দিকে আবর্তন করে?

(ক) পূর্ব থেকে পশ্চিমে   (খ) উত্তর থেকে দক্ষিণে   (গ) পশ্চিম থেকে পূর্বে   (ঘ) দক্ষিণ থেকে উত্তরে

২. 'অপসূর' অবস্থানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কত হয়?

(ক) ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি   (খ) ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি   (গ) ১৫ কোটি কিমি   (ঘ) ১৬ কোটি কিমি

৩. কোন্ তারিখে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়?

(ক) ২১শে জুন   (খ) ২২শে ডিসেম্বর   (গ) ২১শে মার্চ   (ঘ) ২৩শে সেপ্টেম্বর

৪. অপসূর অবস্থান কোন্ তারিখে ঘটে?

(ক) ৩রা জানুয়ারি   (খ) ৪ঠা জুলাই   (গ) ২১শে মার্চ   (ঘ) ২৩শে সেপ্টেম্বর

৫. মহাবিষুব বলা হয় কোন্ দিনটিকে?

(ক) ২১শে মার্চ   (খ) ২৩শে সেপ্টেম্বর   (গ) ২১শে জুন   (ঘ) ২২শে ডিসেম্বর

৬. মকরসংক্রান্তি হয় কোন্ তারিখে?

(ক) ২১শে জুন   (খ) ২১শে মার্চ   (গ) ২৩শে সেপ্টেম্বর   (ঘ) ২২শে ডিসেম্বর

৭. করিওলিস বল কোন্ গতির প্রভাবে সৃষ্টি হয়?

(ক) আবর্তন গতি   (খ) পরিক্রমণ গতি   (গ) মহাকর্ষ বল   (ঘ) জোয়ার-ভাটা

৮. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার বছরে কতটি দিন থাকে?

(ক) ৩৬৫ দিন   (খ) ৩৬৬ দিন   (গ) ৩৬৪ দিন   (ঘ) ৩৭০ দিন

৯. নিরক্ষরেখায় আবর্তন গতির বেগ কত?

(ক) ১৬৭০ কিমি/ঘণ্টা   (খ) ১৫০০ কিমি/ঘণ্টা   (গ) শূন্য   (ঘ) ১০০০ কিমি/ঘণ্টা

১০. 'বিষুব' কথাটির অর্থ কী?

(ক) সমান দিন ও রাত   (খ) বড় দিন   (গ) ঋতু পরিবর্তন   (ঘ) সূর্যের উত্তায়ন

১১. দক্ষিণ গোলার্ধে যখন শীতকাল, উত্তর গোলার্ধে তখন কোন্ ঋতু?

(ক) শরৎকাল   (খ) বসন্তকাল   (গ) গ্রীষ্মকাল   (ঘ) শীতকাল

১২. পৃথিবী পৃষ্ঠে আবর্তন বেগ কোথায় সবচেয়ে কম বা শূন্য?

(ক) নিরক্ষরেখায়   (খ) কর্কটক্রান্তি রেখায়   (গ) মেরুবিন্দুতে   (ঘ) মূলমধ্যরেখায়

১৩. একটি শতাব্দীর বছর লিপ ইয়ার হবে যদি তা বিভাজ্য হয়—

(ক) ৪ দিয়ে   (খ) ১০০ দিয়ে   (গ) ৪০০ দিয়ে   (ঘ) ৫০ দিয়ে

১৪. 'নিশীথ সূর্যের দেশ' কাকে বলা হয়?

(ক) জাপান   (খ) নরওয়ে   (গ) আইসল্যান্ড   (ঘ) কানাডা

১৫. পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি কেমন?

(ক) গোলাকার   (খ) উপবৃত্তাকার   (গ) চতুর্ভুজাকার   (ঘ) কোনোটিই নয়

১৬. সুমেরু প্রভা দেখা যায় কোন্ গোলার্ধে?

(ক) উত্তর গোলার্ধে   (খ) দক্ষিণ গোলার্ধে   (গ) নিরক্ষীয় অঞ্চলে   (ঘ) মরুভূমিতে

১৭. পৃথিবীর মুক্তিবেগের মান কত?

(ক) ৯.৮ কিমি/সেকেন্ড   (খ) ১১.২ কিমি/সেকেন্ড   (গ) ১৫ কিমি/সেকেন্ড   (ঘ) ২০ কিমি/সেকেন্ড

১৮. জলবিষুব হয় কোন্ তারিখে?

(ক) ২১শে মার্চ   (খ) ২৩শে সেপ্টেম্বর   (গ) ২২শে ডিসেম্বর   (ঘ) ৪ঠা জুলাই

১৯. সূর্যের আপাত বার্ষিক গতিকে কী বলা হয়?

(ক) আবর্তন   (খ) মুক্তিবেগ   (গ) রবিমার্গ   (ঘ) কক্ষতল

২০. পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে?

(ক) ২৩.৫°   (খ) ৯০°   (গ) ৬৬.৫°   (ঘ) ৪৫°

২১. কুমেরু প্রভা দেখা যায় কোন্ গোলার্ধে?

(ক) উত্তর গোলার্ধে   (খ) দক্ষিণ গোলার্ধে   (গ) পশ্চিম গোলার্ধে   (ঘ) পূর্ব গোলার্ধে

২২. ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী বায়ু উত্তর গোলার্ধে কোন্ দিকে বেঁকে যায়?

(ক) ডানদিকে   (খ) বামদিকে   (গ) নিচের দিকে   (ঘ) সোজা চলে

২৩. মেরু অঞ্চলে একটানা কত মাস দিন থাকে?

(ক) ১ মাস   (খ) ৩ মাস   (গ) ৬ মাস   (ঘ) ১২ মাস

২৪. পৃথিবীর কক্ষপথের দৈর্ঘ্য প্রায় কত?

(ক) ৯৬ কোটি কিমি   (খ) ১৫০ কোটি কিমি   (গ) ১০ কোটি কিমি   (ঘ) ৫০ কোটি কিমি

২৫. উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল হয় কোন্ সময়?

(ক) মার্চ মাসে   (খ) জুন মাসে   (গ) সেপ্টেম্বর মাসে   (ঘ) ডিসেম্বর মাসে

২৬. ঋতু পরিবর্তন কোন্ গতির ফলাফল?

(ক) আবর্তন গতি   (খ) পরিক্রমণ গতি   (গ) কৌণিক গতি   (ঘ) কোনোটিই নয়

২৭. সৌর দিনের সময়কাল কত?

(ক) ২৪ ঘণ্টা   (খ) ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট   (গ) ২৫ ঘণ্টা   (ঘ) ১২ ঘণ্টা

২৮. পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব কত?

(ক) ১০ কোটি কিমি   (খ) ১৫ কোটি কিমি   (গ) ২০ কোটি কিমি   (ঘ) ২৫ কোটি কিমি

২৯. উষা ও গোধূলি দেখা যায় পৃথিবীর কোন্ গতির ফলে?

(ক) আবর্তন গতি   (খ) পরিক্রমণ গতি   (গ) মুক্তিবেগ   (ঘ) মাধ্যাকর্ষণ

৩০. উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন হলো—

(ক) ২১শে জুন   (খ) ২২শে ডিসেম্বর   (গ) ২১শে মার্চ   (ঘ) ২৩শে সেপ্টেম্বর

💡 ব্যক্তিগত পরামর্শ (Personal Advice)

পরীক্ষার প্রস্তুতি মানে কেবল বই পড়া নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার অংশ। মনে রাখবে, "পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই"। তবে সেই পরিশ্রম হতে হবে পরিকল্পনা মাফিক। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা না করে প্রতিদিন নিজের উন্নতির দিকে নজর দাও। পর্যাপ্ত বিশ্রাম আর আত্মবিশ্বাসই তোমাকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দেবে।

📝 পরীক্ষার জন্য সেরা ৫টি টিপস

  • ১. রুটিন মাফিক পড়া: সিলেবাসকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করো এবং সেটি মেনে চলো।
  • ২. লিখে পড়ার অভ্যাস: শুধু রিডিং না পড়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো খাতায় লিখে রাখো। এতে পড়া দ্রুত মুখস্থ হয় এবং মনে থাকে।
  • ৩. বিগত বছরের প্রশ্ন: অন্তত গত ৫ বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করো। এতে পরীক্ষার প্রশ্নপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা স্বচ্ছ হবে।
  • ৪. মক টেস্ট দাও: ঘড়ি ধরে বাড়িতে পরীক্ষা দেওয়ার অভ্যাস করো। এটি তোমার 'টাইম ম্যানেজমেন্ট' ক্ষমতা বাড়াবে।
  • ৫. সুস্থ শরীর ও মন: রাত জেগে না পড়ে ভোরে পড়ার চেষ্টা করো। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং প্রচুর জল পান করা জরুরি।

আপনার প্রস্তুতি কি সম্পূর্ণ?

আমাদের এই নোটসগুলো আপনার কেমন লেগেছে? কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে নিচে কমেন্ট করুন।

সব লেটেস্ট আপডেট পেতে আমাদের Telegram বা WhatsApp গ্রুপে যুক্ত হন!

সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন ১: পৃথিবী যদি আবর্তন করা বন্ধ করে দেয় তবে কী হবে?

উত্তর: পৃথিবী আবর্তন বন্ধ করলে এক গোলার্ধে টানা ৬ মাস দিন এবং অন্য গোলার্ধে টানা ৬ মাস রাত থাকবে। বায়ুমণ্ডল তার গতিবেগ হারাবে এবং প্রচণ্ড ঝড় ও জলবায়ু বিপর্যয়ে প্রাণীকুল ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রশ্ন ২: আমরা পৃথিবীর আবর্তন গতি অনুভব করি না কেন?

উত্তর: আমরা পৃথিবীর সাথে একই স্থির গতিতে আবর্তন করছি এবং আমাদের চারপাশের বায়ুমণ্ডলও সমান গতিতে ঘুরছে। কোনো গতির পরিবর্তন না হওয়ায় আমরা এই ঘূর্ণন অনুভব করি না।

প্রশ্ন ৩: লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ কেন প্রয়োজন?

উত্তর: পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা সময় নেয়। এই অতিরিক্ত ৬ ঘণ্টা প্রতি ৪ বছরে ১ দিন (২৪ ঘণ্টা) হিসেবে যোগ করা হয় ঋতুচক্রের সাথে ক্যালেন্ডারের সামঞ্জস্য রাখার জন্য।

প্রশ্ন ৪: রবিমার্গ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে সূর্যকে বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের মধ্যে যাতায়াত করতে দেখা যায়। সূর্যের এই আপাত বার্ষিক গতিপথকে রবিমার্গ বলে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ