গ্রহরূপে পৃথিবী নবম শ্রেণী ভূগোল প্রশ্নোত্তর: ১, ২, ৩ ও ৫ নম্বরের নোটস

 গ্রহ রূপে পৃথিবী নবম শ্রেণী প্রশ্ন উত্তর

গ্রহরূপে-পৃথিবী


নবম শ্রেণী: ভূগোল (প্রথম অধ্যায়)

গ্রহরূপে পৃথিবী - অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. পৃথিবী কী ধরনের চ্যুতি বা বক্রতা প্রদর্শন করে?

উত্তর: পৃথিবীকে মহাকাশ থেকে নীল দেখায় বলে একে 'নীল গ্রহ' বলে।

২. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস কত?

উত্তর: ১২,৭৫৭ কিমি।

৩. পৃথিবীর মেরু ব্যাস কত?

উত্তর: ১২,৭১৪ কিমি।

৪. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ও মেরু ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য কত?

উত্তর: ৪৩ কিমি।

৫. পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি কার মতো?

উত্তর: জিওড (Geoid) বা পৃথিবীর মতো।

৬. জিপিএস (GPS) এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর: গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (Global Positioning System)।

৭. পৃথিবীর পরিধি প্রথম কে নির্ণয় করেন?

উত্তর: এরাটোসথেনিস।

৮. পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?

উত্তর: ৬,৪০০ কিমি।

৯. বামন গ্রহের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: প্লুটো (Pluto)।

১০. কোন জাহাজ নিয়ে ম্যাগেলান পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিলেন?

উত্তর: ভিক্টোরিয়া।

নবম শ্রেণী: ভূগোল (প্রথম অধ্যায়)

গ্রহরূপে পৃথিবী - অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পর্ব-২)

১১. চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া কেমন পড়ে?

উত্তর: গোলাকার।

১২. কুলীন গ্রহের সংখ্যা কয়টি?

উত্তর: ৮টি।

১৩. পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থানের নাম কী?

উত্তর: মাউন্ট এভারেস্ট।

১৪. পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থানের নাম কী?

উত্তর: মারিয়ানা খাত।

১৫. দিগন্ত রেখা কাকে বলে?

উত্তর: কোনো ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ালে মনে হয় আকাশ ও ভূমি দূরে এক জায়গায় মিশে গেছে, একেই দিগন্ত রেখা বলে।

১৬. জিপিএস-এ কয়টি উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: অন্তত ২৪টি।

১৭. পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?

উত্তর: প্রায় ১৫ কোটি কিমি।

১৮. অন্তঃস্থ গ্রহের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: বুধ/শুক্র/পৃথিবী/মঙ্গল।

১৯. বহিঃস্থ গ্রহের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: বৃহস্পতি/শনি/ইউরেনাস/নেপচুন।

২০. পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি কেমন?

উত্তর: উপবৃত্তাকার।

নবম শ্রেণী: ভূগোল (প্রথম অধ্যায়)

গ্রহরূপে পৃথিবী - ২ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

১. জিওড (Geoid) বলতে কী বোঝ?

উত্তর: পৃথিবীর আকৃতি পুরোপুরি গোল নয়, নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত এবং মেরু অঞ্চল সামান্য চাপা। পৃথিবীর এই অনন্য আকৃতি যা অন্য কোনো বস্তুর সাথে মেলে না, তাকেই 'জিওড' বা 'পৃথিবীর মতো আকৃতি' বলা হয়।

২. অন্তঃস্থ ও বহিঃস্থ গ্রহের দুটি পার্থক্য লেখ।

উত্তর: (i) অন্তঃস্থ গ্রহগুলি (যেমন- বুধ, শুক্র) আকারে ছোট কিন্তু ঘনত্ব বেশি। (ii) বহিঃস্থ গ্রহগুলি (যেমন- বৃহস্পতি, শনি) আকারে বিশাল কিন্তু ঘনত্ব খুব কম।

৩. বামন গ্রহ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমস্ত গ্রহ নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করলেও নিজেদের কক্ষপথ থেকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না, তাদের বামন গ্রহ বলে। যেমন— প্লুটো, এরিস।

৪. কুলীন গ্রহ বলতে কী বোঝ?

উত্তর: যেসব গ্রহের যথেষ্ট ভর ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আছে এবং যারা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় নিজেদের কক্ষপথ পরিষ্কার রাখতে পারে (অর্থাৎ অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তু থাকে না), তাদের কুলীন গ্রহ বলে। যেমন— পৃথিবী, মঙ্গল।

৫. বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষাটি কী?

উত্তর: ১৮৭০ সালে আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড লেভেল খালে তিনটি সমউচ্চতার খুঁটি একই সরলরেখায় ১ মাইল অন্তর পুঁতে দেখেন যে মাঝের খুঁটিটি সামান্য উঁচুতে অবস্থিত। এটি প্রমাণ করে যে পৃথিবীর উপরিভাগ বক্র বা গোলাকার।

৬. দিগন্ত রেখা বলতে কী বোঝ?

উত্তর: কোনো বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর বা সমুদ্রের তীরে দাঁড়ালে মনে হয় দূরে আকাশ ভূমির সাথে মিশে গেছে। এই কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাকে দিগন্ত রেখা বা Horizon বলে।

৭. জিপিএস-এর দুটি ব্যবহার লেখ।

উত্তর: (i) পৃথিবীর যেকোনো স্থানের সঠিক অবস্থান (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা) নির্ণয়ে। (ii) গাড়ি, জাহাজ বা বিমান চলাচলের সঠিক পথনির্দেশনা বা নেভিগেশনে।

৮. মহাকাশচারীরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখেন?

উত্তর: মহাকাশচারীরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে একটি উজ্জ্বল নীল রঙের গোলকের মতো দেখেন। মূলত ভূপৃষ্ঠের বিশাল জলভাগের ওপর সূর্যের আলোর প্রতিফলনের কারণে এটি নীল দেখায়।

৯. আলোকবৃত্ত কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীর গোলকৃতির কারণে সূর্যের আলো অর্ধেক অংশে পড়ে এবং বাকি অর্ধেক অন্ধকার থাকে। আলোকিত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশের মাঝের বিভাজিকা বৃত্তাকার রেখাকে আলোকবৃত্ত বলে।

১০. নিরক্ষীয় স্ফীতি কেন ঘটে?

উত্তর: পৃথিবী তার অক্ষের ওপর তীব্র গতিতে আবর্তন করায় একটি কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force) তৈরি হয়। এই বলের প্রভাবেই নিরক্ষীয় অঞ্চল বাইরের দিকে স্ফীত হয়ে গেছে।

নবম শ্রেণী: ভূগোল (অধ্যায় - ১)

৩ নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. পৃথিবী কেন জীবকুলের বসবাসের আদর্শ স্থান?

উত্তর: পৃথিবী জীবকুলের জন্য আদর্শ কারণ: (i) অনুকূল উষ্ণতা: সূর্য থেকে সঠিক দূরত্বে থাকায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৫° সেলসিয়াস, যা প্রাণের অনুকূল। (ii) জলমণ্ডল: একমাত্র পৃথিবীতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল জল পাওয়া যায় যা প্রাণের ভিত্তি। (iii) বায়ুমণ্ডল: অক্সিজেনের উপস্থিতি এবং ওজোন স্তরের সুরক্ষা পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছে।

২. বামন গ্রহ ও কুলীন গ্রহের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তর: (i) কুলীন গ্রহগুলি আকারে অনেক বড় হয়, কিন্তু বামন গ্রহগুলি আকারে বেশ ছোট। (ii) কুলীন গ্রহগুলি তাদের কক্ষপথ থেকে মহাজাগতিক আবর্জনা পরিষ্কার করতে পারে, কিন্তু বামন গ্রহরা তা পারে না। (iii) কুলীন গ্রহের সংখ্যা ৮টি (যেমন- পৃথিবী), কিন্তু বামন গ্রহ ৫টি (যেমন- প্লুটো)।

৩. জিপিএস-এর গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

উত্তর: জিপিএস-এর গুরুত্ব অপরিসীম: (i) যেকোনো অজানা স্থানের সঠিক অবস্থান ও উচ্চতা জানতে সাহায্য করে। (ii) যানচলাচলে দিকনির্ণয় এবং নিখুঁত ম্যাপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। (iii) প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এবং দুর্যোগপূর্ণ সময়ে উদ্ধারকার্যে এটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

৪. এরাটোসথেনিস কীভাবে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেছিলেন?

উত্তর: গ্রিক পণ্ডিত এরাটোসথেনিস জ্যামিতিক পদ্ধতিতে পরিধি নির্ণয় করেন। তিনি লক্ষ্য করেন কর্কটসংক্রান্তির দিনে মিশরের সিয়েন শহরে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে, কিন্তু প্রায় ৮০০ কিমি দূরে আলেকজান্দ্রিয়ায় ৭.২° কোণে পড়ে। এই দূরত্বের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে তিনি পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেছিলেন প্রায় ৪৬,২৫০ কিমি (যা বর্তমানে শুদ্ধ মানের খুব কাছাকাছি)।

৫. পৃথিবীর গোলাকৃতির স্বপক্ষে তিনটি ভৌগোলিক প্রমাণ দাও।

উত্তর: (i) চন্দ্রগ্রহণ: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া গোলাকার পড়ে। (ii) জাহাজ পর্যবেক্ষণ: সমুদ্র থেকে কোনো জাহাজ তীরের দিকে আসলে প্রথমে তার মাস্তুল ও পরে পুরো জাহাজ দেখা যায়। (iii) মহাকাশচিত্র: কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে পৃথিবীকে গোল দেখায়।

৬. নক্ষত্র ও গ্রহের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখ।

উত্তর: (i) নক্ষত্রের নিজস্ব আলো ও উত্তাপ আছে, কিন্তু গ্রহের নেই। (ii) নক্ষত্রগুলি আকারে গ্রহের তুলনায় অনেক বড় হয়। (iii) নক্ষত্ররা স্থির থাকে (আপাতভাবে), কিন্তু গ্রহরা নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘোরে।

৭. পৃথিবী পৃষ্ঠে নৌকার মাস্তুল দেখার পরীক্ষাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর: কোনো পর্যবেক্ষক যদি সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে দূরে সমুদ্র থেকে ফিরে আসা কোনো জাহাজ লক্ষ্য করেন, তবে তিনি প্রথমে জাহাজের মাস্তুল, পরে ওপরের অংশ এবং শেষে সম্পূর্ণ জাহাজটি দেখতে পাবেন। পৃথিবী সমতল হলে পুরো জাহাজটি একসাথে ছোট দেখা যেত। এটি প্রমাণ করে পৃথিবীর উপরিভাগ বক্র বা গোলাকার।

৮. জিপিএস-এর তিনটি প্রধান কাজ উল্লেখ করো।

উত্তর: (i) অবস্থান নির্ণয়: পৃথিবীর যেকোনো বিন্দুর অক্ষাংশ, দ্রাঘিমা ও উচ্চতা নিখুঁতভাবে বলা। (ii) নেভিগেশন: স্থলপথ, আকাশপথ ও জলপথে পথনির্দেশনা দেওয়া। (iii) ম্যাপ তৈরি: ডিজিটাল মানচিত্র এবং সার্ভে বা জরিপ কাজে সহায়তা করা।

৯. পৃথিবীর আকৃতি যে পুরোপুরি গোল নয়—তার প্রমাণ দাও।

উত্তর: (i) পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস (১২,৭৫৭ কিমি) এবং মেরু ব্যাসের (১২,৭১৪ কিমি) মধ্যে ৪৩ কিমি পার্থক্য আছে। (ii) নিরক্ষীয় অঞ্চলে অভিকর্ষজ বলের মান মেরু অঞ্চলের তুলনায় কম, কারণ কেন্দ্র থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দূরত্ব বেশি। এই প্রমাণগুলি বলে যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়।

১০. 'নীল গ্রহ' হিসেবে পৃথিবীর বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

উত্তর: (i) পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় ৭১% জলভাগ হওয়ায় মহাকাশ থেকে একে নীল দেখায়। (ii) সূর্যের আলোর নীল তরঙ্গদৈর্ঘ্য জল ও বায়ুমণ্ডলে অধিক বিচ্ছুরিত হয়। (iii) এই জলভাগের উপস্থিতির কারণেই পৃথিবীতে জলচক্র এবং প্রাণ টিকে থাকে, যা অন্য কোনো গ্রহে দেখা যায় না।

ভূগোল গাইড: নবম শ্রেণী

প্রথম অধ্যায়: গ্রহরূপে পৃথিবী (বিভাগ - ঘ)

১. পৃথিবীর আকৃতি 'পৃথিবীর মতো' বা 'জিওড'—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ভূমিকা: প্রাচীনকালে পৃথিবীকে গোল মনে করা হলেও আধুনিক উপগ্রহ চিত্র ও গাণিতিক গণনা অনুযায়ী পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়। পৃথিবীর এই বিশেষ আকৃতিকে বলা হয় 'জিওড' (Geoid)

বিশ্লেষণ:
  • নিরক্ষীয় স্ফীতি: পৃথিবী তার অক্ষের চারদিকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আবর্তন করে। এই আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চল বাইরের দিকে স্ফীত।
  • মেরু অঞ্চল চাপা: একই কারণে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চল সামান্য বসে বা চাপা থাকে। পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস (১২,৭৫৭ কিমি) মেরু ব্যাসের (১২,৭১৪ কিমি) থেকে ৪৩ কিমি বেশি।
  • অসম বন্ধুরতা: পৃথিবীর উপরিভাগ সর্বত্র মসৃণ নয়। একদিকে যেমন মাউন্ট এভারেস্টের মতো উচ্চশৃঙ্গ (৮,৮৪৮.৮৬ মি.) আছে, অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাতের মতো গভীর গহ্বর (১১,০৩৩ মি.) আছে। এই উচ্চতা ও গভীরতার পার্থক্য প্রায় ২০ কিমি।
  • অন্যান্য বস্তুর সাথে অমিল: পৃথিবীর এই আকৃতি কমলালেবু বা নাসপাতির মতো বললেও তা পুরোপুরি সঠিক নয়। তাই বিজ্ঞানীরা বলেছেন— "পৃথিবীর আকৃতি পৃথিবীর মতোই", যাকে এককথায় জিওড বলে।

২. পৃথিবীর গোলাকৃতির স্বপক্ষে পাঁচটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণ দাও।

১. চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণ: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের উজ্জ্বল তলে পৃথিবীর যে ছায়া পড়ে তা সর্বদা বৃত্তাকার হয়। জ্যামিতিক নিয়ম অনুযায়ী কেবল গোল বস্তুর ছায়াই সব অবস্থায় বৃত্তাকার হতে পারে।
২. জাহাজ পর্যবেক্ষণ: সমুদ্রের তীর থেকে কোনো আগত জাহাজকে লক্ষ্য করলে প্রথমে তার মাস্তুল, পরে ওপরের অংশ এবং সবশেষে পুরো জাহাজটি দেখা যায়। পৃথিবী সমতল হলে পুরো জাহাজটি একসাথেই দেখা যেত।
৩. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: পৃথিবী গোলাকার বলেই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত ঘটে। পৃথিবী সমতল হলে সব জায়গায় একই সাথে সূর্য উঠত।
৪. বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষা: ১৮৭০ সালে আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস সমউচ্চতার তিনটি খুঁটি একই সরলরেখায় ১ মাইল অন্তর পুঁতে দেখেন যে মাঝের খুঁটিটি সামান্য উঁচুতে অবস্থিত, যা পৃথিবীর বক্রতা প্রমাণ করে।
৫. মহাকাশ থেকে তোলা ছবি: বর্তমানে কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশচারীদের তোলা রঙিন আলোকচিত্রে পৃথিবীকে একটি নীল বর্ণের গোলকের মতো স্পষ্ট দেখা যায়। এটিই পৃথিবীর গোলাকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ।

৩. গ্রহ হিসেবে পৃথিবীর অনন্যতা বা বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। পৃথিবীর এই অনন্যতার কারণগুলি হলো:

  • অনুকূল তাপমাত্রা: সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিমি (যা 'গোল্ডিলক জোন' নামে পরিচিত)। ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৫° সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকে, যা জীবনধারণের জন্য আদর্শ।
  • অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডল: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন আছে। এছাড়া ওজোন স্তর (O₃) ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে।
  • তরল জলের উপস্থিতি: পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭১ শতাংশ জল। তরল জলের অবিরাম সরবরাহ প্রাণীকুল ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকার প্রধান শর্ত।
  • মৃত্তিকা বা শিলামণ্ডল: পৃথিবীর ওপরের কঠিন আবরণ বা মৃত্তিকা উদ্ভিদের পুষ্টি যোগায় এবং প্রাণীদের আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে।
  • গ্রিন হাউস প্রভাবের ভারসাম্য: বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট মাত্রায় CO₂ থাকায় পৃথিবী রাতে অতিরিক্ত শীতল হয়ে যায় না।

৪. জিপিএস (GPS) সিস্টেম কীভাবে কাজ করে এবং এর ব্যবহারিক ক্ষেত্রগুলি ব্যাখ্যা করো।

কার্যপ্রণালী: GPS বা Global Positioning System মূলত মহাকাশে স্থাপিত ২৪টি কৃত্রিম উপগ্রহের একটি নেটওয়ার্ক। আমাদের হাতের স্মার্টফোন বা রিসিভার যখন অন্তত ৪টি উপগ্রহ থেকে সিগন্যাল পায়, তখন গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে ওই স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমা ও উচ্চতা নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করে।

ব্যবহারিক ক্ষেত্র:
  • যানচলাচল: গুগল ম্যাপসের মাধ্যমে সঠিক রাস্তা চেনা এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এটি অপরিহার্য।
  • উদ্ধারকার্য: কোনো জাহাজ বা বিমান নিখোঁজ হলে বা বিপদে পড়লে তার সঠিক অবস্থান জানতে জিপিএস ব্যবহার করা হয়।
  • প্রতিরক্ষা: সামরিক বাহিনীতে নিখুঁত নিশানায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং শত্রুসেনার অবস্থান বুঝতে এটি ব্যবহৃত হয়।
  • মানচিত্র প্রস্তুত: আধুনিক জরিপ বা সার্ভে কাজে নিখুঁত ডিজিটাল মানচিত্র তৈরিতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
  • অপরাধী শনাক্তকরণ: অপরাধীদের ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে তাদের ধরতে পুলিশ জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

৫. সৌরজগতের গ্রহগুলির সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

সৌরজগতের আটটি প্রধান বা কুলীন গ্রহের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো:

  • কক্ষপথ: প্রতিটি গ্রহই সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে (শুক্র ও ইউরেনাস বাদে) আবর্তন করে।
  • আবর্তন ও পরিক্রমণ: গ্রহগুলি নিজের অক্ষের ওপর ঘোরে (আবর্তন) এবং সূর্যের চারিদিকে ঘোরে (পরিক্রমণ)।
  • আলো ও উত্তাপ: গ্রহদের নিজস্ব কোনো আলো বা উত্তাপ নেই। তারা সূর্যের আলোতেই আলোকিত ও উত্তপ্ত হয়।
  • মাধ্যাকর্ষণ শক্তি: প্রতিটি গ্রহের নিজস্ব ভর ও অভিকর্ষজ বল আছে। যার ভর যত বেশি, তার আকর্ষণ শক্তিও তত বেশি।
  • উপগ্রহ: বুধ ও শুক্র বাদে প্রতিটি গ্রহেরই এক বা একাধিক প্রাকৃতিক উপগ্রহ আছে।
  • শ্রেণিবিভাগ: গ্রহগুলি মূলত দুই প্রকার— অভ্যন্তরীণ বা পার্থিব গ্রহ (বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল) এবং বাহ্যিক বা দানবীয় গ্রহ (বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন)।
 গ্রহ রূপে পৃথিবী নোটস Teach Vibes

নবম শ্রেণী: ভূগোল নোটস

অধ্যায় ১: গ্রহরূপে পৃথিবী (বড় প্রশ্নোত্তর - শেষ পর্ব)

৬. বেডফোর্ড লেভেল ও জাহাজ পর্যবেক্ষণ পরীক্ষার মাধ্যমে পৃথিবীর গোলকত্ব প্রমাণ করো।

(ক) বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষা: ১৮৭০ সালে বিজ্ঞানী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড লেভেল নামক খালে একটি পরীক্ষা করেন। তিনি সমউচ্চতার তিনটি খুঁটি একই সরলরেখায় ১ মাইল অন্তর অন্তর খালের জলে পুঁতে দেন। টেলিস্কোপ দিয়ে দেখলে দেখা যায়, মাঝের খুঁটিটি দু-প্রান্তের খুঁটির চেয়ে প্রায় ৮ ইঞ্চি উঁচুতে অবস্থান করছে। পৃথিবী সমতল হলে তিনটি খুঁটিই একই উচ্চতায় দেখা যেত। এটি প্রমাণ করে পৃথিবীর উপরিভাগ বক্র বা গোলাকার।

(খ) জাহাজ পর্যবেক্ষণ: সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে কোনো আগত জাহাজকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রথমে জাহাজের মাস্তুলের ডগা, তারপর মাস্তুলের নিচের অংশ এবং শেষে সম্পূর্ণ জাহাজটি দেখা যায়। পৃথিবী সমতল হলে সম্পূর্ণ জাহাজটি একসাথে ক্ষুদ্র বিন্দু হিসেবে দেখা যেত। এটিও পৃথিবীর গোলকত্বের অন্যতম প্রমাণ।

৭. পৃথিবীকে কেন 'নীল গ্রহ' ও 'জলজ গ্রহ' বলা হয়? বিস্তারিত বর্ণনা করো।

নীল গ্রহ বলার কারণ: পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭১% জলভাগ (সমুদ্র ও মহাসাগর)। মহাকাশ থেকে যখন সূর্যের আলো পৃথিবীর ওপর পড়ে, তখন পৃথিবীর বিশাল জলরাশি সূর্যের আলোর নীল অংশকে বেশি বিচ্ছুরিত (Scattering) করে। এই কারণে মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে উজ্জ্বল নীল রঙের গোলকের মতো দেখায়। তাই একে 'নীল গ্রহ' বলা হয়।

জলজ গ্রহ বলার কারণ: সৌরজগতের অন্য কোনো গ্রহে তরল জলের অস্তিত্ব এখনও প্রমাণিত হয়নি। পৃথিবীতে বিশাল পরিমাণ জলরাশি বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প, ভূপৃষ্ঠে নদী-সাগর এবং মেরু অঞ্চলে বরফ হিসেবে থাকে। এই বিপুল জলরাশির উপস্থিতির কারণেই একে 'জলজ গ্রহ' বা 'Watery Planet' বলা হয়। এই জলই পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার ও ভারসাম্য রক্ষা করে।

৮. জলমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও শিলামণ্ডলের গুরুত্ব গ্রহরূপে পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে লেখ।

  • শিলামণ্ডলের গুরুত্ব: পৃথিবীর কঠিন বহিঃস্তর বা শিলামণ্ডল উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের আশ্রয়স্থল। খনিজ সম্পদ ও উর্বর মৃত্তিকা এখান থেকেই পাওয়া যায় যা কৃষিকাজ ও শিল্পের প্রধান ভিত্তি।
  • বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব: বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড প্রাণীর শ্বাসকার্য ও উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির মূল উপাদান। ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগতকে রক্ষা করে।
  • জলমণ্ডলের গুরুত্ব: জলমণ্ডল তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং জলচক্রের মাধ্যমে জীবকুলের জলের চাহিদা পূরণ করে। সমুদ্রের জলভাগ বাণিজ্য ও পরিবহনে সাহায্য করে।

৯. বহিঃস্থ ও অন্তঃস্থ গ্রহের তুলনামূলক আলোচনা করো।

বৈশিষ্ট্য অন্তঃস্থ গ্রহ (পার্থিব) বহিঃস্থ গ্রহ (দানবীয়)
১. আকার আকারে ছোট হয়। আকারে অত্যন্ত বিশাল।
২. উপাদান কঠিন শিলা ও ধাতু দ্বারা গঠিত। গ্যাস ও বরফ দিয়ে তৈরি।
৩. ঘনত্ব এদের ঘনত্ব অনেক বেশি। এদের ঘনত্ব খুব কম।
৪. আবর্তন আবর্তন গতি তুলনামূলক ধীর। আবর্তন গতি অনেক দ্রুত।

১০. মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতির বিবরণ দাও।

আধুনিক মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম উপগ্রহ (যেমন- জিপিএস ও ইনস্যাট) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে নিখুঁত ধারণা পাওয়া গেছে:
  • প্রকৃত গোলক নয়: পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, এর নিরক্ষীয় অঞ্চল স্ফীত এবং মেরু অঞ্চল সামান্য চাপা।
  • ব্যাসগত পার্থক্য: উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে নিরক্ষীয় ব্যাস মেরু ব্যাস অপেক্ষা ৪৩ কিমি বড়।
  • বন্ধুরতা: মহাকাশ থেকে তোলা ছবি ও লেজার পরিমাপ অনুযায়ী পৃথিবীর উপরিভাগ উঁচু-নিচু বা বন্ধুর। হিমালয় পর্বতের উচ্চতা ও মারিয়ানা খাতের গভীরতা পৃথিবীর মসৃণতা নষ্ট করেছে।
  • জিওড: যেহেতু পৃথিবীর এই আকৃতি অন্য কোনো বস্তুর (যেমন— কমলালেবু) সাথে হুবহু মেলে না, তাই একে 'জিওড' বা পৃথিবীর সদৃশ আকৃতি বলা হয়।
লিখেছেন: টেক সঞ্জীব (SEO Expert) | উচ্চমানের শিক্ষামূলক নোটস

নবম শ্রেণী: ভূগোল (প্রথম অধ্যায়)

গ্রহরূপে পৃথিবী - ২০টি শূন্যস্থান পূরণ (উত্তরসহ)

১. পৃথিবীকে মহাকাশ থেকে _______ রঙের দেখায়।

উত্তর: নীল

২. পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় _______ কিমি।

উত্তর: ৬৪০০

৩. জিপিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো স্থানের _______ নির্ণয় করা যায়।

উত্তর: অবস্থান

৪. পৃথিবীর মেরু ব্যাস নিরক্ষীয় ব্যাসের তুলনায় _______ কিমি কম।

উত্তর: ৪৩

৫. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ হলো _______।

উত্তর: বৃহস্পতি

৬. প্লুটো একটি _______ গ্রহের উদাহরণ।

উত্তর: বামন

৭. পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি হলো _______।

উত্তর: জিওড

৮. পরিধি নির্ণয়ের জন্য এরাটোসথেনিস মিশরের সিয়েন ও _______ শহর দুটিকে বেছেছিলেন।

উত্তর: আলেকজান্দ্রিয়া

৯. পৃথিবী তার অক্ষের ওপর _______ থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে।

উত্তর: পশ্চিম

১০. শনির উপগ্রহের সংখ্যা হলো _______।

উত্তর: ১৪৬ (সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী)

১১. পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্থানের উচ্চতার পার্থক্য হলো প্রায় _______ কিমি।

উত্তর: ২০

১২. সূর্যের নিকটতম গ্রহ হলো _______।

উত্তর: বুধ

১৩. মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ হলো ডিমোস ও _______।

উত্তর: ফোবোস

১৪. দিগন্ত রেখার আকার হলো _______।

উত্তর: বৃত্তাকার

১৫. পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্ব প্রায় _______ কিমি।

উত্তর: ১৫ কোটি

১৬. পৃথিবীর কক্ষপথটি হলো _______।

উত্তর: উপবৃত্তাকার

১৭. প্রথম মহাকাশচারী ছিলেন _______।

উত্তর: ইউরি গ্যাগারিন

১৮. জিপিএস-এর নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রটি _______ দেশে অবস্থিত।

উত্তর: আমেরিকা (USA)

১৯. শুক্র গ্রহকে পৃথিবীর _______ গ্রহ বলা হয়।

উত্তর: যমজ (Twin)

২০. পৃথিবী পৃষ্ঠের মোট জলের পরিমাণ প্রায় _______ শতাংশ।

উত্তর: ৭১

অধ্যায় ১: গ্রহরূপে পৃথিবী (সম্পূর্ণ অনুশীলনী)

নবম শ্রেণী | পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)

বিভাগ - ক: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর)

১. পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি কেমন?

উত্তর: জিওড (Geoid) বা পৃথিবীর মতো।

২. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ও মেরু ব্যাসের পার্থক্য কত?

উত্তর: ৪৩ কিমি।

৩. জিপিএস (GPS)-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর: গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম।

৪. কোন্ গ্রহকে 'নীল গ্রহ' বলা হয়?

উত্তর: পৃথিবী।

৫. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ কোনটি?

উত্তর: বৃহস্পতি।

বিভাগ - খ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (২ নম্বর)

১. জিওড বলতে কী বোঝ?

উত্তর: পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, এর নিরক্ষীয় অঞ্চল স্ফীত ও মেরু অঞ্চল চাপা। পৃথিবীর এই অনন্য আকৃতি যা অন্য কোনো বস্তুর সাথে মেলে না, তাকেই 'জিওড' বলে।

২. বামন গ্রহ কাকে বলে?

উত্তর: যেসব জ্যোতিষ্ক সূর্যকে প্রদক্ষিণ করলেও নিজেদের কক্ষপথ থেকে অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না, তাদের বামন গ্রহ বলে। যেমন— প্লুটো।

৩. দিগন্ত রেখা কাকে বলে?

উত্তর: কোনো বিশাল ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ালে মনে হয় আকাশ দূরে মাটির সাথে মিশে গেছে। এই কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাকে দিগন্ত রেখা বলে।

বিভাগ - গ: ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর (৩ নম্বর)

১. পৃথিবী কেন জীবকুলের বসবাসের আদর্শ স্থান?

উত্তর: (i) সূর্য থেকে সঠিক দূরত্বে থাকায় অনুকূল উষ্ণতা। (ii) প্রাণের প্রধান উপাদান তরল জলের উপস্থিতি। (iii) অক্সিজেন ও ওজোন সমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডলের রক্ষাকবচ।

২. জিপিএস (GPS)-এর তিনটি ব্যবহার লেখ।

উত্তর: (i) যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা নির্ণয় করা। (ii) গাড়ি, জাহাজ বা বিমান চলাচলের পথনির্দেশনা দেওয়া। (iii) মানচিত্র প্রস্তুত ও প্রতিরক্ষা কাজে সহায়তা করা।

বিভাগ - ঘ: বড় প্রশ্নোত্তর (৫ নম্বর)

১. পৃথিবীর গোলাকৃতির স্বপক্ষে পাঁচটি প্রমাণ দাও।

১. চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদের ওপর পৃথিবীর গোলাকার ছায়া প্রমাণ করে পৃথিবী গোল।
২. জাহাজ পর্যবেক্ষণ: সমুদ্র থেকে জাহাজ তীরের দিকে আসলে প্রথমে মাস্তুল দেখা যায়।
৩. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: গোল আকৃতির কারণেই পৃথিবীর সর্বত্র একই সময়ে সূর্য ওঠে না।
৪. বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষা: খালের জলে ৩টি খুঁটি ১ মাইল অন্তর পুঁতলে মাঝের খুঁটিটি উঁচুতে থাকে।
৫. উপগ্রহ চিত্র: মহাকাশ থেকে তোলা ছবি পৃথিবীকে স্পষ্ট গোলক হিসেবে দেখায়।

২. জিপিএস ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে?

জিপিএস মূলত মহাকাশে স্থাপিত অন্তত ২৪টি কৃত্রিম উপগ্রহের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিস্টেম। ভূপৃষ্ঠের কোনো রিসিভার বা মোবাইল যখন অন্তত ৪টি উপগ্রহ থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করে, তখন গাণিতিক গণনার মাধ্যমে ওই বিন্দুর সঠিক অক্ষাংশ, দ্রাঘিমা ও উচ্চতা নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
© ২০২৬ টিচ ভাইস  এডুকেশন | পশ্চিমবঙ্গ নবম শ্রেণী ভূগোল নোটস 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ